বরিশালের ঈদ বাজারে শেষ মুহূর্তের ভিড়

বরিশাল প্রতিনিধি ১৯:০১ , জুন ১২ , ২০১৮

ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। শেষ সময়ে এসে মৌসুমী বৃষ্টি আর গ্রীষ্মের গরম সত্ত্বেও তাই জমজমাট হয়ে উঠেছে বরিশালের ঈদ বাজার।  

তবে প্রতিবারের মতোই ব্যবসায়ীদের দাবি; যেমনটা তারা আশা করেছিলেন, এবারের ঈদ বাজারে তেমন কেনাবেচা হয়নি ।

অবশ্য ক্রেতারা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেনাকাটায় রুচি এবং মাধ্যমের পরিবর্তন ঘটছে। এছাড়া অনেক জিনিস আগেভাগেই বিক্রি হয়ে গেছে। তাই এখন পছন্দের পোশাক খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বরিশাল নগরের কলেজ রোডের বাসিন্দা সায়লা সাদিক বলেন, প্রতিবছর গৃহকর্তার বেতন-বোনাস হাতে পাওয়ার পরে শপিং করা হয়। এ বছরও ঈদ শপিংয়ের জন্য বিভিন্ন বাজার ঘোরা হচ্ছে। কিন্তু পছন্দমতো পোশাক মিলছে না। পোশাক বাজারে বাহারি পোশাকের সংকট মনে হচ্ছে।

বরিশালে এখনও অনলাইনে বেচাকেনা ততটা জনপ্রিয় না হলেও, ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে যারা আসছেন, তারা অনেকেই অনলাইনে কেনাকাটা সেরে ফেলেছেন।

ব্যবসায়ী আবদুল্লা হারুন বললেন, ‘আগে সবাই ১৫ রমজানের পর ঈদ শপিং শুরু করতো। কিন্তু এখন মানুষ ঈদের শপিং রমজানের শুরুতেই করে ফেলেন। আর মেয়েরা রেডিমেড পোশাকের চাইতে পোশাক তৈরি করে নিতেই পছন্দ করেন বেশি। তাই রমজানের শুরু থেকে শপিং এবং ১০ রমজান থেকে দর্জিপাড়ায় ভিড় জমানোটা এখানকার রীতি।’

ফারজানা কবির নামের এক গৃহবধূ বলেন, ‘বাজারে এই মুহূর্তে মনমতো কোনও পোশাকই পাওয়া যাচ্ছে না। আগেই হয়তো সবাই কিনে ফেলেছে। তবে বাজার ঘুরে যা দেখছি, দোকানভেদে পোশাকের দরে তেমন তারতম্য নেই। কিন্তু গতবার যে পোশাক দুই হাজার টাকায় কিনেছি, এবার সেই পোশাকই বাড়তি টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে।’

রাফি নামের এক ক্রেতা বলেন, দিন যত যাচ্ছে বরিশালের তরুণ-তরুণীরা ব্র্যান্ডের শোরুমমুখী হচ্ছে। তাই বরিশালে ব্র্যান্ডের শোরুমও দিনে দিনে বাড়ছে ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে রুচিশীল ও নতুন নতুন পোশাক পাওয়া যায় এবং এখানে কাপড়ের মানও বেশ ভালো।

কলেজছাত্রী হিমি আক্তার  জানান, এখন অনলাইন শপগুলোতে বেশ ভালো মানের পোশাক পাওয়া যায়। তাই ক্রেতাদের অনেকই বিশেষ করে নারীরা অনলাইন শপগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। যদিও এর সংখ্যাটা বরিশালে এখনও বেশ কম।

নেক্সট প্লাসের প্রোপাইটর রতন চৌধুরী জানান, রমজানের শুরুর দিকে বৃষ্টির কারণে ঈদ বাজারের শুরুটা খারাপ ছিল। আর এখন প্রচণ্ড গরমের কারণে দিনের বেশিরভাগ সময়েই ক্রেতারা দোকানে আসেন না। আবার চৈত্র মাসে মূল্যহ্রাসের কারণে অনেকে আগে থেকেই কেনাকাটা করে রেখেছেন। অনেকে আবার ঢাকা কিংবা ভারতে গিয়ে কেনাকাটা করে। সব মিলিয়ে যেমনটা আশা করেছিলাম, তেমনটা বেচা-বিক্রি এখনও হয়নি।

চকবাজারের পোশাক ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম জানান, এবারে বরিশালের ঈদ বাজারে মেয়েদের জন্য লাছা, লং ফ্রক, স্কার্ট, ডিভাইডার সেট, ওয়েস্টার্ন ও লেহেঙ্গার চাহিদা রয়েছে।

অপরদিকে কাটপট্টির ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির লিংকু জানান, থ্রিপিসের কাপড়ের বাজারের বেচাবিক্রি শেষের পথে। এখন যা ভিড় তা বেশিরভাগই রেডিমেড পোশাকের দোকানগুলোতে। কারণ দর্জিবাড়ির অর্ডার নেওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
কোহিনুর সু হাউসের বিক্রয় প্রতিনিধি খালেদ সিকদার জানান, জুতার বাজারে ক্রেতারা আসেন একটু শেষের দিকে। বেশিরভাগ ক্রেতাই পোশাকের সঙ্গে মানানসই নকশা ও রং মিলিয়ে জুতা পছন্দ করছেন।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গতবারের মতো এবারও তরুণীদের মধ্যে গাউনের চাহিদা বেশ ভালো। ২ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে যাবে এ পোশাক। ১ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে বাহারি নামের সালোয়ার কামিজ। শাড়ির বাজারে কাতান, বেনারসি, সিল্ক ও তাঁতের শাড়ির বেশ কদর রয়েছে। ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে শাড়ি।

ছেলেদের পাঞ্জাবিরও রয়েছে চাহিদা। মূলত সুতি ও খাদি কাপড়ের পাঞ্জাবির কদর বেশি। বরিশালের বাজারে ১ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দরের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে ভালো মানের পাঞ্জাবি।

/এনএ/

x