মহাসড়কের পাশে ক্যাম্পাস, নেই কোনও গতিরোধক

ইবি প্রতিনিধি ১৯:২৬ , মে ১৭ , ২০১৮

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকের দুই পাশে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে নেই কোনও গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার)। ফলে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর সংস্কারের ফলে পূর্বের গতিরোধক উঠিয়ে দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।


স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া প্রায় ৫০ কি.মি এ মহাসড়কটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। সড়কের যেখানে সেখানে বড় বড় গর্ত  ও খানাখন্দ সৃষ্টির ফলে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়। যার ফলে নানা দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে যাত্রীদের। যার শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। এ সড়কটির বেহাল দশার চিত্র একাধিকবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হওয়ার পর এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বারবার অবহিতকরণে অবশেষে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) তাড়াহুড়ো করে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের রাস্তা সংস্কার প্রকল্প গ্রহণ করে। নতুন করে সংস্কার করা ঐ সড়কের উপর নতুন করে কার্পেটিং দেওয়ায় সড়কে যেসব গতিরোধক ছিল তা এখন আর নেই। আর এসব গতিরোধক না থাকার ফলে যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক সব দুর্ঘটনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী ও কর্মরত প্রায় ১২০০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, নতুন সংস্কারে গতিরোধক তুলে দিয়ে একধরনের দায়িত্বহীনতা বা কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাজেদা আক্তার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আমাদের প্রায়ই বিভিন্ন কাজে বা কেনাকাটা করতে যেতে হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আগের মতো কোনও গতিরোধক না থাকায় খুব ভয় পাই রাস্তা পার হতে।’অথচ বাংলাদেশ নিরাপদ সড়ক নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনের সড়কে সাইন বোর্ড ও গতিরোধক থাকা আবশ্যক। সাগর আলী নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস স্টপেজ থাকলেও গতিরোধক না থাকায় বেশিরভাগ বাস ক্যাম্পাসের সামনে না দাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজারে থামছে। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা ।’
এদিকে, দেশের উত্তর-দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এ গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ হাজার বাস, মিনি বাস, মালবাহি ট্রাক, পিকআপ, টেম্পু যাতায়াত করে এ সড়ক দিয়ে। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী নিয়ে যাত্রীবাহী বাসগুলো দেশের দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গে এবং আশেপাশের জেলাগুলোতে চলাচল করে। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল স্থল বন্দর এবং শিল্পাঞ্চল খুলনা হতে প্রতিদিন শতশত মালবাহী ট্রাক ঢাকার উদ্দেশে পাড়ি জমায় এ সড়ক দিয়েই। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাকগুলো কোনও রকম গতিরোধ ছাড়াই পুরো গতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক টপকিয়ে চলে যায়। এতে করে যেকোনো সময়ই ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। বিশেষ করে মহাসড়কের পাশেই ক্যাম্পাস হওয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে দুর্ঘটনার আশংকা।  
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বলেন, আমরা এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবো। যেন তারা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অতিসত্ত্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কে গতিরোধকের ব্যবস্থা করে।’

/এনএ/

x