বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে স্বাধীন ভাষা তৈরি হয়েছে : ফজলে এলাহী

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : শম্পা হাসান ০৮:০০ , আগস্ট ০২ , ২০১৯

এখন যারা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে লেখালেখি করেন তাদের মধ্যে মুভি ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে ফজলে এলাহী অন্যতম। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড সঙ্গীত নিয়েও লিখেছেন।
তিনি কথা বলেছেন এই সময়ের চলচ্চিত্র নিয়ে।

 

প্রশ্ন : আপনার চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখালেখি শুরু হয়েছিল মুভি ব্লগিং-এর মাধ্যমে। এক সময়ের সেই মুভি ব্লগিং আর আজকের ভার্চুয়াল চলচ্চিত্র সমালোচনা—এ দুইয়ের মধ্যে কী ধরনের তফাৎ লক্ষ্য করেন?

ফ. এ. : আমরা মুভি ব্লগিং শুরু করেছিলাম একসঙ্গে বেশ কয়জন চলচ্চিত্রপ্রেমী বন্ধু মিলে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম বিষয়টাকে জনপ্রিয় করে তুলতে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, তখন গুগল সার্চ করলে বাংলা চলচ্চিত্র সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যেত না। অনেক ঘাটতি ছিল। তখন আমি আমার জায়গা থেকে কাজ শুরু করলাম। প্রথমে আমি বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীত নিয়ে ব্লগিং করতাম। পরে সেখান থেকে চলে আসলাম চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্র নিয়ে লেখা শুরুর পর প্রচুর সাপোর্ট পেলাম। রাইসুল জুহালা, বিবাহিত ব্যাচেলর, বিডি আইডল, কালা মনের ধলা মানুষ, ইত্যাদি নামে মুভি ব্লগিং করা হতো। চলচ্চিত্র নিয়ে লিখি বলে অনেকে খুব সম্মান করা শুরু করলেন। আমি খুব তাড়াতাড়ি ব্লগারদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে গেলাম। ব্লগিং-এ আমরা তথ্যের সঙ্গে বিশ্লেষণকে প্রাধান্য দিতাম। এখানে কারো কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকত না। আমি অমুকের ভক্ত, আমাকে শুধু অমুক ছাড়া আর কারো পক্ষে বলা যাবে না, এই টাইপের সমালোচনা আমরা করতাম না। এখন ফেসবুকভিত্তিক সমালোচনা অনেকাংশে পক্ষপাতদুষ্ট। আমি মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর প্রশংসা যেমন করেছি আবার বিরুদ্ধেও বলেছি। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে হবে। ফেসবুকে ‘বাংলা চলচ্চিত্র’ গ্রুপ যখন শুরু হয় তখন এটার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলাম আমি। ওখানে লিখতাম, অনেক তথ্য পোস্ট দিতাম কিন্তু একটা সময় এখানে বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র এবং বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র নিয়ে একটা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ শুরু হলো। তখন আমি সেখান থেকে বের হয়ে আসি, কারণ আমি পক্ষপাতদুষ্ট লেখাকে সমর্থন করি না।

 

প্রশ্ন : আমাদের মূলধারার যে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র সেটাকে এফডিসিকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র বলা হয়। যারা চলচ্চিত্রে নিজস্ব ভাষা তৈরির জন্য চেষ্টা করেছেন যেমন, আলমগীর কবির, তারেক মাসুদ—এরা ব্যতিত বাণিজ্যিক নির্মাতাদের ক্ষেত্রে একই গল্প, একই উপস্থাপনা দিয়ে আরেক জনকে অনুকরণ করার প্রবণতা ছিল। এই কারণে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের স্বাধীন ভাষা নির্ণয়ে আমাদের সমস্যা হয় কিনা?

ফ. এ. : আমি আপনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে স্বাধীন ভাষা তৈরি হয়েছে। কাজী হায়াতের নিজস্ব ভাষা আছে, এ জে মিন্টু’র চলচ্চিত্র দেখলে মনে হয় এটা তারই চলচ্চিত্র। ভারতের অমিতাভ বচ্চন, ঋষি কাপুর, জিতেন্দ্র, ধর্মেন্দ্র—তাদের চলচ্চিত্রের অনুকরণ হত আমাদের এখানে। কিন্তু শহীদুল ইসলাম খোকনের চলচ্চিত্রে মার্শাল আর্টের নিজস্ব ভাষা আছে, দেওয়ান নজরুলের নিজস্বতা ছিল। এভাবে অনেকেরই ছিল। ‘পদ্মানদীর মাঝি’ আর ‘চাঁদাবাজ’ একই বছরের চলচ্চিত্র। প্রথমটা শ্রেষ্ঠ জাতীয় চলচ্চিত্রের পুরস্কার পায় আর দ্বিতীয়টা শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছিল। দুটিই বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র এবং প্রত্যেকের ভাষাই আলাদা।

