আনন্দ বেদনার ২০১৭

দুলাল আল মনসুর ১৪:৩৫ , ডিসেম্বর ৩১ , ২০১৭

noname

২০১৭ সাল চলে গেল। হাতের মুঠোয় চলে এসেছে অনেক প্রাপ্তি। রয়ে গেছে কিছু বাকি। আরো অনেক কিছু পাওয়া গেছে অপ্রত্যাশিতভাবেই। আর এসবের বিপরীতে হারিয়ে গেছে অনেক প্রিয় মুখ। আনন্দ বেদনার মিশেলেই জীবনের চলমানতা রয়ে যায় অব্যাহত। সামনের দিনগুলোর সোনালি অর্জন সমৃদ্ধ করবে আগামী জীবন— এই প্রত্যাশায় চলমান থাকবে সামনের পথে এগিয়ে যাওয়া। জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো সাহিত্যেও ঘটেছে অনেক স্মরণীয় ঘটনা : কিছু আনন্দের প্রাপ্তি, কিছু বেদনার বিয়োগ।  

পেছনের দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে প্রথমে দেখা যেতে পারে সাহিত্যের কতিপয় বর্ণিল আসরের চিত্র। এ বছর জানুয়ারির ১৯ তারিখ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় জয়পুর সাহিত্য উৎসব। ২০১৭ সালে এ উৎসবের এক দশক পূর্ণ হলো। বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সাহিত্য আসরগুলোর অন্যতম হলো এ আসর। এবারেও সাহিত্য আড্ডাসহ সংগীতের আয়োজনও ছিল আগের মতোই। বিভিন্ন পর্বে বক্তা হিসেবে ছিলেন হিন্দি লেখক অজয় নভরিয়া, মনজু কাপুর, মার্গো জেফারসন, মার্কোস জিরাল্ট তোরেন্তে, নিলীমা ডালমিয়া আদহার, অ্যালেক্স রস, হা-জুন চ্যাং, রয় ফস্টার, লিন্ডা কলি, জেরেমি পাক্সমান, ২০১৪ সালের ম্যান বুকার জয়ী লেখক রিচার্ড ফ্লেনাগান, নাট্যকার ডেভিড হেয়ার, বুকারজয়ী মার্কিন কথাসাহিত্যিক এলিস ওয়াকার, স্কটিশ শিল্প সমালোচক নিল ম্যাকগ্রেগর, ফার্স্ট বুক কমনওয়েলথ জয়ী লেখক তাহমিমা আনাম, কবিতায় পিইএম সেন্টার উইএসএ জয়ী কবি আনা ওয়াল্ডমান, নিরেন্দ্র কোহলি, বিক্রম চন্দ্র, রুথ প্যাডেল, রেবেকা কালাসো প্রমুখ। ২০১৭ সালের ২৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলে অক্সফোর্ড সাহিত্য উৎসব। বরাবরের মতো এবার এ উৎসবে সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের রথীমহারথীরা উপস্থিত ছিলেন। রিচার্ড ডকিন্স, অ্যালান আইকবোর্ন, কাজুও ইশিগুরো প্রমুখ আলোকিত করেন এ সাহিত্য আসর। ১৯ থেকে ২৮ মে ২০১৭ চলে বাথ সাহিত্য আসর। প্রায় একাশো ত্রিশটি অধিবেশনের আয়োজন ছিল এখানে। সালমান রুশদি, আলি স্মিথ, কম টোইবিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন এ আসরে।  ২৫ মে থেকে ৪ জুন ২০১৭ ছিল হে ফেস্টিভেলের ত্রিশতম আসর। জ্যাডি স্মিথ, মিরিয়ান গনজালেজ দুরান্তেজ, নিল জাইমান, স্ট্রিফন ফ্রাই প্রমুখ এসেছিলেন এ সাহিত্য উৎসবে। এডিনবরা আন্তর্জাতিক বই উৎসব চলে ১৩ থেকে ২৯ অগাস্ট ২০১৭। বিশ্বের বৃহত্তম এই মেলায় এসেছিলেন আটশোর অধিক লেখক-শিল্পী। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেস জ্যাকসন, জ্যাডি স্মিথ, সুসান সনটাগ, নিল জাইমান, আল গোর, নোবেলজয়ী মার্কিন কথাসাহিত্যিক টনি মরিসন প্রমুখ। বাংলাদেশের রাজধানীতে হয় ঢাকা লিস্ট ফেস্ট। প্রায় দুডজন দেশ থেকে দুশোর অধিক কবি সাহিত্যিক শিল্পী এসেছেন অংশগ্রহণ করতে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিরিয়ার কবি আলি আহমদ সাঈদ অ্যাডোনিস। তিন দিনের  এই আসরে প্রায় তিন হাজারের অধিক দর্শনার্থী আসেন লিট ফেস্টে। এ আসরের আয়োজক ছিলেন তিনজন— সাদাফ সায, আহসান আকবর এবং কাজী আনিস আহমেদ। আমেরিকার প্রকাশক ক্রিস হেইসার এ সাহিত্য আসরকে অভিহিত করেছেন পৃথিবীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাহিত্য আসরের অন্যতম বলে। এ আসরে ডিএসসি ‘প্রাইজ ফর সাউথ এশিয়ান লিটারেচার’ প্রদান করা হয়। এ পুরস্কার শুধুমাত্র দক্ষিণ এশিয়ার লেখকদের বিশ্বে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়া নয় বরং দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতেও ভূমিকা রাখছে। এ বছর পুরস্কার লাভ করেছেন শ্রীলংকান লেখক অনুক অরুদপ্রগাসম। এছাড়া এ আসরে   বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনের সবচেয়ে বড় সম্মাননা ‘জেমকন সাহিত্য পুরস্কার’ ২০১৭ ঘোষণা করা হয়। প্রবীণ কবি মোহাম্মদ রফিক তার ‘দু’টি গাথাকাব্য’ কাব্যগ্রন্থের জন্য জেমকন সাহিত্য পুরস্কার এবং যৌথভাবে আশরাফ জুয়েল ও মামুন অর রশিদ ‘তরুণ সাহিত্য পুরস্কার-২০১৭’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হয়। ‘তরুণ কবিতা’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছেন তরুণ কবি নুসরাত নুসিন। ‘দীর্ঘ স্বরের অনুপ্রাস’ কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপির জন্য তিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন।

