Vision  ad on bangla Tribune

কান্না থামেনি আজও অবিন্তার পরিবারের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৭:১২ , মার্চ ০৪ , ২০১৭

‘ইন মেমোরি অব অবিন্তা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে পরিবার ও স্বজনরাগুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত অবিন্তা কবীরের শোকসন্তপ্ত পরিবারের কান্না যেন শেষ হওয়ার নয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই তরুণীকে হারিয়ে পরিবারে যে শোক ছড়িয়েছে তার রেশ কাটেনি এখনও। তার স্মরণে চালু করা অবিন্তা কবীর ফাউন্ডেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে তাকে স্মরণ করতে গিয়ে বারবার কেঁদেছেন পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে ‘ইন মেমোরি অব অবিন্তা’ শীর্ষক এই আয়োজন ভারী হয়ে ওঠে তার মা, মামা, নানা, নানিসহ পরিবার ও স্বজনদের চোখের জলে। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার কেঁদে ওঠেন তারা। তখন আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এখানে তার বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিচিতজন আর শিক্ষকরাও ছিলেন।

অবিন্তার মা রুবা আহমেদ মঞ্চে উঠেই কেঁদে উঠেন। মেয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় জড়িয়ে পড়ে তার কণ্ঠ। মেয়েকে লেখা একটি চিঠিও পড়ে শোনান তিনি। কান্নাভেজা কণ্ঠে রুবা আহমেদ বলেন, ‘সেই রাতে অবিন্তা বলেছিল রাত ১০টার মধ্যে ফিরে আসবে। কিন্তু আসেনি, আমাদের আর দেখা হয়নি। এরপর আমার কতদিন কেটেছে কান্নায়, আমিও জানি না। সময় পেলেই মেয়ের রুমে যাই, তার চেয়ারে বসি। আমি এখনও আমার অবিন্তার সঙ্গে কথা বলি!’

অবিন্তা কবীরঅবিন্তার নানা মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘মাত্র ১৯ বছরে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে অবিন্তা। বয়স ১৯ বছর হলেও তার স্বপ্ন ছিল বড়। পড়াশোনার জন্য আমেরিকায় গেলেও তার মন পড়ে থাকতো বাংলাদেশে। সবসময় অস্থির হয়ে উঠতো দেশে আসার জন্য।’

অবিন্তার নানি নীলু মোরশেদ বলেন, ‘এই বয়সে এসেও আমি যে স্বপ্ন দেখি না, সেসব নিয়েও ভাবতো আমাদের অবিন্তা। বেঁচে থাকলে সে নিশ্চয়ই অনেক বড় কিছু করতে পারতো।’

ফাউন্ডেশন গড়া প্রসঙ্গে অবিন্তার মামা তানভীর আহমেদ বললেন, ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখেছিল অবিন্তা। সবসময় সে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পক্ষে কথা বলতো। অবিন্তা কবীর ফাউন্ডেশন করা হয়েছে তার স্বপ্নপূরণের জন্যই। কারণ অবিন্তার লক্ষ্য ছিলো একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করা।’

জঙ্গি হামলায় নিহত হওয়ার পর খুঁজে পাওয়া যায় অবিন্তার একটি ডায়েরি। এতে তিনি লিখেছেন, “আমি মানুষের জন্য ভাবি এবং আমার লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করা। আমার বিশ্বাস, আজকের এই আমি, আমার সংস্কৃতি ও জাতীয়তার একটি অংশ। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল একটি দেশ। এ দেশের জন্য কিছু করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। যদিও একটি এনজিও গড়া অতিসামান্য একটি পদক্ষেপ।”

শনিবারের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট বলেন, “অবিন্তা ছিলেন প্রতিভাবান তরুণী। যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ইমোরি ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতেন তিনি। পুরো পৃথিবীর সঙ্গে বাংলাদেশকে উন্নত স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছিল। আসুন আমরা সবাই মিলে পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলি, ঠিক যেমন অবিন্তা চেয়েছিলেন।”

অনুষ্ঠানে অবিন্তা কবীরের স্মরণে ভিডিও তথ্যচিত্র দেখানো হয় আগত অতিথিদের সামনে। এছাড়া ‘অ্যান ইন্টিমেট পোর্ট্রেট অব অবিন্তা কবীর’ শীর্ষক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং একটি ওয়েবসাইটও চালু করা হয় এ অনুষ্ঠানে। প্রদর্শিত হয়েছে তার লেখা কিছু নোট ও চিঠি।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার ইমোরি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন অবিন্তা। তিনি এলিগ্যান্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান রুবা আহমেদ ও ইহসানুল কবীরের মেয়ে এবং ল্যাভেন্ডার গ্রুপের মালিক মনজুর মোরশেদের নাতনি। গত বছরের জুনে ঢাকায় এসেছিলেন অবিন্তা। ১ জুলাই বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যান হলি আর্টিজান বেকারিতে। সেখানেই জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান তিনি।

/সিএ/জেএইচ/

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x