গুয়ানতানামো কারাগারে নিষিদ্ধ বই

সাহিত্য ডেস্ক ১৭:২৬ , অক্টোবর ০৭ , ২০১৮

কিউবার সমুদ্রতটে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত কারাগার হলো ‘গুয়ানতানামো বে কারাগার’। শোনা যায় এখানে অনেকেই কোন বিচার ছাড়া বন্দী আছেন। কখনো আবার এখানকার বন্দীদের নির্যাতনের খবরও পাওয়া যায়।

কারাগারের অন্য সকল কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এখানে ১৮টি ভাষার প্রায় বিশ হাজার বই নিয়ে একটি লাইব্রেরি আছে। অবশ্য এই লাইব্রেরিতে সব ধরনের বই রাখা আর পাঠের অনুমতি নেই। কারাগারের দুইজন কর্মকর্তা রয়েছেন যারা শুধুমাত্র অনুমতি দিলেই ঐ লাইব্রেরীতে কোন বই অবস্থানের যোগ্যতা অর্জন করে। বন্দীরা বই পাঠ করতে চাইলে তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।

চরমপন্থাকে উস্কে দেয়, ধর্ম বিষয়ক বই, জাতিভেদ ও সাংস্কৃতিক ঘৃণা সৃষ্টি করে এমন বই, সামরিক বিষয়ের উপর লেখা বা ভৌগোলিক ব্যাখ্যা সম্বলিত বই এবং যৌনতা সংশ্লিষ্ট বইগুলো এই লাইব্রেরিতে পড়তে দেয়া হয় না। এক কথায় এগুলো নিষিদ্ধ। 

এই লাইব্রেরির সবথেকে জনপ্রিয় লেখক হচ্ছেন ‘জে কে রাওলিং’ এবং ‘জে আর আর টোলকেইন’। অবশ্য পৃথিবীর যে কোন লাইব্রেরিতেই তাদের অবাধ অবস্থান রয়েছে। 

জর্জ অরওলের ‘অ্যানিম্যাল ফার্ম’, কাফকার ‘দ্য ট্রাইল’-ও পাওয়া যায় এখানে; কিন্তু পরিস্থিতি ও পাঠকের উপর নির্ভর করে কখনো কখনো এই বইও পড়তে দেওয়া হয়না।

সম্প্রতি দ্য বৃটিশ লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত এলেক্স জনসনের ‘এ বুক অফ বুক লিস্টস’-এ তিনি গুয়ানতানামো বে কারাগারের লাইব্রেরিতে যেসব বই নিষিদ্ধ তার একটি তালিকা করেছেন। এই তালিকায় রয়েছে ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত মার্টিন এমিসের উপন্যাস ‘মানি’, রিচার্ড বেকেটের ব্যঙ্গকৌতুকের বই ‘দ্য নিউ ডিনকাম অজি ডিকশোনারি’, লর্ড থমাস বিংহ্যামের আইন বিষয়ক বই ‘দ্য রুল অফ ল’, রাসেল ব্রান্ডের ‘বুকি উক টু’, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে লেখা ইংলিশ কবি উইলফ্রেড ওয়েনের কবিতা ‘ফুটিলিটি’, শেক্সপিয়রের বিখ্যাত নাটক ‘দ্য মার্চেন্ট অফ ভ্যানিস’, নিরাপরাধীদের আইনি সহায়তা দেয়া বিখ্যাত ব্যক্তি ক্লিভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথের ‘ইনজাস্টিস’, ‘ব্যাড মেন’, ফ্রেন্স লেখক শার্ল পেরোর রূপকথার কাহিনী ‘পুস ইন বুটস’, গ্যাব্রিয়েলে-সুজানে দে ভিলনেভার রূপকথার কাহিনী ‘বিউটি এন্ড দ্য বিস্ট’-সহ ‘সিন্ডারেলা’, জ্যাক এন্ড দ্য বীনস্টক’-এর মতো রূপকথার উপন্যাসগুলোও এই লাইব্রেরীতে নিষিদ্ধ। এমনকি নিষিদ্ধ ‘পবিত্র বাইবেল’ও

এই বইগুলোর সাথে আরো অনেক বই আছে যেগুলো গুয়ান্তানামো বে কারাগারে সম্প্রতি নিষিদ্ধ করা  হয়েছে। এবং খুব শীঘ্রই আরো কিছু বই এই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। কারণ এই কারাগারের পরিচালকেরা চায় না এমন কোন কিছু বন্দীদের হাতে পৌঁছাক যেগুলো বন্দীদের ইংরেজি ভাষা শিখতে সাহায্য করবে, কিনবা বিপ্লবী করে তুলবে। ইন্ডিপেনডেন্ট

//জেডএস//

x