যেকোনো ভালো কাজের স্বীকৃতি সে কাজের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সাহিত্যের বেলাতেও একই সত্য প্রযোজ্য। ২০১৭ সালে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন অনেক কবি সাহিত্যিক। এখানে মাত্র কয়েকটি পুস্কারের কথা উল্লেখ করা হলো। এপ্রিল মাসের ১০ তারিখে এবারের পুলিৎজার পুরস্কার দেওয়া হয়। কবিতা নাটক এবং কথাসাহিত্যে— সাহিত্যের এই তিন শাখায় পুরস্কার পেয়েছেন যথাক্রমে  তায়েহিমবা জেস, লিন নোটেজ এবং কোলসন হোয়াইটহেড। কবিতায় মার্কিন কবি তায়েহিমবা জেস পুলিৎজার পুরস্কার পান তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ওলাইও’র জন্য। আমেরিকার গৃহযুদ্ধ আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মাঝের সময়ের আফ্রিকান-আমেরিকান শিল্পীদের সম্পর্কে লেখা। এ বছর নাটকের পুলিৎজার পেয়েছেন লিন নোটেজ; তিনি দ্বিতীয়বারের মতো পেলেন এ পুরস্কার। ২০০৯ সালে পেয়েছিলেন তাঁর নাটক ‘রুইনড’-এর জন্য। তাঁর এবারের পুলিৎজার পাওয়া নাটকটির নাম ‘সোয়েট’। নাটকটির পটভূমিতে আনা হয়েছে শিল্পসংকোচনের শিকার হওয়া এক শহর। আর এবার কথাসাহিত্যে পুলিৎজারজয়ী কোলসন হোয়াইটহেডের পুরস্কারপ্রাপ্ত উপন্যাসের নাম ‘দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেইলরড’। এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোরা গালিভারের মতো একের পর এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলতে থাকে। আফ্রিকা থেকে আমেরিকায় আসার সেই শুরু থেকে বর্তমান সময়ের কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনের কষ্টের কথা বলা হয়েছে এখানে।