 

প্রশ্ন : আপনি একটা দীর্ঘ সময় সিনেমা হলে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখেছেন। আজকের প্রজন্মের একটা বড় অংশ টিভি, ইউটিউব বা অন্যান্য মাধ্যমে চলচ্চিত্র দেখে সমালোচনা করে। আমার প্রশ্ন হলো, সিনেমা হলে চলচ্চিত্র দেখে সমালোচক হওয়া আর অন্য মাধ্যমে দেখে হওয়া এ দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে কিনা?

ফ. এ. : অবশ্যই আছে। পর্দার একটা পার্থক্য আছে। বড় পর্দার নিজস্ব ভাষা, ফ্রেম, ব্যাকগ্রাউন্ড, কালার কম্বিনেশন এগুলো অন্যরকম। ঘরে বসে চলচ্চিত্র দেখে সেই আনন্দ পাওয়া যায় না। সিনেমা হলে দর্শকের রেসপন্সও চলচ্চিত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে বসে সেই রেসপন্স তো পাবেন না। যে দৃশ্যটি ঘরে বসে আপনার কাছে স্বাভাবিক লাগল, সিনেমা হলে দেখা গেল দর্শক সে দৃশ্যে হাততালি দিচ্ছে। দেখার, বোঝার ও উপভোগ করার মধ্যে তফাত আছে। আর এই উপভোগের পার্থক্য তো সমালোচনার ক্ষেত্রেও পার্থক্য গড়ে দেয়।

 

প্রশ্ন : সাদাকালো এবং রঙিন—এই দুই সময়ই বাংলা চলচ্চিত্র সমৃদ্ধ ছিল কিন্তু ডিজিটাল চলচ্চিত্রের সময়টা ঐ সময় থেকে পিছিয়ে। এত পিছিয়ে থাকা বা এই ব্যবধান তৈরি হওয়ার কারণ কী?

ফ. এ. : সবচেয়ে বড় কারণ প্রযোজক সংকট। জাহাঙ্গীর খান, কে এম আর মনজুর, হাবিবুর রহমান খান, তাদের মতো প্রযোজকরা সবাই কিন্তু পরিচালককে স্বাধীনতা দিতেন। এখনকার প্রযোজকরা পরিচালককে তাদের মনমতো চালায়। পরিচালকদের মধ্যেও আমজাদ হোসেন, কাজী হায়াৎ, এ জে মিন্টু, শহীদুল ইসলাম খোকন তারা কিন্তু তাদের পূর্বসূরির কাছ থেকে শিখে চলচ্চিত্র নির্মাণে এসেছেন। এ জে মিন্টু ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে কাজ করেছেন। কাজ করার পরেও তিনি কিন্তু নিজস্ব স্টাইলে চলচ্চিত্র বানিয়ে ‘মাস্টারমেকার’ উপাধি পেয়েছেন। ফোক-ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্রের পরিচালক ইবনে মিজান ‘জলপরী’ চলচ্চিত্রে সাগরের নিচে নায়ক-নায়িকার কথোপকথনের স্যুটিং করেছিলেন একটা অ্যাকুয়ারিয়ামকে সামনে রেখে। যাকে বলে ক্রিয়েটিভিটি সেটা দেখিয়েছেন কম সুযোগ-সুবিধার মধ্যে। আজকের পরিচালকদের মধ্যে কাজ শিখে নিজস্ব স্টাইল তৈরির প্রবণতাও নেই। প্রযোজক, পরিচালক দুই দিকেই যে ঘাটতি সে কারণেই সাদাকালো বা রঙিন সময় থেকে ডিজিটাল সময়ের চলচ্চিত্রগুলো পিছিয়ে।

 

প্রশ্ন : তাহলে কি বলতে পারি প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা পাবার পরেও আজকের যুগে এসে সৃজনশীলতা হারিয়ে গিয়েছে?

ফ. এ. : অবশ্যই। এখন হচ্ছে কত দ্রুত চলচ্চিত্রের শ্যুটিং শেষ করে মুক্তি দেয়া যায় সেই চিন্তা। ঋত্বিক ঘটক বলেছেন—‘ভাবো, ভাবো এবং ভাবা প্র্যাকটিস করো’। এখনকার সময়ে ভাবার অপশন রাখে! তারা ভাবে দশটা চলচ্চিত্র দেখে কীভাবে জোড়াতালি দিয়ে একটা বানাবে। তো এখানে সৃজনশীলতা আসবে কোথা থেকে!

