ইবি প্রক্টরের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

ইবি প্রতিনিধি ১৯:৪৯ , অক্টোবর ১৩ , ২০১৭

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। ২৬ সেপ্টেম্বর প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ দুদকে এ লিখিত অভিযোগ জানায়। তবে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) এ তথ্য বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, ‘ইবি প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ইবি উপার্চায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান সুকৌশলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। আর এ ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রার্থী খোঁজা এবং অর্থ লেনদেনের কাজগুলো করছেন প্রক্টরের আস্থাভাজন, ফিন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুহুল আমিন। এমন কয়েকটি ঘটনার খবর সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, প্রক্টরের সহযোগী রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে তার বিভাগের অর্থ আত্মসাৎ ও ৩০টি কম্পিউটার কেনায় জালিয়াতির প্রমাণসহ খবর প্রকাশ হয়েছে। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শাপলা ফোরামের একাধিক নেতা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মুখে মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বললেও বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে দুর্নীতি প্রতিকারে আমরা দুদক চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ চাইতে বাধ্য হয়েছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখনও এমন কোনও অভিযোগপত্র হাতে পাইনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না।’

উল্লেখ্য, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে পরের কয়েকদিন কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে ইবির প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ফাঁস সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর ২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রক্টরের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কথা বলা হলে তিনি ঘটনাটি বেশ পুরানো ও তার সময়কার না বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x