১৪ জুন দেওয়া হয় ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার। এ বছর ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার পেয়েছে ইসরাইলি লেখক ডেভিড গ্রসমানের উপন্যাস ‘এ হর্স ওয়াকস ইনটু আ  বার’। প্রথম ইসরাইলি লেখক হিসেবে গ্রসমান পেলেন এ পুরস্কার। মূল হিব্রুতে লেখা এ উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন জেসিকা কোহেন। কোহেনের জন্ম ইংল্যান্ডে, বড় হয়েছেন ইসরাইলে এবং বসবাস করেন ডেনভারে। তিনি গ্রসমানসহ আরো কয়েকজন ইসরাইলি লেখক কবির সাহিত্য অনুবাদ করেছেন। ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কারের নিয়মানুযায়ী পুরস্কারের অর্ধেক সম্মানী পাবেন মূল লেখক ডেভিড গ্রসমান এবং অর্ধেক পাবেন অনুবাদক জেসিকা কোহেন।

১০ অক্টোবর হ্যারল্ড পিন্টারের জন্মদিনে উত্তর আয়ারল্যান্ডের কবি মাইকেল লংলি পেয়েছেন এবারের পিইএন পিন্টার পুরস্কার। আইরিশ কবিতার বিশ শতকের প্রভাবশালী কবিদের অন্যতম মাইকেল লংলি। মাইকেল লংলি সম্পর্কে সিমাস হিনি বলেছেন, তিনি হলেন দুঃখ আর বিস্ময়ের রক্ষাকর্তা। মাইকেল লংলি ছোটবেলা থেকে হ্যারল্ড পিন্টারের নাটকের ভক্ত। আর এবার তিনি পেয়ে গেলেন পিন্টারের নামের পুরস্কারটিই। পিইএন পিন্টার পুরস্কার দেয়া হয় প্রতি বছর ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড কিংবা কমনওয়েলথের কোনো লেখককে যার লেখায় জীবন ও সমাজ সম্পর্কে নিঃশঙ্ক ও অবিচল মননের প্রকাশ থাকে।

‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’ উপন্যাসের জন্য ২০১৭ সালের ম্যান বুকার পুরস্কার পেলেন আমেরিকার ছোটগল্পকার, শিশুসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক জর্জ সন্ডার্স। ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’ তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হলেও লেখক হিসেবে তিনি নতুন নন। তাঁর ছোটগল্প সংকলন ও উপন্যাসিকা তাঁর পরিপক্ক হাতের প্রমাণ রেখেছে বহুবার। ‘সিভিল ওয়ার ল্যান্ড ইন ব্যাড টাইম’, ‘প্যাস্টরালিয়া’, ‘দ্য ভেরি পারসিস্টটেন্ট গ্যাপারস অব ফ্রিপ’, ‘আ টু মিনিট নোট টু দ্য ফিউচার’ তাঁর ছোটগল্প ও উপন্যাসিকার অন্যতম। জর্জ সন্ডার্সে র জন্ম ১৯৫৮ সালে আমেরিকার টেক্সাসে। বড় হয়েছেন শিকাগোতে। সেরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জর্জ সন্ডার্স ন্যাশনাল ম্যাগাজিন পুরস্কার, ও’হেনরি পুরস্কার, পিইএন হেমিংওয়ে পুরস্কারসহ আরো অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।  এবারের বুকার পাওয়া উপন্যাসে সন্ডার্স প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের পুত্র উইলি লিংকনের মৃত্যু এবং প্রেসিডেন্টের শোকের ঘটনা তুলে ধরেছেন।

