Vision  ad on bangla Tribune

ঢাকার ঈদ বাজারে সৈয়দপুরের কারচুপির পোশাক!

নীলফামারী প্রতিনিধি ২০:১৪ , জুন ১৮ , ২০১৭

karchupi Pic (2)নীলফামারীর সৈয়দপুরের নারী শ্রমিকের তৈরি কারচুপির (চুমকি) পোশাক যাচ্ছে ঢাকাসহ সারাদেশের ঈদ বাজারে। তৈরি পোশাকের মধ্যে রয়েছে, কারচুপির শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি-পিস, ওড়না।

বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরে প্রায় ৩০ হাজার নারী চালিয়ে যাচ্ছেন কারচুপির এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। রোজার ছুটিতে স্কুল-কলেজের, শিক্ষার্থীরাও (মেয়ে) এ সুযোগে বাড়তি আয়ের আশায় ঝুঁকে পড়ছে কারচুপির কাজে।

শহরের উত্তরা আবাসন ঘুরে দেখা যায়, শত শত নারী, বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা কাপড়ে কারচুপি বসাচ্ছেন। বিশেষ ফ্রেম পেতে তাতে টান টান করে কাপড় বসিয়ে আপনমনে কারচুপি বসিয়ে যাচ্ছেন তারা।

কথা হয় উত্তরা আবাসন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী কোমলের সঙ্গে। সে বলে, রোজা উপলক্ষে স্কুল ছুটি। তাই বোনের সঙ্গে কারচুপির কাজ করছি। এতে বাড়তি কিছু আয় হবে। কোমলের বাবা বেঁচে নেই। তার মা বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। ঈদের কারচুপির কাজ করে ১০ হাজার টাকা আয় করবে সে। যা দিয়ে মা-ভাইবোনের জন্য কিনবে ঈদ উপহার।

একই এলাকার কারচুপি কারিগর পারভিন আক্তার বলেন, সারা বছরই কারচুপির কাজ চলে। তবে ঈদ এলে এর চাপ বেড়ে যায়। রোজার মাস। তাই স্কুল-কলেজ বন্ধ। এ সুযোগে মেয়েদেরও সঙ্গে নিয়েছি। কারচুপির কাজ করে তারাও বাড়তি আয় করবে।

উপজেলা শহরের কাজিহাট, মুন্সিপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, বাঁশবাড়ী, হাতিখানা, নতুন বাবুপাড়া, ইসলামবাগ, গোলাহাট, রসুলপুর, বার্মাসেল প্রভৃতি মহল্লার বাসা বাড়িতে চলছে পোশাক তৈরির হিড়িক।

karchupi Pic (1)

কারচুপি কারিগর রোশনি বলেন, এ কাজে সৈয়দপুরের শ্রমিকেরা দক্ষ। তাই ঢাকা থেকে প্রচুর অর্ডার মেলে। প্রতি মাসে হাজার হাজার শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি-পিসের অর্ডার আসে।

আর ঈদ এলে তো কাজের ফুরসতই থাকে না। চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণে। তিনি জানান, মহাজনেরা ঢাকা থেকে অর্ডার সংগ্রহ করে কাপড়, উপকরণ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন। তারা কেবল কারচুপির কারু কাজ করে দেন।

ঢাকার মহাজন আরমান আলী, ঢাকা থেকে ই-মেইলে অর্ডার নিয়ে পরে নকশা বুঝিয়ে দেন নারী শ্রমিকদের। ঘরে ঘরে গিয়ে দিয়ে আসেন জর্জেট বা শিফন কাপড়ের থান, বিভিন্ন রকম চুমকি, রেশমি সুতা, গাম ইত্যাদি। কাপড়ে চুমকি করতে এসব উপকরণের দরকার হয়। মহাজনের অর্ডার পেলেই শ্রমিকেরা রাত-দিন ব্যস্ত হয়ে পড়েন কারচুপির কাজে। তিনি বলেন, কাপড়ে কারচুপি বসিয়ে একজন নারী শ্রমিক দিনে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করেন।

তিনি আরও বলেন, কারচুপির উপকরণ চীন থেকে আমদানি করা হয়। আর ভারত থেকে আনা হয় কাপড়। চাহিদা বাড়লে এসব পণ্যের দামও বাড়ে। ঈদ বাজারকে সামাল দিতে কম লাভ মিললেও আমাদের শ্রমিকেরা কারচুপির কাজে ব্যস্ত থাকে।

কারচুপি সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঢাকার বড় বড় শপিং মল ও মার্কেটে সৈয়দপুরের তৈরি কারচুপির পোশাক বিক্রি হয়। বিয়ে, ঈদে এ পোশাকের অনেক চাহিদা। তিনি আরও জানান, এ সময় সৈয়দপুরের প্রায় ৩০ হাজার নারী শ্রমিক কারচুপির কাজ করে। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরাও এখন ব্যস্ত সময় পার করছে কারচুপির কাজ করে।

/এফএএন/

 

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x