 

প্রশ্ন : একটা সময় ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচালক, নায়ক-নায়িকা, পার্শ্ব চরিত্র, কৌতুক অভিনেতা, বিশেষ চরিত্র সবমিলিয়ে একটা টোটাল প্যাকেজ ছিল। এখন দেখা যায় চলচ্চিত্রে নায়কেরও সমস্যা আছে, নায়িকাও অভিনয় পারে না। এই যে একসঙ্গে এত ঘাটতি, এটা কীভাবে তৈরি হলো?

ফ. এ. : আগের প্রযোজকরা পরিচালকদের শ্রদ্ধা করতেন। কোনো পরিচালক কোনো বিষয়ে না বুঝলে সিনিয়রদের কাছে যেতেন। এখন কি সেই চর্চাটা আছে? মাস্টারমেকার এ. জে. মিন্টু এখনো জীবিত আছেন। কেউ কি তার কাছে গিয়েছেন পরামর্শ নেওয়ার জন্য? যোগাযোগ করা বা নত না হতে চাওয়ার যে সমস্যা—এসব কারণে এখনকার পরিচালক আগের মতো অনেক কিছু শিখতে পারেন না বলে আমি মনে করি। তারকারা একটা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেলেই ভেবে বসছেন যে, তিনি অনেক কিছু করে ফেলেছেন। রাজ্জাকের সময় আলমগীর, সোহেল রানা, জসিমও অভিনয় করেছেন। তারা একজন আরেকজনকে সাহায্য করতেন। যার কারণে সে সময় অনেক বড় বড় তারকা তৈরি হয়েছে। এই পুরো ব্যাপারটা এখন আর নেই বলেই ডিজিটাল যুগের চলচ্চিত্র পিছিয়ে আছে।

 

প্রশ্ন : বাংলাদেশের চলচ্চিত্র কী তবে নায়ককেন্দ্রিক হয়ে গিয়েছে?

ফ. এ. : শাকিব খান কিন্তু নব্বই দশকের পরিচালকদেরই সৃষ্টি। তখনকার টপ নায়কদের সঙ্গে তিনি কাজ করে নিজের জায়গা তৈরি করে আজকের শীর্ষ নায়ক হয়েছেন। তবে এখন পরিচালকেরা তার দিকে বেশি ঝুঁকে গেছেন। এটাকে নায়ক-কেন্দ্রিক না বলে, আমি বলব—জোরজবরদস্তি-কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। চলচ্চিত্র এখন শাকিব খান কেন্দ্রিক, তবে নায়ক-কেন্দ্রিক নয়। নায়ক-কেন্দ্রিক তখন বলা হবে যখন তার পাশাপাশি আরো কয়েকজন নায়ক রাজত্ব করবেন। রাজ্জাক জনপ্রিয় না হলে সোহেল রানা, জসিম কখনই তৈরি হতেন না। সোহেল রানা জনপ্রিয় না হলে রুবেল তৈরি হতেন না। সালমান শাহ জনপ্রিয় না হলে ওমর সানী তৈরি হতেন না। এখন তো সেই ধারা নেই।

 

প্রশ্ন : নব্বই দশকে এমন অনেক চলচ্চিত্র হতো যেখানে এক চলচ্চিত্রেই অনেক জনপ্রিয় অভিনেতা একসঙ্গে অভিনয় করতেন একটি চলচ্চিত্রে একাধিক নায়ক, নায়িকা, খলনায়ক এবং কৌতুক অভিনেতার দেখা পেতাম। এখন কিন্তু নেই। তার মানে কী, বিভিন্ন মাধ্যমে তারকা তৈরির যে প্রয়োজন সেটাকে কি আমরা হারিয়ে ফেলেছি?

