কুবি শিক্ষার্থীদের তৈরি ‘সিনা’ নাচে, গায়, কথা বলে

কুবি প্রতিনিধি ১৭:৩৮ , আগস্ট ০৬ , ২০১৯

রোবট ‘সিনা।’ অবিকল মানুষের মতো কথা বলে, গানের তালে নাচে, গান গায়, নতুন অতিথি এলে হাত নেড়ে অভ্যর্থনাও জানায়। করমর্দন করতে চাইলে হাত বাড়িয়ে দেয়। চলতে পারে সামনে-পেছনে। প্রশ্ন করলে ইংরেজিতে তার উত্তরও দিতে পারে।


তাক লাগিয়ে দেওয়া রোবটটি মাত্র ৩৭ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন উদ্যমী ও মেধাবী তরুণ। রোবট সিনা বাংলাদেশে তৈরি চতুর্থ মানব রোবট। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) এর অর্থায়নে রোবট সিনাকে তৈরি করা হয়েছে। তিন মাসের পরিশ্রমে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে এর অবয়ব। রোবটটির সিস্টেম প্রোগ্রামিংয়ে  ব্যবহার করা হয়েছে ১০৫৩ মডেলের আর্ডুইন কোডিং পদ্ধতি। মোবাইল সফটওয়্যার ব্যবহার করে এই রোবটটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পাশাপাশি এতে রয়েছে গুগলের ভয়েস রিকগনিশন পদ্ধতিও। যার ফলে সিনা ভয়েস চিনে রাখতে পারে।
রোবটটি তৈরি করতে কাজ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সঞ্জিত মণ্ডল। তার সঙ্গে ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র সাঈয়্যেদুর রহমান এবং আইসিটি বিভাগের ছাত্র জুয়েল নাথ। রোবটটির নির্মাতা সঞ্জিত মণ্ডল জানান, অনেক আগে থেকেই তার স্বপ্ন ছিল এমন কিছু করার। তবে সুযোগ পাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সুযোগ পেয়ে এই রোবট তৈরি করেছেন।
রোবটটির প্রোগ্রামার জুয়েল নাথ বলেন, ‘ল্যাব না থাকায় বাসার ছাদেই সিনাকে তৈরির কাজ করতাম। কাজ করতে করতে ছাদেই ঘুমিয়ে গিয়েছি আবার সকালে উঠে কাজ করেছি। বন্ধের দিনগুলোতে পুরো সময়টা সিনার পেছনেই দিতাম।’
এত অল্প ব্যয়ে শিক্ষার্থীরা রোবট তৈরি করায় উচ্ছ্বসিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমি অবাক হয়ে গেছি ছেলেদের এমন অভিনব কাজে। এই রোবটটির উন্নয়নে ভবিষ্যতে আমাদের গবেষণা খাত থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি গণিত বিভাগে ওবায়দুল হক অবি বলেন, ‘আমরা হাঁটতে পারে, কথা বলে এমন একটা রোবট বানাতে চেয়েছিলাম। তবে সিনা এর থেকে অনেক কিছু বেশি পারে। যদি অর্থ বরাদ্দ আসে তবে ভবিষ্যতে সিনাকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স এর মাধ্যমে অধিকতর উন্নত করা হবে।’
রোবটটিকে বর্তমানে কুমিল্লা বার্ডে প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। প্রতিদিনই স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা পরিদর্শন করছে রোবট সিনাকে।  

/এনএ/

x