Vision  ad on bangla Tribune

দ্য গার্ডিয়ান দাম্ভিকতায় নাকাল থেরেসা মে

বিদেশ ডেস্ক ১৩:৫৯ , জুন ১০ , ২০১৭

ভূমিধ্বস জয়ের আশায় যুক্তরাজ্যে আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। কিন্তু ৮ জুন ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে উল্টো পার্লামেন্টে আসন হারাতে হয়েছে তার দল কনজারভেটিভ পার্টিকে। বিপরীতে আসন বেড়েছে জেরেমি করবিন-এর নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির। অবশ্য শেষ পর্যন্ত একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্টের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত দাম্ভিকতার কারণেই ভোটের মাঠে নাকাল হতে হয়েছে থেরেসা মে-এর নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টিকে। এ বিষয়টি নিয়ে শনিবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
নির্বাচনি ফলাফলে দলীয় এমপি-দের তোপের মুখে পড়েছেন কনজারভেটিভ নেত্রী থেরেসা মে। আগাম নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত বাজে পারফরম্যান্সের ঘটনায় দলীয় এমপি ও সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। এক প্রতিবেদেনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি)সমর্থন নিশ্চিত করে সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন থেরেসা মে। এই দলটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যুক্তরাজ্যে বিতর্ক রয়েছে। ব্রেক্সিটপন্থী এই দলটি গর্ভপাতবিরোধী। এলজিবিটি-প্রশ্নেও তাদের অব্স্থান নেতিবাচক। ফলে দলটির সঙ্গে ঐক্য নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে কনজারভেটিভ পার্টিতে।

গত নির্বাচনের তুলনায় এবার জেরেমি করবিনের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রতি জনসমর্থনের ঢেউ দেখা গেছে। ব্যয় সংকোচনের মতো কিছু ইস্যুতে দলটির অবস্থান অনেক কনজারভেটিভ সমর্থকদেরও আকৃষ্ট করেছে। সে চিত্রই দেখা গেছে ভোটের মাঠে। ফলশ্রুতিতে আগের বারের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনে ব্যর্থ হয় কনজারভেটিভরা। বরং ডিইউপি-এর মতো অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত এবং বিতর্কিত একটি দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের।

নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ৬৪৯টি আসনের মধ্যে ৩২৬টি আসনে জয় প্রয়োজন। তবে ৮ জুন-এর নির্বাচনে থেরেসা মে’র দল কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩১৮টি আসন। অথচ ২০১৫ সালে ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বে দলটি পেয়েছিল ৩৩১টি আসন। বিপরীতে এবার লেবার পার্টি পেয়েছে ২৬২টি আসন। ২০১৫ সালের তুলনায় এবার ২৯টি আসন বেশি পেয়েছে দলটি। ফলে এখন ডিইউপি-এর ১০ এমপি-র সমর্থন নিয়েই সরকার পরিচালনা করতে হবে থেরেসা মে-এর সরকারকে।

এক সাক্ষাৎকারে থেরেসা মে বলেন, আমি বৃহত্তর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে চেয়েছিলাম। নির্বাচনি ফলাফল আমাদের সেই সুরক্ষা দেয়নি। যেসব প্রার্থী এবং দলীয় কর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করেও সাফল্যের মুখ দেখতে পাননি তাদের সবার কাছে আমি দুঃখিত। আমার সেসব সহকর্মীরা যারা ইতোপূর্বে এমপি-মন্ত্রী ছিলেন এবং আমাদের দেশের জন্য অবদান রেখেছেন; অথচ এবারের নির্বাচনে আসন হারিয়েছেন তাদের কাছেও আমি দুঃখিত। এভাবে আসন হারানো তাদের জন্য প্রত্যাশিত ছিল না।

এর আগে ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া ভাষণেও থেরেসা মে-এর কণ্ঠে কৈফিয়ত বা ভুল স্বীকারের বিষয়টি পরিষ্কার ছিল।

সরকার গঠন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে স্বামী ফিলিপ মে-কে বাকিংহ্যাম প্যালেসে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ-এর সঙ্গে দেখা করতে যান থেরেসা মে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে বক্তব্য রাখেন কনজারভেটিভ নেত্রী। এ সময় তিনি বলেন, তার সরকারের কাজ হবে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষণ করা।

থেরেসা মে বলেন, মহামান্য রানীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। এখন আমি একটি সরকার গঠন করবো। এমন একটি সরকার যা এই কঠিন সময়ে আমাদের দেশকে একটি নিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

জনগণকে একটি অনিশ্চয়তামুক্ত সরকার উপহার দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন থেরেসা মে। সহকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চলুন কাজে নেমে পড়ি।

/এমপি/

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x