ঈদ বাজার রাজবাড়ীতে তৈরি পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়

রাজবাড়ী প্রতিনিধি ১৬:২৮ , জুন ১৪ , ২০১৮

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে রাজবাড়ীর ঈদ বাজার। জেলা শহরের বিপণিবিতানগুলো থেকে শুরু করে পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মার্কেটগুলোতে বেচাকেনার ধুম পড়েছে। পছন্দসই পোশাক কেনার জন্য অভিভাবক থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীরা ছুটছেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। শেষ মুহূর্তে তৈরি পোশাকের দোকানগুলোতে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। 


এদিকে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা বিভিন্ন হকার মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন বেশি। পোশাকের পাশাপাশি কসমেটিকসের দোকাগুলোতে ভিড় করছেন তরুণীরা।

অন্যদিকে ঈদ উপলক্ষে এখন ব্যস্ততার শেষ নেই দর্জির দোকানগুলোতেও। শেষ সময়ে বেশির ভাগ দর্জির দোকানে নতুন করে কোনও অর্ডার নেওয়া হচ্ছে না।
তৈরি পোশাকের মধ্যে মেয়েদের গাউন, ওড়না, লেহেঙ্গা, পালাজো, সালোয়ার কামিজ বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। পাশাপাশি ছেলেরা ঝুঁকছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবি, ফরমাল শার্ট, টি শার্ট, ফিটিং শার্ট, নিত্যনতুন ডিজাইনের জিন্স, গেবাডিন প্যান্ট, বেল্ট, জুতা ও বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির পারফিউমের প্রতি।

মার্কেটগুলোতে দেশি পোশাকের পাশাপাশি ভারতীয় পোশাকের সমারোহ লক্ষ করা গেছে। জেলা সদর ছাড়াও চারটি উপজেলা শহর ও গ্রামগঞ্জের মার্কেটগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় এখন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের সব মার্কেট, ফ্যাশন হাউস ও বিপণিবিতানগুলো ক্রেতা সমাগমে মুখর। বাহারি পোশাক আর নতুন ডিজাইনের পোশাকের পসরা সাজিয়ে দোকানিরা ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে।

রাজবাড়ী বড় বাজারের কাদেরীয়া সুপার মার্কেটের এসবি ফ্যাশনের বিক্রয়কর্মী মোঃ আলম বলেন, গত বছর ঈদের তুলনায় এবার বেশ ভালোই বিক্রি চলছে। রমজানের শেষের দিকে ভিড় কিছুটা বেশি। তাই গভীর রাত পর্যন্ত আমরা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখছি।

আকাশ ফ্যাশনের মালিক আয়েশা বেগম বলেন, আমাদের কাছে বাংলাদেশি ও ভারতীয় পোশাক রয়েছে। তবে এবার ঈদে রাজবাড়ীতে ভারতীয় গাউন ও দোপাট্টা বেশি বিক্রি হচ্ছে। থ্রি-পিসের চাহিদা খুব একটা নেই। দুই হাজার থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামের গাউন রয়েছে। মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে এবার গাউন।

একদর নিউ ভবানী বস্ত্রালয়ের মালিক নকুল চন্দ্র সাহা বলেন, এবার ঈদটা গরমের সময়ে হচ্ছে বলে টাঙ্গাইলের তাঁতের সুতি শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। ৭০০ টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে কাতান, বেনারসি, জামদানী শাড়িও।

ঈদের কাপড় কিনতে আসা ক্রেতা রেশমি সুলতানা বলেন, প্রতিবারই ঈদে নিত্যনতুন পোশাক আসে। এবার দেখছি গাউনের চাহিদাটা একটু বেশি। দাম মোটামুটি সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। আমি একটি ভারতীয় গাউন কিনেছি দুই হাজার টাকা দিয়ে। ঈদ বাজার ঘুরে দেখলাম ভারতীয় বিভিন্ন সিরিয়াল ও ছবির নাম অনুসারেও পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।

রাজবাড়ী কাপড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক ও ব্যবসায়ী মোঃ জাকির হোসেন জানান, রাজবাড়ী শহরে ঘন ঘন লোডশেডিং ও বাজার এলাকায় যানজটের কারণে প্রচণ্ড গরমে ক্রেতাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অন্তত ঈদের এই কয়েকটি দিন লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমিয়ে আনা হলে ক্রেতারা স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারতো।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী জানান, রমজান ও ঈদকে ঘিরে বাজারে যেন সব কিছুর দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে তার জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কারও বিরুদ্ধে দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এনএ/

x