সেশনজটের কবলে কুবি শিক্ষার্থীরা

কুবি প্রতিনিধি ১৯:৫৪ , জুলাই ১১ , ২০১৯

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে দীর্ঘ সেশনজট লেগেই রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের মধ্যে ১৪ টিতেই রয়েছে ন্যুনতম ছয় মাস থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সেশনজট।

সেশনজটের এই প্রকোপ সবচাইতে বেশি বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত রসায়ন বিভাগে। এই বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এখনও তাদের স্নাতক শেষ করতে পারেননি। অথচ তাদের এখন স্নাতকোত্তর শেষ করার কথা। এই বিভাগের অন্যান্য ব্যাচগুলোও পিছিয়ে আছে প্রায় এক বছর করে। সেশনজট কমাতে গত ৮ জুলাই রসায়ন বিভাগের করিডোরে মানবন্ধন করে বিভাগীর প্রধানের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছে ঐ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা স্নাতক অষ্টম সেমিস্টারে থাকার কথা থাকলেও তারা এখনও পঞ্চম সেমিস্টারও শেষ করতে পারেননি।

তেমনিভাবে প্রায় অধিকাংশ বিভাগেই রয়েছে ছয় মাস থেকে এক বছরের সেশনজট। খোঁজ নিয়ে জানা যায় আইসিটি, সিএসই, পরিসংখ্যান, ইংরেজি, আইন, লোকপ্রশাসন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, অর্থনীতি, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, ফার্মাসিসহ আরও কিছু বিভাগে সেশনজট রয়েছে। ফলে চার বছরের স্নাতক সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের লাগছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় বছর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দফতরের তথ্যমতে, যেহেতু এক বছরে দুটি সেমিস্টার এবং এক সেমিস্টারের মেয়াদ ছয় মাস তাই পাঁচ মাসের মধ্যেই সেমিস্টারের সব ক্লাস শেষ করতে হবে। সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হলে পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু বেশিরভাগ বিভাগেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৬ থেকে ২৪ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ফল প্রকাশ হয়না। ফলে পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হলেও ফাইনাল পরীক্ষা শুরু করা যায়না।

ফল প্রকাশে দেরি হওয়ার কারণেই সেশনজট বাড়ছে বলে দাবি করেছেন রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রায়হান উদ্দিন।  তিনি বলেন, ফল প্রকাশে দেরিই সেশনজটের একটি অন্যতম কারণ। আমাদের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে খাতা পাঠানো এবং সেগুলো মূল্যায়নের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে অনেক সময় লেগে যায়। তাই ফল প্রকাশে বিলম্বিত হয়। যদি অভ্যন্তরীণভাবে খাতা মূল্যায়ন করা যায় এবং ফল প্রকাশের পুরো ব্যাপারটিকে গুছিয়ে আনা যায় তবে এই সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।

একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সাদেকুজ্জামান বলেন, আমাদের বিভাগের সেশনজট নিরসনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি আসার পর থেকে সেশনজট নিরসনে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেশনজট এখন আগের থেকে কমেও এসেছে। তারপরও যে বিভাগগুলোতে সমস্যা আছে তা অচিরেই সমাধান করা হবে।’

 

/এফএএন/

x