‘সৌদি আরবে খালেদার সম্পদ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ নেই কেন’

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক ১৭:২৭ , ডিসেম্বর ০৭ , ২০১৭

সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার পরিবারের সম্পদের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ না থাকার রহস্য কী- জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী (ছবি: ফোকাস বাংলা)সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল প্রধানমন্ত্রীকে করা প্রশ্নে উল্লেখ করেন- বিদেশের টেলিভিশনে খবর বের হয়েছে সৌদি আরবে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ পাচার হয়েছে, তার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দু’জন প্রধানমন্ত্রীর নাম রয়েছে পাকিস্তানের নওয়াজ শরীফ, আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং লেবাননের সাদ হারিরির নাম এসেছে, আপনার সরকার এ বিষয়ে তদন্ত করবে কিনা?

এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সৌদি আরবে যে খালেদা জিয়ার বিশাল সম্পদ, শপিংমল ইত্যাদি পাওয়া গেছে এটা তো আমরা কিছু করেনি। এটা তো বিদেশ থেকেই সংবাদ এসেছে। তবে আমি আপনাদের একটা প্রশ্ন করি, এখানে তো অনেকে সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক রয়েছেন, বিভিন্ন চ্যানেলও আছেন, কই আপনাদের তো এটা নিয়ে নিউজ দেওয়ার বিষয়ে কোনও আগ্রহ দেখলাম না। রহস্যটা কি? আপনার কী ওখানে বিনা পয়সায় শপিং করার কোনও কার্ড পেয়েছেন? না হলে এ সংবাদটাও আপনারা দিতে পারলেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আচ্ছা আমি জিজ্ঞেস করি মনে করেন যদি এই ধরনের সংবাদ যদি আমার বা আমার পরিবারের বিষয়ে হতো আপনারা তো হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। আমাদের অপরাধ কী, আমরা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি, আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, আর খালেদা জিয়া সবকিছুতে মাফ পায় কেন, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে, জিয়াউর রহমান জাতির জনকের খুনিদের মন্ত্রী বানিয়েছে, মদদ দিয়েছে সেজন্যই কী তাদের সাতখুন মাফ? এ প্রশ্ন যেহেতু আমার মনে এসেছে সেহেতু আপনাদের কাছে প্রশ্নটা করলাম। আমি তো কোনও পত্রিকাকে দেখলাম না এটা নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করতে, বিষয়টা কী?’

হ্যাঁ, দুইটা মাত্র চ্যানেল এটা নিয়ে নিউজ দিয়েছে, আর দুইটা মাত্র পত্রিকা নিউজ করেছে আর বাকি পত্রিকাগুলো তন্ন তন্ন করে দেখতে হয়, নিউজ পাওয়া যায় না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা বাস্তবতা, কেনও এত দুর্বলতা কিসের জন্য। এই যে টাকা পাচার, মানি লন্ডারিং। এটা যে খালেদা জিয়ার ছেলেরা করেছে এটা তো আমরা বের করেনি একটা বেরিয়েছে আমেরিকা থেকে, আরেকটা সিঙ্গাপুর থেকে, টাকা আমার কিছু ফেরত এনেছিলাম, এগুলো তো মিথ্যা না। আর সৌদিতে যেসব সম্পদ পাওয়া গেছে, আপনাদের মনে রাখা উচিত। একবার সংবাদ হলো সৌদিতে খালেদা জিয়ার ১৫০টি স্যুটকেস নিয়ে যাওয়া, তখন প্রশ্ন উঠলো স্যুটকেসে কী আছে? তো, সেটা আপনারা সবাই ভুলে গেলেন। এটাই আমার প্রশ্ন, এর মধ্যে অনেকগুলো পত্রিকা আমি অনুমতি দিয়েছিলাম, কিন্তু সেই পত্রিকাগুলোর এতটুকু সৎসাহস হলো না কেন এই নিউজগুলো দেওয়ার।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনও প্রাইভেট চ্যানেল ছিলো না, একমাত্র বিটিভি ছিলো। কোনও সরকার সাহস পায়নি, একমাত্র আমি অনুমতি দিয়ে দিয়েছি। ৪৪টা চ্যানেলের মধ্যে অনন্ত ২৩টা চ্যানেল একনও চলছে, মাত্র ২টা চ্যানেল নিউজ দিয়েছে, বাকিরা মুখবন্ধ। সবার মুখে হয়তো সেরকম কিছু রসগোল্লা ঢুকিয়ে দিয়েছে, এজন্য সবাই মুখবন্ধ করে রেখেছে। আপনাদের প্রশ্নের আর কী জবাব দিবো বলেন আমাকে, এতটুকু সৎসাহস যদি না থাকে তবে আর কি উত্তর দেব, উত্তর দেওয়ার কিছু আছে বলেও মনে করি না।’

সদ্য সমাপ্ত কম্বোডিয়া সফরের ওপর এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

/এমও/

x