ফ. এ. : সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। একটা চলচ্চিত্রের কথা বলি। এস এম শফি ‘বেদ্বীন’ নামে একটা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তাতে সোহেল রানা, ওয়াসিম, উজ্জ্বল এবং জাফর ইকবাল অভিনয় করেছেন। প্রতিটি নায়ককে তিনি গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেছেন। এ. জে. মিন্টু কিংবা দিলীপ বিশ্বাসের চলচ্চিত্রে একাধিক স্টার অভিনেতা অভিনয় করতেন। জসিম আমজাদ হোসেনের ‘সুন্দরী’ চলচ্চিত্রে বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন। আবার ‘টাইগার’, ‘উচিত শিক্ষা’য় ববিতার বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। দুইদিকেই কিন্তু তিনি সফল হয়েছিলেন। ইন্ডাস্ট্রিতে আগে চলচ্চিত্রের শিক্ষক ছিলেন। তারা বিভিন্ন তারকা তৈরি করতেন। সুচরিতা কিন্তু শাবানার চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পীর অভিনয় করেছিলেন। এটা হচ্ছে কাজে লাগানোর ক্ষমতা। আজকে এ ক্ষমতাটা পরিচালক, প্রযোজক, তারকা কারো মধ্যেই নেই।

প্রশ্ন : আমাদের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের লোকেশন একই রকম। এফডিসির বাইরে আর কোনো চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান কী তৈরি করা যেত না?

ফ. এ. : এফডিসির বাইরে খতিব খামারবাড়ি, হোতাপাড়া এসব স্থানে স্যুটিং হত। অবশ্যই শিল্পকে বিস্তৃত করতে চাইলে প্রতিষ্ঠান বাড়াতে হবে। ইউনিভার্সাল স্টুডিও, মার্ভেল স্টুডিও সব আলাদা। সরকারি সহযোগিতা দিয়েই এফডিসির পাশাপাশি আলাদা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা দরকার ছিল। বেসরকারি উদ্যোগেও হতে পারত।

 

প্রশ্ন : বলা হয় প্রযোজক বাঁচলে চলচ্চিত্র বাঁচবে। প্রযোজক তৈরির উপায় কী?

ফ. এ. : অবশ্যই প্রযোজক বাঁচলে চলচ্চিত্র বাঁচবে। আগের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রগুলো ধারাবাহিকভাবে সফলতা পেয়েছিল এবং প্রযোজক লাভবান হয়েছিলো। চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রযোজক তৈরি করতে হলে সরকারকে অনেক সহযোগিতা করতে হবে। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে ট্যাক্স ফ্রি করে দেওয়া যেতে পারে। কালো টাকা সাদা করার যৌক্তিক সুযোগ দিতে হবে। কর্পোরেট গ্রুপগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে আসতে পারে।

 

প্রশ্ন : সিনেমা হল সংশ্লিষ্ট মালিক শ্রমিকরা বলেন—এ দেশে সিনেমা হলের ব্যবসা আর হবে না। আসলেই কী হবে না?

ফ. এ. : হবে না কেনো! অবশ্যই হবে। একটা ভালো সিস্টেমে নিয়ে আসতে হবে। ই-টিকেটিং ব্যবস্থা যত দ্রুত সম্ভব চালু করতে হবে। পরিচালক, প্রযোজক, পরিবেশক সবাইকে একটা সমন্বয়ের মধ্যে আসতে হবে। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম টিভি প্রিমিয়ার করে, তারপর সিনেমা হলে চলচ্চিত্র মুক্তি দেয়, তাও মাত্র কয়েকটা। দর্শক টিভিতে দেখে সিনেমা হলে আবার যাবে? বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা প্রিমিয়ার করে। কেনো? তাদের কি চলচ্চিত্র হলে সরাসরি চালানোর সাহস নেই? চলচ্চিত্রের স্বার্থে তাদের সিস্টেম পরিবর্তন করা উচিত। আমি মনে করি এই ব্যবস্থাগুলো নিলে প্রযোজক তৈরি হতে থাকবে।

 

প্রশ্ন : এখনকার ভার্চুয়াল সমালোচনার সময়ে কিছু পরিচালক বা তারকা ফ্যানদের সমালোচনা সহ্য করতে না পারলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় বা গালিগালাজ করে। এটাকে আপনি কিভাবে দেখেন?

ফ. এ. : পুরো পরিবেশটাই যখন নষ্ট হয় তখন আপনি কী আর আশা করবেন! যেখানে সিনেমা হল বুকিং-এ এগিয়ে থাকলেই চলচ্চিত্র সুপারহিট ভাবা হয় সেখানে সমালোচনা সহ্য না করা তো স্বাভাবিক ঘটনা। চলচ্চিত্র তৈরি, পরিবেশনা, সমালোচনা একটা প্রক্রিয়ায় চলে, এ সম্পর্কে যাদের ধারণা কম তারা সমালোচনা সহ্য করে না। হয়তো পরিবর্তন আসবে যদি ব্যাপারগুলো ঘুরে দাঁড়ায়। 

//জেডএস//

x