জেমকন তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার ২০১৯ গল্প বলার কাজটা নাটকের সূত্রধরের মতো : অভিষেক সরকার

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : অনন্য মুশফিক ১৭:০০ , নভেম্বর ০৭ , ২০১৯

অভিষেক সরকার তরুণ কথাসাহিত্যিক। বসবাস করেন কলকাতায়। তিনি এ বছর জেমকন তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।

বাংলা ট্রিবিউন : জেমকন তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাই।

অভিষেক সরকার : খুবই ভালো লাগছে। বাংলা ভাষার কোনো কাজের স্বীকৃতি বাংলাদেশ থেকে এলে তো বিশেষ করে ভালো লাগে।

 

বাংলা ট্রিবিউন : পাণ্ডুলিপির নাম ‘নিষিদ্ধ’ কেনো? কী নিয়ে লেখা? এর প্রেক্ষাপট জানতে চাই।

অভিষেক সরকার : মূলত নিষেধ নিয়ে। আমরা এমন একটা সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি যখন আমাদের এতকালের চেনা ধারণাগুলো, যাকে কমফর্ট জোন বলি, সেসব প্রতি দিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। একটা ভয়ের বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে। কিছুদিন আগে হয়ত জানতাম নিজের বাড়ি-গাড়ি, দেশ-শিক্ষা এসব নিয়ে বড়াই করা খারাপ। ছোটো থেকে শিখে এসেছি, হঠাৎ দেখছি ওইটাই দস্তুর। এ রকম নানা রকম পরিবর্তন ঘটছে চারপাশে। তা এই চেনা দুনিয়া বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একরকমের সেন্সরশিপ আমাদের চেপে ধরে। জ্ঞানে বা অজ্ঞানে। এই গল্পগুলো নানাভাবে এই সেন্সরশিপকে বোঝার একটা চেষ্টা। ডিস্টোপিক বলতে পারেন।

 

বাংলা ট্রিবিউন : আপনার কথাসাহিত্য পঠনপাঠন সম্পর্কে জানতে চাই। আপনার প্রিয় লেখক কে বা কারা?

অভিষেক সরকার : এটা তো এভাবে বলা মুশকিল। বাংলা ভাষায় সতীনাথ ভাদুড়ী, অমিয়ভূষণ মজুমদার, দেবেশ রায়, রামকুমার মুখোপাধ্যায়, লীলা মজুমদার, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস... অনেক নাম বলা হল না। যাদের পড়েছি, প্রায় প্রত্যেকের কাছেই কিছু না কিছু শিখেছি। বিদেশি লেখক আছেন অনেক। সল বেলো থেকে ইকা  কুর্নিয়াওয়ান। ভারতের অন্য ভাষার লেখকরা আছেন।

 

বাংলা ট্রিবিউন : আপনার কথাসাহিত্য বিষয়ক ভাবনা কি?

অভিষেক সরকার : এটাও দু’এক কথায় বলা শক্ত। আসলে গল্প বলিয়ের কাজটা নাটকের সূত্রধরের মতো। নানা খণ্ডচিত্র—দেশ, কাল, প্রকৃতি ইত্যাদি বুনে বুনে সে কিছু একটা বানিয়ে তুলছে। এটা মূলত সেতু বাঁধার কাজ। পৃথিবীতে একটা জিনিসের সঙ্গে অন্য জিনিসের কোনো সম্পর্কই থাকত না, যদি গল্প না থাকত। হিরের ভেতর তো কয়লা নেই। হিরে আর কয়লার সম্পর্কটা আমার মাথায় আছে। গল্প হয়ে আছে। আমি মনে করি আমরা এখন যে দিশাহীনতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি তার কারণ আমরা আমাদের সময়টা গল্পে বাঁধতে পারছিনা। কল্পনার বড়ো অভাব। সময়ের নিজস্ব বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠছে না। বাণভট্ট যখন কাদম্বরী লিখছেন, সে এত বড়োসড়ো একটা ব্যাপার দাঁড়াল, শেষ করে যেতে পারেননি। তার পুত্র ভূষণভট্ট শেষ করেন। ভাবুন শুধু ভিন্ন সময় নয়, দুটো আলাদা মানুষ। দুজনের ভাবনার সুতো মেলাতে হচ্ছে, শৈলীর সেতু বাঁধতে হচ্ছে। আবার ভিন্নতার স্বাক্ষর থাকছে। আবার ডিসপ্যাশনেট একটা বর্ণনা লিখে দিলে হবে না। রস চাই। শক্ত কাজ।

 

বাংলা ট্রিবিউন : বাংলাদেশের লেখালেখি, বা লেখক সম্পর্কে জানেন কি না?

অভিষেক সরকার : জানি কিছুটা। ইলিয়াস, হাসান আজিজুল হক—এরকম অনেকেই তো দুই বাংলাতেই জনপ্রিয়। সেলিনা হোসেন বা সালমা বাণীর লেখা পড়েও অনুপ্রাণিত হই। তবে এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরে বহু নাম বাদ পড়ে যায়।

//জেডএস//

x