ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ১৬:২৩ , জুন ০৩ , ২০১৮

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে ‘সামাজিক সচেতনতা ও আইনী অধিকার: প্রেক্ষিত নারী’ শীর্ষক এক সেমিনার   অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম ফাইরোজ ও বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক সহেলি ফেরদৌস।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন আর্টিকেল নাইন-এর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দা সালেহ সুলতানা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. গোলাম মওলা চৌধুরী ও মানবিক ও সামজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এম এম হামিদুর রহমান। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সহযোগী ডিন ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. ফারহানা হেলাল মেহতাব।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম বলেন, প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়নের কারণে সারা পৃথিবীতেই যৌন হয়রানির ধরন পাল্টেছে। এখন ই-মেইল, এসএমএস, ইনবক্স, ম্যাসেঞ্জার ইত্যাদির মাধ্যমে নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য নারী সাইবার ক্রাইমের শিকার হচ্ছেন। এজন্য নারী-পুরুষ উভয়কেই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম। তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে আইন রয়েছে বাংলাদেশে। তবে আইন দিয়ে সব অপরাধ নির্মূল করা যায় না। এজন্য সামাজিক সচেতনতা জরুরি।

অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তিনটি কারণে সমাজে যৌন হয়রানি বেড়ে যায়। এক. দৃষ্টিভঙ্গি, দুই. সামাজিক প্রেক্ষাপট ও তিন. সাংস্কৃতিক অবক্ষয়। এজন্য সবার আগে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম।

সেমিনারে পুলিশের সহকারি মহাপরিদর্শক সহেলি ফেরদৌস বলেন, যৌন হয়রানি সম্পর্কে সঠিক ধারনা না থাকার কারণে সমাজে যৌন হয়রানি বাড়ছে। অনেক পুরুষ যেমন জানেন না তিনি কোন আচরণের মাধ্যমে যৌন হয়রানি করছেন, ঠিক তেমনি অনেক নারীও জানেন না যে তিনি যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এজন্য যৌন হয়রানি সম্পর্কে জনসচেতনা বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

 

/এফএএন/

x