ভালো লেখা অপ্রকাশিত থাকছে না : মফিদুল হক

. ১৫:২১ , ফেব্রুয়ারি ০৭ , ২০১৮

মফিদুল হকবাংলাদেশের সুপ্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা সংস্থা ‘সাহিত্য প্রকাশ’-এর পরিচালক মফিদুল হক। যিনি একাধারে লেখক, গবেষক, সংগঠক এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি। অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বাংলা ট্রিবিউন সাহিত্য বিভাগের লিখিত প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি। বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই লেখকের জবাবে উঠে এসেছে প্রকাশক সমিতির দায়-দায়িত্ব, মুদ্রণ, সরকারি ক্রয়নীতি সহ নানাবিধ বিষয়।

বাংলা ট্রিবিউন : কাগজের দাম বেশি। বইয়ের দামের ওপর শেষ পর্যন্ত পাঠককেই বিপুল পরিমাণ কর দিতে হয়। এটা কি বইয়ের বাজারকে সংকুচিত করছে? এ নিয়ে প্রকাশকদের কোনো সমন্বিত ভাবনা দেখি না কেন?

মফিদুল হক : কাগজের দামের চাইতেও বড় সমস্যা মূল্যের ওঠানামা। বিশেষভাবে প্রকাশনার মওসুমে কাগজের মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিশেষ করণীয় রয়েছে।

 

বাংলা ট্রিবিউন : গ্রন্থাগারগুলো সমকালীন প্রকাশনার বৈচিত্রের প্রতিনিধিত্ব করছে না। এই বিষয়ে প্রকাশকরা কতটুকু উদ্বিগ্ন?

মফিদুল হক : সরকারি-বেসরকারি গ্রন্থাগারের বরাদ্দ-বৃদ্ধি, গ্রন্থসংগ্রহের নীতিমালার উন্নয়ন, পাঠাভ্যাস প্রসার ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি সমন্বিত প্রস্তাব প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের এক্ষেত্রে বড় দায়িত্ব রয়েছে। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর এখন উপজেলা পর্যায়ে সরকারি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করছে। এমনি সময়ে বই সংগ্রহ বাবদ বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন ও অনুসরণ অধিকতর গুরুত্ব অর্জন করেছে।

 

বাংলা ট্রিবিউন : সরকারি নানান ক্রয়ে বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রয়ে কোনো সমন্বিত নীতিমালার বদলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও দুর্নীতিই একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে­ এমন অভিযোগ শোনা যায়। একটা সুষ্ঠু ক্রয়নীতি কি করা সম্ভব?

মফিদুল হক : সুষ্ঠু ক্রয়নীতির পথে নানা বাধা আছে। কেন্দ্রীয়ভাবে বই নির্বাচন ও সরবরাহের পাশাপাশি গ্রন্থাগারগুলোকে তহবিল প্রদান ও ক্রয়ের অধিকার দিতে হবে। পাঠকের চাহিদা পূরণ ও অধিকারের স্বীকৃতি দেয়াও গুরুত্ব বহন করে। বর্তমানে যে ক্রয়নীতি রয়েছে সেখানে ভালো বই ক্রয়ের অবকাশ আছে, তবে এর উন্নয়ন জরুরি। সেই সাথে বই নির্বাচনে বাইরের হস্তক্ষেপ বন্ধের জন্য উপযুক্ত নীতি প্রয়োজন।

 

বাংলা ট্রিবিউন : বইয়ের দাম কম না বেশি বাংলাদেশে?

মফিদুল হক : বইয়ের দাম যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রয়েছে।

 

বাংলা ট্রিবিউন : লেখকরা প্রায়ই বলেন যে, বইয়ের ভাবনা নিয়ে তারাই যান প্রকাশকদের কাছে। প্রকাশকরা খুব কমই তাদেরকে কোনো গ্রন্থের জন্য পরিকল্পনা দেন। বিশেষ করে তরুণ এবং সৃজনশীল লেখকদের খুঁজে বার করার কাজটি কতটুকু করছেন প্রকাশকরা?

মফিদুল হক : বাংলাদেশে মানসম্মত লেখা নিয়ে কাউকে প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় না। ভালো লেখা প্রকাশের নানা সুযোগ রয়েছে। পত্র-পত্রিকার আধিক্য, বিশেষ সংখ্যা, সাহিত্য সাময়িকী, লিটল ম্যাগাজিন কতভাবেই তো লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। সেসব লেখা থেকে প্রকাশকের বাছাই করবার সুযোগ রয়েছে। ব্লগেও লেখালেখি হচ্ছে। তাই ভালো লেখা এখন আর অপ্রকাশিত থাকছে না।

 

বাংলা ট্রিবিউন : বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের আকার যতটুকু বেড়েছে, তার সাথে তুলনা করলে বইয়ের বাজার কতখানি অগ্রসর হয়েছে?

মফিদুল হক : শিক্ষার প্রসার ও আর্থিক ক্ষমতাবৃদ্ধির হারের সাথে মিলে পাঠকবৃদ্ধি বিশেষ ঘটেনি।

 

বাংলা ট্রিবিউন : প্রবন্ধের বইয়ে এখনো ৬০ দশকের একটা আধিপত্য আমরা দেখি। ৭০ দশকের কয়েকজন মাত্র। ৮০ ও ৯০ দশকের এমন প্রাবন্ধিকের সংখ্যা বেশ কম। এটা কি চিন্তার দারিদ্র্য নাকি প্রকাশকদের পরিচিত লেখকদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়ার ফল? নাকি উভবিধ?

মফিদুল হক : প্রবন্ধ-রচনার জন্য অনেক শ্রম ও ভাবনা প্রয়োজন। আমরা ক্রমেই চটজলদি ফলাফল অর্জনে আগ্রহী হচ্ছি। তাই আরো অনেক প্রাবন্ধিক গবেষকের আগমন একান্তভাবে কাম্য।

 

বাংলা ট্রিবিউন : লেখকরা যথাযথ মর্যাদা পান না, সম্মানী নিয়ে টানাহ্যাঁচড়ার অভিযোগ অজস্র। অল্প কজন বাদ দিলে প্রকাশকরা কি তাদের পরিশ্রমের তুলনায় যথেষ্ট ভালো মুনাফা করেন এই দেশে?

মফিদুল হক : বর্তমান সময়ে মানসম্মত পাণ্ডুলিপির কদর রয়েছে। নবীন লেখকদের ক্ষেত্রেও তা প্রয়োজ্য।

 

বাংলা ট্রিবিউন : গ্রন্থনীতি বাস্তবায়নের দায় তো প্রকাশকদেরই। তারা কতদূর করছেন কাজটা?

মফিদুল হক : গ্রন্থনীতি রয়েছে, তবে মূল সমস্যা এর বাস্তবায়নে।

 

//জেড-এস//

x