দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বৈধ অভিবাসী কমিয়ে আনার পরিকল্পনায় সমর্থন ট্রাম্পের

বিদেশ ডেস্ক ১৯:০২ , আগস্ট ০৩ , ২০১৭

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে আনার একটি পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসীর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে। আরকানসাস এবং জর্জিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন এবং ডেভিড পারড্যু বুধবার এই বিলটি প্রস্তাব করেন। বিলটি আইনে পরিণত হলে অভিবাসী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের হার ৫০ ভাগ কমে যাবে। এ বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

বর্তমানে প্রতিবছর অন্তত ১০ লাখ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রবেশ করছেন। এ সংখ্যা কমিয়ে ৫ লাখ করা হবে। এক্ষেত্রে বিশেষ করে আত্মীয়তা সংক্রান্ত অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে। ১৯৮৮ সাল থেকে চালু ডিভি লটারি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে মার্কিন অর্থনীতিতে অবদান রাখার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা অভিবাসনের ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন। এছাড়া ভালো ইংরেজি জানা দক্ষতাসম্পন্ন মেধাবী বিদেশীদের ব্যাপারেও সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে।

বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। মার্কিন সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদে এ সংক্রান্ত বিল তোলা হলে সেটি বাধার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিলটিকে যুক্তরাষ্ট্রে খেটে খাওয়া মানুষদের স্বার্থে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প সমর্থকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন আইন যথেষ্ট আধুনিক নয়। বিদ্যমান আইন দেশটির চাকরিজীবীদের বেতনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অদক্ষ অভিবাসীদের পেছনে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ।

সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্পের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তু অদক্ষ অভিবাসীরা আমেরিকার অর্থনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি। কারণ নির্মাণ খাত, সেবা খাতসহ কম মজুরির কাজগুলো মূলত তারাই করে থাকেন। এখন সামগ্রিকভাবে মেধাভিত্তিক অভিবাসন চালু করা হলে এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক জনবল সংকট দেখা দেবে।

সিনেটর টম কটন বলেন, আমরা মূলত প্রত্যেক আমেরিকানের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সক্ষমতার ওপর জোর দিতে চাই। নতুন এ বিলটি পাস হলে প্রথম বছরেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা কমবে ৪১ শতাংশ। ১০ বছরের মধ্যে এই হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

আরেক সিনেটর ডেভিপ পারড্যু বলেন, “আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থা বর্তমান সময়ের সঙ্গে কোনওভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সহায়ক নয়। মেধাভিত্তিক অভিবাসন চালু করা হলে তা আমেরিকান কর্মী ও ট্যাক্সদাতাদের সুরক্ষা দেবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিলকে অর্ধশতকের মধ্যে আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে অভিহিত করেছেন।”

‘রেইজ অ্যাক্ট’ নামের এ বিলের একটি মৌলিক উদ্দেশ্য হচ্ছে, শুধু মেধার ভিত্তিতেই দক্ষ জনশক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের অনুমতি দেওয়া। এর বাইরে থেকে কাউকে নয়।

উল্লেখ্য, নির্বাচনি প্রচারণার সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশিদের ব্যাপারে সরব ছিলেন ট্রাম্প। বৈধ এবং অবৈধ দুই ধরনের অভিবাসীদের নিয়েই তিনি নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন। অভিবাসনবিরোধিতা উসকে দিয়ে উগ্র জাতীয়তাবাদীদের কাছে তিনি জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এমনকি অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ বন্ধে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলারও ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

/এমপি/

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x