‘নাগরিকত্বের অধিকারকে কোনও দেশ অস্বীকার করতে পারে না’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২০:২৬ , অক্টোবর ১৩ , ২০১৭

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ত্রাণমন্ত্রী মায়ালাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে শান্তি ও স্থিতিশীল বিশ্ব গড়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকারকে স্বীকার করে নিতে হবে। মানুষের নাগরিকত্ব ও বাসস্থানের অধিকারকে কোনও দেশ অস্বীকার করতে পারে না।’
শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৭-এর উদ্বোধনী আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ত্রাণমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘দুর্যোগ সহনীয় আবাস গড়ি, নিরাপদে বাস করি’। দিবসটিকে কেন্দ্র করে জাতীয় পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কের টার্গেট অনুযায়ী এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ঘরহীন মানুষের সংখ্যা দৃশ্যমান হারে কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোনও কোনও দেশের স্বেচ্ছাচারিতা ও বর্বরতার কারণে ঘরহীন মানুষের সংখ্যা কমার বদলে বেড়েছে। এটা আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের বরখেলাপ।’
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার হীন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়— মিয়ানমার সেনাপ্রধানের এমন বক্তব্যকে নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা দমনের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে জাতিগত দমন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মিয়ানমারকেই এর দায় নিতে হবে।’
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের লাখ লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিককে বাংলাদেশে জায়গা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মাদার অব হিউম্যানিটি হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছেন। বিশ্বের সামর্থ্যবান দেশগুলো রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দান তো দূরে থাকুক, তাদের প্রতি সমবেদনা না জানিয়ে মানবিকতার উল্টা মেরুতে অবস্থান নিয়েছে।’ রোহিঙ্গাদের কারণে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে এর দায় সব দেশকে নিতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ঘরহীন মানুষকে ঘর দেওয়া সরকারের প্রধান কয়েকটি পদক্ষেপের অন্যতম। সরকার এ লক্ষ্য পূরণে আশ্রয়ন প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য গৃহ নির্মাণ প্রকল্প, বন্যাপ্রবণ এলাকায় মানুষের বসতঘর উঁচু করে দেওয়ার প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ বছর বাংলাদেশে পাঁচটি বড় দুর্যোগ হয়েছে। কিন্তু বাস্তুচ্যুত থেকে কোনও মানুষ মারা যায়নি। প্রতিটি দুর্যোগে লাখ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে এনে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তদারকি ও দিকনির্দেশনায় প্রতিটি দুর্যোগ সরকার সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ সম্ভু, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ্ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এজাজুল বারী চৌধুরী, সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রামের পরিচালক আহমেদুল কবির প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x