রোহিঙ্গা সংকট: নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে বাংলাদেশ

শেখ শাহরিয়ার জামান ১৯:০২ , অক্টোবর ১৩ , ২০১৭

রোহিঙ্গা সংকটযুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের উদ্যোগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আবারও বসছে রোহিঙ্গাবিষয়ক অনানুষ্ঠানিক আলোচনা বৈঠকে। শুক্রবার দিবাগত রাত একটায় অনুষ্ঠেয় রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা ছাড়াও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, সাবেক মহাসচিব কফি আনানের সঙ্গে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে বর্তমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতি তুলে ধরে নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা অংশ নেব।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে উন্মুক্ত আলোচনায় ফ্রান্সের প্রতিনিধি বলেছেন, ‘অক্টোবরে নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্সি গ্রহণ করবে ফ্রান্স। এ সময় মিয়ানমার পরিস্থিতিতে আমাদের পূর্ণ মনোযোগ থাকবে।’ ওই সময় তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা যুক্তরাজ্যের সহায়তায় নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনার আয়োজন করব। সেখানে অন্য আলোচকদের সঙ্গে কফি আনানও থাকবেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা  বলেন, ‘মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে এই সপ্তাহের শুরুর দিকে নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের মহাসচিবকে চিঠি দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি জানিয়েছিলেন, ‘৫ সেপ্টেম্বর থেকে রাখাইনে অভিযান বন্ধ আছে। কিন্তু এখনও সেখানে ঘরবাড়ি পোড়ানো হচ্ছে। রোহিঙ্গারা সেখান থেকে পালিয়ে আসছে। বিষয়গুলো আমরা উল্লেখ করেছি।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই গোটা পরিস্থিতি বর্ণনা করে সহিংসতা বন্ধ ও নিরীহ রোহিঙ্গাদের রক্ষায় নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বের বিষয়ে ঈঙ্গিত থাকবে বাংলাদেশের বক্তব্যে।’

এর আগে গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক রোহিঙ্গা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা এখানে থেমে যাইনি। জাতিসংঘে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। সোমবার (৯ অক্টোবর) জাতিসংঘে আমাদের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন রোহিঙ্গা ইস্যুর বর্তমান অবস্থা জানিয়ে আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ জন সদস্যকে চিঠি দিয়েছেন। মিয়ানমার বলেছিল, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে রাখাইনে অভিযান বন্ধ আছে। কিন্তু এখনও সেখানে নির্যাতন চলছে। এই বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তার আজকের বক্তব্যে সম্ভাব্য যে বিষয়গুলো জানাবে, সেগুলো হচ্ছে রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতি, বাংলাদেশ কী করছে, ১৯৯২ সালের চুক্তি বর্তমানে গ্রহণযোগ্য নয়, সেফজোন প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা পরিষদের করণীয়।’

উল্লেখ্য, ২৫ আগস্ট রাখাইনে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে পাঁচ লাখ চল্লিশ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা। মাঝখানে কিছুদিন রোহিঙ্গা আসার পরিমাণ কমলেও চলতি সপ্তাহে তা আবারও বেড়েছে। সোমবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশে প্রায় এগারো হাজার রোহিঙ্গা এসেছে। রোহিঙ্গাদের ওপর  মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের প্রামাণ্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ।

 

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x