এখন পর্যন্ত সাহিত্যের সবচেয়ে বড় পুরস্কার নোবেল। এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন ব্রিটিশ কথাসাহিত্যিক কাজুও ইশিগুরো। তাঁর জন্ম ১৯৫৪ সালে জাপানে। পাঁচ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে পাড়ি জমান ব্রিটেনে। নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগে পাঠক-বোদ্ধাদের মাঝে জল্পনা কল্পনার কমতি ছিল না। কেউ কেউ সিরিয়াস লেখাকে প্রাধান্য দিয়েছেন তাদের পছন্দের সম্ভাব্য লেখক বাছাইয়ের কাজে। অনেকেই জনপ্রিয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে জনপ্রিয় লেখকদেরকে সম্ভাবনার মধ্যে রেখেছিলেন। এদিক বিবেচনা করলে, ইশিগুরোর পুরস্কার পাওয়াটা সিরিয়াস এবং নিরীক্ষাধর্মী কথাসাহিত্য লেখার জন্য হয়েছে। কথাসাহিত্য রচনা করার সঙ্গে তিনি অবশ্য গান লিখেছেন, চিত্রনাট্যও লিখেছেন। তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তুর মধ্যে বিশেষভাবে চোখে পড়ে স্মৃতি, সময়, আত্ম-প্রবঞ্চনা ইত্যাদি। তাঁর আন্তর্জাতিক খ্যাতি আসে প্রধানত তাঁর উপন্যাস ‘দ্য রিমেইনস অব দ্য ডে’ প্রকাশের পর।   

বড় বড় লেখক সমালোচক বোদ্ধা থেকে শুরু করে সাধারণ পাঠকদের কাছেও সাহিত্য বিষয়ক আনন্দের খবর হলো নতুন বই প্রকাশের খবর।  ২০১৭ সালে অফুরন্ত আনন্দ-সম্ভার নিয়ে প্রকাশ হয়েছে অনেক বই। মাত্র কয়েকটির খোঁজখবর এখানে তুলে ধরা হলো। এ বছর জানুয়ারি মাসে আমেরিকার কথাসাহিত্যিক পল অস্টার প্রকাশ করেন তাঁর উপন্যাস ‘৪৩২১’। প্রকাশক হেনরি হল্ট অ্যান্ড কোম্পানি। দীর্ঘ তিন বছর খরচ করেছেন এ উপন্যাস লেখার পেছনে। ৮৬৬ পৃষ্ঠার এ উপন্যাসটি তাঁর আগের সব বইয়ের চেয়েই দীর্ঘতর। উল্লেখ্য, এ উপন্যাসটি ম্যান বুকারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও ছিল। এ বছরের অক্টোবরের ৩ তারিখে প্রকাশ হয়েছে ড্যান ব্রাউনের সায়েন্স ফিকশন ‘অরিজিন’। প্রকাশ করেছে ডাবলডে প্রকাশনা। জুনের ৫ তারিখে প্রকাশ করা হয় ইংরেজ কবি হেলেন ডানমোরের কাব্যগ্রন্থ ‘ইনসাইড দ্য ওয়েভ’। প্রকাশক ব্লাডএক্স বুকস লি.। পেঙ্গুইন থেকে প্রকাশ করা হয়েছে আলিফ শাফাকের উপন্যাস ‘থ্রি ডটারস অব ইভ’। জেনিফার এগান এবার প্রকাশ করেছেন উপন্যাস ‘ম্যানহ্যাটান বিচ’। তাঁর এ উপন্যাসের প্রকাশক চার্লস স্ক্রিবনারস সান্স। হার্পার কলিন্স প্রকাশ করেছে নিকোল ক্রসের উপন্যাস ‘ফরেস্ট ডেইজ’। বারাক ওবামার নির্বাচন প্রাক্কালীন ইতিহাসের ওপর ‘দ্য গোল্ডেন হাউস’ নামের উপন্যাস লিখেছেন সালমান রুশদি। এ বছর তাঁর এ উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে র‍্যান্ডম হাউস। ২০১৪ সালে হারুকি মুরাকামির মাতৃভাষায় প্রকাশিত গল্প সংকলন এ বছর ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশ করেন; নাম ‘মেন উইদাউট উইমিন’। ১৯৯৭ সালে প্রথম উপন্যাস প্রকাশ করে বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলেছিলেন অরুন্ধতী রায়। এরপর প্রবন্ধের বই পকাশ করেছেন। বিশ বছর পরে ২০১৭ সালে প্রকাশ করেন তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’। প্রকাশক হ্যামিশ হ্যামিল্টন। মার্কিন কথাসাহিত্যিক জোসুয়া ফেরিস এ বছর প্রকাশ করেছেন তাঁর গল্প সংকলন ‘দ্য ডিনার পার্টি অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’। প্রকাশক লিটল ব্রাউন অ্যান্ড কোম্পানি।  

