‘আমি দেখতে রোবটের মতো!’

পাভেল হায়দার চৌধুরী ১৯:১৭ , ডিসেম্বর ০৭ , ২০১৭

বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী (ছবি-বাসস)

বরাবরই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক মজা করে থাকেন, যা হাসির খোরাক জোগায় সিনিয়র সাংবাদিকসহ তার সংবাদ সম্মেলন কভার করতে যাওয়া গণমাধ্যম কর্মীদের। কম্বোডিয়া সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) আয়োজিত তার সংবাদ সম্মেলনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সংবাদ সম্মেলনের ফাঁকে ফাঁকে সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বক্তব্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ঘুরে যাওয়া রোবট সোফিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘সোফিয়ার সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে।’ এ সময় আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলে ওঠেন- ‘আপা, আপনাকে তো দেখতে অনেকখানি রোবট সোফিয়ার মতো।’ প্রধানমন্ত্রী হাসতে হাসতেই জবাবে বলেন, ‘তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন, আমি রোবটের মতো দেখতে!’ প্রধানমন্ত্রীর এই জবাবে সংবাদ সম্মেলন স্থলে হাসির রোল পড়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে একাত্তর টিভির সিইও মোজাম্মেল বাবু প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, ‘আপনি তো এখন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। বিশ্বের তিন জন সৎ সরকার প্রধানের একজন। বিদেশি মিডিয়াগুলো আপনাকে নিয়ে বড় বড় নিউজ করে।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলে ওঠেন, ‘নারে ভাই, আমি দেশের মাটিতেই আছি।’

মাছরাঙা টেলিভিশনের ইবতেসাম নাসিম মৌ প্রশ্ন করার আগে সাংবাদিকদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের অবতারণা করেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি আমাদের অনেক সময় বকাঝকা করেন। তবে আপনার বকায় মমতা থাকে, মায়া থাকে, স্নেহ থাকে।’ এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কই, আমি তো বকা দেইনি।’

এর আগে ‘সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার দুর্নীতি’ বিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশি গণমাধ্যমে কোনও সংবাদ প্রচার না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই দুর্নীতির খবরটি বিশ্বের গণমাধ্যম প্রচার করলো। কিন্তু আমাদের কোনও গণমাধ্যমে এটা আসেনি। মাত্র দুটো টিভি ও পত্রিকায় ছোট করে এটা দিয়েছে। যা দিয়েছে তা ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দিয়ে দেখতে হয়।’

প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেওয়ার পর সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দিয়ে থাকেন। এই প্রশ্নোত্তর পর্বটিই বেশি আকর্ষণীয় হয়ে থাকে এবং এখান থেকেই সংবাদের হেডলাইনগুলো হয়ে থাকে। বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনেও তিনি যথারীতি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তবে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগে ‘সাংবাদিকদের আকর্ষণ‘ বাড়াতে কিছুটা কৌশলী ভূমিকা নেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করার পরপরই হাসতে হাসতে বলে ওঠেন, ‘আমার বক্তব্য শেষ! আমি এখন চলে যাই, শেষ তো! আর সে জন্যই দ্রুত পঠন দিলাম।’ এ সময় মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমাদের কিছু কথা আছে। অবশ্য মাগরিবের নামাজেরও বেশি দেরি নেই।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজের সময় দেরি আল্লাহ ক্ষমার চোখে দেখেন। উদ্দেশ্য কী সেটা হলো আসল কথা।’ তারপর একে একে তিনি ১০ জনের মতো সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দেন।

 

/এপিএইচ/

x