Vision  ad on bangla Tribune

ঈদে বাড়তি ছুটির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৯:৩৫ , জুন ১৯ , ২০১৭

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারঈদে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি মন্ত্রিসভা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলেও তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত হয়নি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম।
এ বছর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ বা ২৭ জুন বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তবে ২৬ জুন ঈদ হিসাব করে ২৫, ২৬ ও ২৭ জুন ঈদের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। ঈদের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ অফিস ২২ জুন। পরদিন ২৩ জুন শুক্রবার শবে কদর। আগামী ২৪ জুন শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। পরদিন ২৫ থেকে ২৭ জুন ঈদের ছুটি এবং মাঝে ২৮ ও ২৯ জুন অফিস খোলা। আগামী ৩০ জুন শুক্রবার ও ১ জুলাই শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। অর্থাৎ ২৮ ও ২৯ জুন অফিস বন্ধ থাকলে ২৩ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত ৯ দিন ছুটি কাটিয়ে ২ জুলাই থেকে অফিস শুরু হবে।
তবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদ যদি ২৭ জুন পালিত হয়, তাহলে ঈদের পরের দিন ২৮ জুন বুধবার স্বাভাবিক নিয়মেই ছুটি থকবে। সেক্ষেত্রে ২৯ জুন বৃহস্পতিবার অফিস খুলবে। এই একদিন অফিসের করার পর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি পাবেন চাকরিজীবীরা। এ ক্ষেত্রে অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলো যে, সোমবারের মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে হয়তো ওই দুই দিনের ছুটির জন্য একটি নির্বাহী আদেশ হতে পারে। তবে বৈঠকে এ ধরনের কোনও আলোচনাই ওঠেনি।

গত কয়েক বছর ধরেই ঈদের ছুটি বাড়ানো নিয়ে বিতর্ক চলছে। গত বছর ঈদের ছুটি বাড়িয়ে তা আবার সাপ্তাহিক ছুটি শনিবারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। তখন অনেকেই বদলি ছুটির পরিবর্তে নৈমিত্তিক ছুটির সঙ্গে সরকারি ছুটি সমন্বয়ের তাগিদ দেন।

ঈদের ছুটি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সময় পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাদের যুক্তি হচ্ছে- মাত্র তিন দিন ছুটি থাকায় একসঙ্গে প্রচুর লোক ঢাকা ও বিভিন্ন শহর থেকে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ঘরমুখো মানুষ নানা হয়রানির মুখে পড়ে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ইনোভেশন টিম থেকে ঈদের ছুটি দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়।

এর আগে ৬ জুন ঈদের ছুটি দ্বিগুণ করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রস্তাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাৎসরিক ২০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি থেকে ৬ দিন কেটে নিয়ে দুই ঈদের ছুটির সঙ্গে ৩ দিন করে যুক্ত করে ঈদের ছুটি বৃদ্ধি করা হবে। এ ছুটির সঙ্গে কাউকে ঐচ্ছিক ছুটি দেয়া হবে না। এছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীরা ঈদের ছুটি ভোগ করে বিধায় তাদের প্রধান দুইটি ধর্মীয় উৎসবে সরকারি ছুটির সঙ্গে দু’দিন করে চার দিন ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া হবে।

প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর জন্য পাঠানো সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ঈদের ছুটির সময় যানবাহনের মাত্রাতিরিক্ত চাপ, দুর্ঘটনা বৃদ্ধিসহ দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়। ঈদের ছুটি শেষে অফিস খোলার পরবর্তী ২-১ দিন কর্মচারীদের উপস্থিতি কম থাকে। তা সত্ত্বেও অফিসের ইউটিলিটি সার্ভিস, লিফট, গাড়ি চালু রাখতে হয়। ফলে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও প্রয়োজনীয় জিনিসের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়। এজন্য পবিত্র ঈদুল ফিতর ও আজহার তিন দিনের ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীরা ঈদের ছুটি ভোগ করে বিধায় তাদের প্রধান দুইটি ধর্মীয় উৎসবের সরকারি ছুটির সঙ্গে দু’দিন করে চার দিন ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া হবে।

/এসআই/এমএ/এসএমএ/

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x