নশ্বর জীবন থেকে চলে গেলেও মহান লেখকরা অমর হয়ে থাকেন তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে। পরবর্তী প্রজন্মগুলো তাঁদেরকে নানাভাবে স্মরণ করার চেষ্টা করে। এ বছর জুনের ১২ তারিখে ছিল আমেরিকার কথাসাহিত্যিক হেনরি ডেভিড থোরুর দ্বিশততম জন্মদিন। জুলাইয়ের ১৮ তারিখ ছিল ইংরেজ কথাসাহিত্যিক জেন অস্টিনের দ্বিশততম মৃত্যুবার্ষিকী। নভেম্বরের ৩০ তারিখ ছিল আইরিশ লেখক জনাথন সুইফটের তিনশো পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিকী। ২৭ ডিসেম্বর পালিত হলো বাংলা সাহিত্যের সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম মুত্যু বার্ষিকী। টেলিভিশন, মঞ্চ এবং পত্রপত্রিকায় বিশেষ আয়োজন ছিল তাঁকে স্মরণ করে। 

২০১৭ সালে সাহিত্য জগত থেকে বিদায় নিয়েছেন অনেকেই। তাঁদের মধ্যে সামান্য কয়েকজনের কথা উল্লেখ করা হলো এখানে। এ বছর জানুয়ারির ১৮ তারিখে মারা যান দক্ষিণ কোরিয়ার কথাসাহিত্যিক জাং মিকিউং। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ছাপ্পান্ন বছর। জানুয়ারির ২৫ তারিখে ৮৭ বছর বয়সে মারা যান আমেরিকার কবি কথাসাহিত্যক ও অনুবাদক হ্যারি ম্যাথিউস। জানুয়ারি মাসের ৪ তারিখে মুত্যুবরণ করেন স্প্যানিস কথাসাহিত্যিক হুয়ান গয়তিসোলো। একবিংশ শতকের শুরুতে তাঁকে মনে করা হতো স্পেনের মহত্তম জীবিত লেখক। ১৭ মার্চ সেন্ট লুসিয়ার নোবেলজয়ী কবি, প্রবন্ধকার, নাট্যকার ও চিত্রকর ডেরেক ওয়ালকট চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তাঁর জন্ম ১৯৩০ সালের ২৩ জানুয়ারি। ওয়ালকটের পরিবারের শিকড় আফ্রিকা আর ইরোপের দুটো জগতে বিস্তৃত। এপ্রিলের ১ তারিখে মারা যান রাশিয়ার কবি কথাসাহিত্যিক ইয়েভগেনি ইয়েভতুশেনকো। শিল্প সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ। ২৪ মে মারা যান আমেরিকার কবি  কথাসাহিত্যিক ডেনিস জনসন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। জুনের ৫ তারিখে পরলোকগমন করেন ইংরেজ কবি ঔপন্যাসিক শিশুসাহিত্যিক হেলেন ডানমোর। সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখে মারা যান ১৯৭৬ সালে পুলিৎজারজয়ী মার্কিন কবি জন অ্যাশবেরি। তাঁর বয়স হয়েছিল নব্বই বছর। ডিসেম্বরের ২ তারিখে ৬১ বছর বয়সে মারা যান মিশরের ঔপন্যাসিক ছোটগল্পকার মেক্কাউই সাইদ। আমেরিকার আরেক কবি ডিক অ্যালেন মারা যান ডিসেম্বরের ২৬ তারিখে। চলে যাওয়া বছরের মতোই তাঁরাও চলে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে বিদায়ী সময়ের স্মৃতির সঙ্গে একাত্ব হয়ে তাঁরাও রয়ে যাবেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভালোবাসার মানুষদের হৃদয়ে। 

 

//জেডএস//

x