সাপে কাটলে করণীয়

সত্যজিৎ পাল ১৯:০৯ , সেপ্টেম্বর ১৩ , ২০১৮

সাপের কামড় বিষয়ে প্রথম জাতীয় জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের গ্রামে বছরে প্রতি এক লাখের মধ্যে ৬২৩ জন সাপের কামড়ের শিকার হয়। এই হিসাবে গ্রামে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৯১৯ জন সাপের কামড়ের শিকার হয়। এদের মধ্যে বছরে মারা যায় ৬ হাজার ৪১ জন। তবে আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসকের কাছে যান মাত্র ৩ শতাংশ।

গবেষকদের মতে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ প্রজাতির সাপ আছে। এর মধ্যে বিষধর সাপ রয়েছে ২২ প্রজাতির। বাংলাদেশে বিষধর সাপের মধ্যে রয়েছে চন্দ্রবোড়া, কেউটে, গোখরা, শাঁখামুঠি, শঙ্খিনী, সামুদ্রিক সাপ, লাল-ঘাড় ঢোঁড়া সাপ, সবুজ বোরা ইত্যাদি এবং এদের বিভিন্ন প্রজাতি।

সর্পদংশনের পর করণীয়:

সর্পদংশনের পর করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ একই বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এম এ ফয়েজকে উদ্ধৃত করে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান-

• সাপের কামড় আক্রান্তকে সাহস যোগাতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে ‘ভয়ের কোনও কারণ নেই, এর বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা আছে। বেশিরভাগ সাপ অবিষধর। এমনকি বিষধর সাপের পক্ষেও দংশনের সময় সর্বদা কার্যকরভাবে প্রচুর পরিমাণ বিষ ঢেলে দেওয়া সম্ভব হয় না।

• সম্ভব হলে সাপটি দেখতে কেমন তা লক্ষ্য করুন। সাপের বর্ণনা পরবর্তীকালে চিকিৎসককে চিকিৎসা পরিকল্পনায় সাহায্য করতে পারে। আর যদি সাপটিকে মেরে ফেলা হয় তবে মৃত সাপটিকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসককে দেখাতে পারেন। তবে মৃত সাপ ধরার আগে সাবধান, সাপ কিন্তু মৃতের মতো অভিনয় করতে পারে। তাই সাপটির মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কাছে যাবেননা। তবে এসব করতে গিয়ে একেবারেই সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না।

• যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দংশিত অঙ্গ থেকে আংটি, চুড়ি, তাবিজ, তাগা খুলে ফেলুন। দংশিত অঙ্গ ফুলে গেলে এগুলো খুলতে অসুবিধা হবে।

• কেবলমাত্র ভিজে কাপড় দিয়ে কিংবা জীবানুনাশক লোশন দিয়ে ক্ষতস্থান একবার মুছে নিন এবং ব্যান্ডেজ দিয়ে ক্ষতস্থান ঢেকে রাখুন।

• দংশিত অঙ্গ এমনভাবে বাঁধুন যেন বাধন অনেক বেশী শক্ত অথবা ঢিলা না হয়। মোটামুটি ভাবে ব্যাণ্ডেজের তলা দিয়ে যেন দুটি আঙ্গুল গলিয়ে দেওয়া যায় সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে।

• রোগীকে একপাশে কাত করে রাখুন।

• রোগীর যদি শ্বাস-প্রশ্বাস না থাকে, তাহলে মৌখিক বায়ু ঢোকার নল ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজন হলে কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাস সঞ্চালন করুন।

• আক্রান্ত ব্যক্তিকে যতটা সম্ভব কম নড়াচড়া করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

সাপে কাটার পর যে কাজগুলো করা যাবে না:

• দংশিত স্থানে কাটবেন না, সুঁই ফুটাবেন না, কোনও রকম প্রলেপ লাগাবেন না, রাসায়নিক পদার্থ, হারবাল ঔষধ, পাথর, বীজ, মুখের লালা, কাদা, গোবর, ইত্যাদি ব্যবহার করবেননা।

• ব্যথা উপশম করার জন্য অ্যাসপিরিন দেবেন না।

• হাসপাতালে নেওয়ার পথে রোগীর কথা বলতে অসুবিধা হলে, নাকে কথা বললে কিংবা মুখ থেকে লালা ঝরলে রোগীকে কিছু খেতে দিবেন না।

• দংশিত অংশে কোনও রকম গিঁট  দিবেন না।

বিশেষ সতর্কতা: ইতোমধ্যে যদি গিঁট প্রদান করা হয়ে থাকে তাহলে তা খুলে দিতে সময় নিন। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে, চিকিৎসক দলের উপস্থিতিতে, উজ্জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, এন্টিভেনম শুরু করে গিঁট অপসারণ করুন।

/এফএএন/

x