‘আপন নিবাস’ বৃদ্ধাশ্রমে অনিয়মের অভিযোগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১২:১১ , জুন ১৯ , ২০১৭

আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রম, ছবি: সংগৃহীত

উত্তরার মৈনারটেক এলাকায় ‘আপন নিবাস’ বৃদ্ধাশ্রমে অনিয়নমের অভিযোগ ওঠেছে এর পরিচালক সৈয়দা সেলিনা শেলীর বিরুদ্ধে। ওই বৃদ্ধাশ্রমটিতে বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন নগদ টাকা, কাপড়সহ অন্যান্য জিনিসপত্র দান করলেও তা বৃদ্ধাদের দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক শেলী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আহসান সীমান্ত নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালকের বিরুদ্ধে অর্থ লুটের অভিযোগ করেছেন। পরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তিন চাকার ঈদ নামের একটি ইভেন্টের অংশ হিসেবে আপন বৃদ্ধাশ্রমের বৃদ্ধাদের খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় একজন অভিযোগ করেন, সেখানে নাকি বৃদ্ধাদের ভাড়া করে আনা হয়। বৃদ্ধাশ্রমের এক বৃদ্ধা অভিযোগ করেন, তার কাপড়টা অনেকদিন হয়েছে কিন্তু পরিবর্তন করে দেওয়া হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুনেছি ওই বৃদ্ধাশ্রমে ২৫/৩০ জন থাকেন। কিন্তু আমরা সেখানে ১০ জনকেও পাইনি। কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, সেখানে বৃদ্ধাদের মাঝে মাঝে আনা হয়। দু-তিনদিন পর আবার তাদের কোথায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি তাদের নির্যাতনও করা হয়। নির্যাতনের একটি ভিডিও গোপনে রেকর্ডও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েজন বৃদ্ধা।’

এদিকে, অন্য একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের চেয়ারম্যান তাহমিনা তৃষা অভিযোগ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত বছর আমাদের সংগঠন থেকে নতুন ফ্যান, সোলার সিস্টেম, ২৫ জনকে ৫০টি শাড়ি দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে একদিন গিয়ে দেখি ফ্যান নাই। সোলার সিস্টেমও নষ্ট বলে ফেলে রাখা হয়েছে। আর শাড়ির বিষয়ে বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক সেলিনা শেলী জানান, এত কমদামি শাড়ি এখানের বৃদ্ধারা পরেন না। আরও ভালো শাড়ি দিতে হবে। খাবার নিয়ে গেলেও সেলিনা বলেন, তাদেরকে এখানে রান্না করে খাবারই খাওয়াতে হবে। বাইরের খাবার দেওয়া যাবে না।’

তিনি বৃদ্ধাশ্রমের বৃদ্ধদের বরাত দিয়ে আরও বলেন, ‘সেখানের বৃদ্ধদের ঠিকমতো চিকিৎসা করানো হয় না। চাহিদা মতো খাবারও দেওয়া হয় না। এছাড়া কেউ গেলে তার সঙ্গে বৃদ্ধাদের কখনোই একা কথা বলতে দেওয়া হয় না। এক বৃদ্ধ নারী আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন কিন্তু তাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।’

একতা নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সেচ্ছাসেবক নুসরাত জাহান শাম্মী বলেন, ‘আমরা ওই বৃদ্ধাশ্রমে দুবার অনুষ্ঠান করেছিলাম। তখনই বুঝেছিলাম এই বৃদ্ধাশ্রমকে পুঁজি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক সেলিনা শেলী। তিনি নিজেকে উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দাবি করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার স্থানীয় অনেক শত্রু রয়েছে। তারা আমার ভালো কাজের উদ্যোগ দেখতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে যারা থাকেন তাদের বেশিরভাগই একশ বছরের কাছাকাছি বয়স। তারা কিছুই বোঝেন না। অনেকেই বৃদ্ধাশ্রমে শাড়ি কাপড় দেন। কিন্তু আমি কি তাদের একবারে সব কাপড় দেবো? তারা ছোট বাচ্চাদের মতো সব নষ্ট করে। তাই একটি ছিড়ে গেলে আরেকটা দেওয়া হয়। এছড়া তাদের পেটে সব খাবার সহ্য হয় না। তারা সব খবার খেতে পারেন না। অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই তো তাদের বাইরের খাবার খাওয়াই না। এগুলো কি আমার অন্যায়? যারা বলছে আমি মানুষের টাকা মেরে খাচ্ছি, তাদের প্রমাণ দেখাতে হবে।’

/আরএআর/এসএনএইচ/এসটি/

x