আনাদোলু পোস্ট হত্যার দায়ে আজীবন কারাদণ্ড ‘নব্য-নাৎসিবাদী’ জার্মান নারীর

বিদেশ ডেস্ক ২২:০০ , জুলাই ১১ , ২০১৮

হত্যার দায়ে নব্য-নাৎসি বাহিনীর নারী সদস্য বিট জেস্কাপেকে আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছে জার্মানির এক আদালত। ১০টি হত্যাকাণ্ড, দুটি বোমা হামলা ও ১৫টি ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় পাঁচ বছর মামলা চলার পর বুধবার এই রায় দেওয়া হয়। এ বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার শিরোনাম করেছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু পোস্ট।

২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ১০ জনকে হত্যা করেছেন জেস্কাপে। এরমধ্যে আটজন এথনিক তুর্কি, একজন গ্রিক নাগরিক ও একজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। ২০০৫ সালে থিওদোরোস বোউলগারিডস নামে একজন গ্রিক নাগরিককে প্রথম হত্যা করা হয়। সবশেষ ২০০৭ সালে হত্যা করা হয়, জার্মান পুলিশের সদস্য মিকাইল কিয়েসবিটারকে। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয় ২০১১ সালে। ওই সময় একটি ডাকাতির ঘটনায় নাৎসিবাদের একটি চক্রের সন্ধান পাওয়ার পর এই তথ্য উঠে আসে।

জেস্কাপে নামের ওই নারী উয়েই মুন্ডলোস ও উয়েই বোহহারদত নামে দুইজন পুরুষকে নিয়ে এক ফ্ল্যাটে থাকতেন। ওই সময় তারা তিনজন মিলে ন্যাশনাল স্যোসালিস্ট আন্ডারগ্রাউন্ড-এনএসইউ নামে একটি দল গঠন করেন। এরপরই তারা খুন, ব্যাংক ডাকাতিসহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটান। হত্যাকাণ্ডে শিকার ব্যক্তিদের বেশিরভাগেই নৃত্তাত্বিকভাবে তুর্কি। তাদের বেশিরভাগকেই দিনের বেলা গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, হত্যাকারীরাও তুর্কি আর গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে জেরেই এসব হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। ওই সময় নব্য-নাৎসিবাদের খেয়াল রাখা হয়নি বরং তা উপেক্ষাই করা হয়েছে। জার্মান পুলিশ এসব হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ব্যর্থ হওয়ার পর সরকারিভাবে এর তদন্ত শুরু হয়।

২০১১ সালে জার্মান সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে একটি অস্বাভাবিক ডিভিডি পাঠানো হয়। ওই ফুটেজে নাৎসিবাদের প্রতীক গোলাপী চিতার ছবি সম্বলিত কার্টুনসহ এনএসইউ’র বার্তা জানানো হয়। সেখানে এসব হত্যাকাণ্ডসহ বোমা হামলার নিশ্চিত ফুটেজ দেখানো হয়। একই বছরের ৪ নভেম্বর আগের মতো মুন্ডলোস ও বোহনহারদত একটি ব্যাংক ডাকাতি করেন। পুলিশ ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা কারাভান গাড়ি অনুসরণ করে অভিযান চালায়। ডাকাতির পর ওই দুজন গাড়িটিতে  লুকিয়ে ছিলেন।সশস্ত্র হওয়া সত্বেও অভিযানের সময় তারা কোনও প্রতিরোধ করেননি। পরে গাড়ির ভেতরে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, তারা আগেই আত্মহত্যা করেন।

নব্য-নাৎসিবাদী ওই ত্রয়ীর দুইজনের মৃত্যুর পর নিজের বাসায় আগুন ‍ধরিয়ে দেন জেস্কাপে। আগুনে বাড়ির প্রায় সবকিছু পুড়ে গেলেও তদন্তকারীরা সেখান থেকে পিংক প্যানথার ডিভিডি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ধ্বংসাবশেষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটিও উদ্ধার করা হয়। এসবের সূত্র ধরেই কয়েকদিন পর গ্রেফতার হন জেস্কাপে। এরপরই নব্য-নাৎসিবাদী এই সংগঠনের ব্যাপারে সবাই জানতে পারে। এনএসইউ এভাবে সাত বছর ধরে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালানোর পরও গোয়েন্দা নজরদারির বাইরে থাকায় পর্যবেক্ষণের ত্রুটির বিষয়টি উঠে আসে। আর এই ঘটনার ২০১৫ সালে জার্মান সংসদের কিছু আইনের সংস্কার করা হয়। মূলত এনএসইউ’র মতো আর কোনও সংগঠনের তৎপরতা সম্পর্কে জানার জন্য আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কিছু ক্ষমতা বাড়ানো হয়।

নব্য নাৎসিবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জেস্কাপের সঙ্গে আরও চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্য রাল্ফ ওহলেবেন নামে একজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কার্টস্টেন এস নামে একজনকে অস্ত্র মজুদ রাখার দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সাহায্য করায় আন্দ্রে ই নামে একজনকে আড়াই বছর ও মুন্ডলোসকে জন্মসনদসহ অন্যান্য পরিচয়পত্র দেওয়ার অপরাধে হোলগার জি নামে একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

/এমপি/

x