ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যান্টি-বুলিং ক্যাম্পেইন

ক্যাম্পাস রিপোর্ট ১৯:৪৬ , মে ১৭ , ২০১৮

‘সম্মান নিজের ও একে অপরের প্রতিএই ব্রতকে সামনে রেখে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী অ্যান্টি-বুলিং সচেতনতা ক্যাম্পেইন। মহাখালীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে গত ১৩ মে ক্যাম্পেইন শুরু হয়ে শেষ হয় ১৭ মে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। বুলিং বিষয়ক সচেতনতা বাড়ানো ও একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল সচেতনতা ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য। কাউকে হেয় না করা ও বুলিংয়ের প্রতিবাদ জানানোর শপথ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।

প্রথম দিন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ সাদ আন্দালিব। ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানান দেন ব্র্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজের পরিচালক লেডি সৈয়দা সারওয়াত আবেদ।
প্রথম দিন বাচনিক ও অবাচনিক বুলিং নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কাউন্সেলিং ইউনিটের প্রভাষক এবং সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর সাফিনা বিনতে এনায়েত ও মনোসামাজিক কাউন্সিলর অ্যানি অ্যান্থনিয়া বাড়ৈ। এই দুজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জানান, বুলিং হলো মৌখিক, মানসিক বা শারীরিকভাবে পীড়ন বা ভৎসনা করা। ক্ষতির উদ্দেশ্য না থাকলেও আক্রমণকারী অন্যকে ইচ্ছেকৃতভাবে হয়রানি করে থাকেন। যেমন মিথ্যে অপবাদ দেওয়া, ভয় দেখানো, অরুচিকর কিছু দেখানো বা বলা, শারীরিকভাবে হেনস্তা করা, অপ্রয়োজনীয় কিছু বলে বিব্রত করা ইত্যাদি।
অ্যান্টি-বুলিং সচেতনতা ক্যাম্পেইনের প্রথম দিন জানানো হয়, যেকোনো সামাজিক অবস্থান বা পরিস্থিতির মধ্যে যে কেউ বুলিংয়ের শিকার হতে পারেন। বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং করার প্রবণতা বেড়েছে। বুলিয়ের শিকার সাধারণত অর্ন্তমুখী স্বভাবের শিক্ষার্থীরা হয়ে থাকেন। মনস্তাত্বিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া শিক্ষার্থীটি আর কোনও দিনই সহপাঠীদের সামনে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে না। বুলিংয়ের শিকার হয়ে স্কুল-কলেজে ত্যাগ করার অনেক ঘটনাই বর্তমানে ঘটছে।

ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় দিন সাইবার বুলিং প্রসঙ্গে মিথস্ক্রিয়া সেশন করেন ব্র্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং ইউনিটের উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মেহতাব খানম ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শাওলি দাশগুপ্ত। সাইবার বুলিং নিয়ে শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকটি অভিজ্ঞতার কথা শোনেন ও তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন তারা। 

তৃতীয় দিন ফিজিক্যাল ও সেক্সুয়াল বুলিং বিষয়ে ধারণা দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিরেক্টর প্রফেসর ড. মালবিকা সরকার ও ব্র্যাক স্কুল অব লএর লেকচারার আনুশেহ শিহাম আলি। আলোচকবৃন্দ বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে নারীরাই বেশি সেক্সুয়াল বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। পরিচয় চুরি, ভুয়া আইডি, ভুয়া ই-মেইল, বাজে মন্তব্য করে নারীদের একান্ত ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর  ছবি ব্যবহার করে সাইবার বুলিং করা হচ্ছে। এছাড়া বাস-ট্রেনের মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্টে নারীরা হরহামেশাই শারীরিক বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক শিক্ষার্থী বলেন, কয়েক মাস আগে সকালে উত্তরার আজমপুরে বাসে ওঠেন তিনি। ফাঁকা বাস পেয়ে চালক তাকে উত্যক্ত করতে থাকে। এসময় বাস থেকে লাফিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন সেই শিক্ষার্থী। এরপর থেকে ব্যাগে ছুরি বহন করছেন তিনি।

১৬ মে, ক্যাম্পেইনের চতুর্থ দিন সোশ্যাল বুলিং নিয়ে আলোচনা করেন ব্র্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আফসান চৌধুরী ও ড. ইরাম মরিয়াম। এদিন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ও অভিনেতা জন কবির। বৃহস্পতিবার ক্যাম্পেইনের শেষ দিন সাইকোলোজিক্যাল ও ইমোশনাল বুলিং সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব ও দিক নির্দেশনা দেন অধ্যাপক মেহতাব খানম। এদিন শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি যোগাতে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজিস্ট ও মটিভেশনাল স্পিকার সুলেমান শুখন।

পাঁচ দিনব্যাপী এই সচেতনতা ক্যাম্পেইনে উপস্থিত হয়ে বুলিং বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন সঙ্গীত তারকা তানভীর আলম সজীব, মোবাশ্বের চৌধুরী, অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা, নাট্য অভিনেত্রী-নির্দেশক আফসানা মিমি ও অভিনেতা-সঙ্গীত শিল্পী জন কবির। 

/এনএ/

x