নাম প্রত্যাহারের আবেদন মুরাকামির নোবেলের পরিবর্তে ‘নিউ একাডেমি প্রাইজ’

সাহিত্য ডেস্ক ১৬:২৫ , অক্টোবর ০৬ , ২০১৮

যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে এবছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার স্তগিদ করা হলেও এর বিকল্প হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে ‘নিউ একাডেমি প্রাইজ’।

শুধুমাত্র এ বছরের জন্য এই পুরস্কারের আয়োজন করছে সুইডেনের প্রায় শতাধিক লেখক, অভিনয়শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘নিউ একাডেমি’। এই দিক থেকে বলা যায় এটি জনগণের পক্ষ থেকে দেয়া পুরস্কার।

তবে এ পুরস্কারের শর্ট লিস্টে স্থান পাবার পর সেখান থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন বিখ্যাত জাপানী লেখক হারুকি মুরাকামি।

চলতি বছরের মে মাসে সুইডিস একাডেমি সাহিত্যে নোবেল না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলো।

‘নিউ একাডেমি প্রাইজ’-এর বিজয়ী নির্বাচন আর নোবেল পুরস্কারের বিজয়ী নির্বাচনের মধ্যে বেশ তফাৎ রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ‘নিউ একাডেমি’ থেকে লেখক মনোনয়ন করার জন্য সুইডেনের সকল গ্রন্থাগারকে বলা হয়। বিশ্বের যে কোন স্থানের লেখক মনোনয়ন পেতে পারেন—তবে শর্ত হলো, তাদের কমপক্ষে দুটি প্রকাশিত বই থাকতে হবে যার মধ্যে একটি গত ১০ বছরে প্রকাশিত হয়েছে।

একাডেমি থেকে আরো বলা হয়—এমন একজনকে মনোনয়ন দিতে হবে, যার লেখায় মানুষের কথা প্রতিফলিত হয়েছে। আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছানুসারে লেখা ও লেখককে সম্মানিত করার উদ্দেশ্যে ‘নিউ একাডেমি’ এমন একজন লেখকের সন্ধান করছে।

প্রথম পর্যায়ে সুইডিশ বিভিন্ন গ্রন্থাগার থেকে প্রস্তাবিত নাম বাছাই করে সারাবিশ্বের পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর পাঠকদের ভোটেই নির্বাচিন করা হয় চারজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা। প্রাথমিক তালিকায় ছিলেন তিন কানাডীয় নারী লেখক মার্গারেট অ্যাটউড, অ্যান কারসন এবং কিম থুয়ে, ভারতের অরুন্ধতী রায়, জাপানের হারুকি মুরাকামি, কেনিয়ার নগুগি ওয়া থিয়ংগো সহ যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১৩ ও সুইডেনের ১২ জন লেখক।

দ্বিতীয় ধাপে পাঠকদের ভোটে সংক্ষিপ্ত তালিকায় যারা স্থান পেয়েছেন, তারা হলেন— ফ্রান্সের জনপ্রিয় লেখক ও বিখ্যাত সেগু উপন্যাসের লেখক ম্যারিস কোনডে, ব্রিটিশ লেখক নীল গাইমান, ভিয়েতনামে জন্মগ্রহণকারী কানাডিয়ান লেখক কিম থুয়ে এবং জাপানের হারুকি মুরাকামি।

কিন্তু সংক্ষিপ্ত তালিকা ঘোষিত হওয়ার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর মুরাকামি নিউ একাডেমিকে তার নাম প্রত্যাহারের আবেদন জানান। যে কারণে সংক্ষিপ্ত তালিকায় বর্তমানে রয়েছেন তিনজন— কোনডে, গাইমান ও কিম থুয়ে।

নাম প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে মুরাকামি বলেছেন, ‘সাহিত্যের নোবেলের বিকল্প হিসেবে নিউ একাডেমি প্রাইজকে আমি সমর্থন করছি না। এছাড়া মিডিয়ার মনযোগ থেকে দূরে থেকে আমার লেখাতেই বেশি মনোনিবেশ করতে চাই।’  

আগামী ১২ অক্টোবর ‘নিউ একাডেমি প্রাইজ’ বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। আর পুরস্কারটি প্রদান করা হবে চলতি বছরের ১১ ডিসেম্বর। সেদিনের পরপরই বিলুপ্ত হবে ‘নিউ একাডমি’ নামের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি। তবে, ২০১৯ সালে একইসাথে সুইডিশ একাডেমি ঘোষণা করবে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম।

প্রসঙ্গত, এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার না দেওয়া এবং সুইডিস একাডেমির সংকটের মূল হোতা ফরাসি আলোকচিত্রী জাঁ ক্লোদ অ্যারানাল্ট। চলতি বছরের শুরুর দিকে সুইডিশ একাডেমি থেকে পদত্যাগ করা ছয় সদস্যের একজন কবি ক্যাটরিনা

ফ্রসটেনসনের স্বামী তিনি। তার বিরুদ্ধে একাডেমির কর্মকর্তা, সদস্যদের আত্মীয়সহ একাধিকজনকে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে।

অ্যারানাল্টের বিরুদ্ধে এই যৌন নিপীড়নের খবর প্রথম প্রকাশ করে সুইডেনের একটি সংবাদপত্র। এ পদত্যাগের ঢলে ২৩০ বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।

সুইডিশ একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার চালুর পর থেকে এ পুরস্কার ঘিরে এটাই সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি। যে কারণে জনমনে আস্থার ঘাটতি থেকেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অবশ্য একাডেমির কয়েকজন সদস্য যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ঐতিহ্য ধরে রাখা উচিত ছিল। কিন্তু অন্যদের মত হচ্ছে— একাডেমি পুরস্কার দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।

অভিযোগ প্রকাশের পর একাডেমির স্থায়ী সেক্রেটারি সারা ডানিয়াস বলেন, অ্যারানাল্টের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে। একাডেমির স্টাফ ও সদস্যদের আত্মীয়রাও অ্যারানাল্টের ‘অনিচ্ছাকৃত অন্তরঙ্গতা’র শিকার হন।

//জেডএস//

x