প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুরের স্মৃতি

এমরান হোসাইন শেখ ১৪:৪১ , জানুয়ারি ১১ , ২০১৮

ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিচারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে সারাদেশে একযোগে তিন দিনের উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনের পর পাঁচটি জেলার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি।
এর মধ্যে চাঁদপুরের সঙ্গে কথা বলার সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা ছোটবেলায় স্টিমার ভ্রমণের স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ নদীপথে যাতায়াত করতাম। পদ্মা আর মেঘনার যে সংযোগস্থল সেখানে একটি নদীর পানি ঘোলা, আরেকটির পানি স্বচ্ছ। ছোটবেলায় স্টিমারে যাওয়ার সময় কখন দুটি নদীর পানি মিলে যাবে তা দেখার জন্য বসে থাকতাম।’
তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কারণে সড়কে যাত্রাপথে বিভিন্ন ধরনের খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ না পাওয়ার অতৃপ্তিও আছে তার। তিনি বলেন, ‘চাঁদপুরের রসগোল্লা ছিল খুব মজার। চাঁদপুর ঘাটে মাটির হাঁড়িতে রসগোল্লা পাওয়া যেতো। সেটা খেয়ে খুব মজা পেতাম।’ 

হুইসেল দিলেই দৌঁড় 

স্টিমার ভ্রমণের সময় চাঁদপুরের স্মৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদপুর স্টিমার ঘাটে ছিল পেটচুক্তি খাবার। এখানে একটা চালাকি ছিল! স্টিমারের সঙ্গে হোটেল মালিকদের সংযোগ থাকতো। হোটেল মালিকরা বলতো পেটচুক্তি খান। কিন্তু খেতে বসলেই স্টিমারে দিতো হুইসেল। আর হুইসেল শুনে সবাই আধা খেয়েই দৌড় দিতো। তখন আর পেটচুক্তি খাওয়া লাগতো না। ছোটবেলার এমন অনেক ঘটনাই মনে আছে।’ 

প্রধানমন্ত্রী হয়ে কপাল পুড়েছে! 

চাঁদপুর স্টিমার ঘাটের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যারা ছোটবেলায় স্টিমারে যাতায়াত করেছি তাদের অনেক সুন্দর সুন্দর স্মৃতি আছে। এখন তো রাস্তাঘাট হয়ে গেছে। তাই গাড়িতে যাতায়াত করেন সবাই। স্টিমার যাত্রার সেই সুযোগ আর নেই। আর সড়কপথে যাওয়ার সময় ফেরিতে তাজা মাছ ধরে রান্না করে খেতে খেতে চলে আসতাম। সেতু হয়ে যাওয়ায় সেই সৌভাগ্যও এখন হয় না। আর প্রধানমন্ত্রী হয়ে তো কপাল আরও পুড়েছে! চাইলেও একা রাস্তায় যেতে পারি না। এখন তো কোথাও গেলে উড়ে যেতে হয়। এ কারণে পথের সেই আনন্দ আর পাওয়া যাচ্ছে না। আগে রাস্তায় যাওয়ার সময় কোন ঘাটের কোন মিস্টি ভালো, কোনও খাবার ভালো, কোথাকার পিঁয়াজুটা ভালো; এসব খবর পেতাম। এখন আর এসব কপালে জোটে না। এটাই দুঃখ।’ 

চাঁদপুরের চাঁদের হাট! 

এদিন প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের সবশেষ জেলা ছিল চাঁদপুর। এর আগে গাইবান্ধা জেলার জনগণের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আপনারা (গাইবান্ধা জেলা) ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত থাকুন। আমরা এরপর চাঁদপুর জেলার সঙ্গে কথা বলবো। দেখি চাঁদপুরে চাঁদের হাট কেমন বসেছে!’

শেখ হাসিনার এই মন্তব্যে গণভবনসহ ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত জেলা-উপজেলার জনগণের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়। পরে ভিডিও কনফারেন্সে চাঁদপুরের ব্যাপক উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদপুরের চাঁদের হাট ভালোই বসেছে। এজন্য সবাইকে আমি অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।’

ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)পুকুরে ইলিশ চাষের অপেক্ষায়
চাঁদপুরে একজন মৎস্যজীবীর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘চাঁদপুর ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত। এখানে একটি ইলিশ গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে গবেষণাও হচ্ছে। আমরা অপেক্ষায় আছি, পুকুরে কবে ইলিশ মাছ চাষ করা যাবে। তা অবশ্য সম্ভব নয়। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইলিশ মাছ আমাদের সম্পদ। আমরা চাই, এর উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।’

‘আপনারা মাছ না ধরলে আমরা খাবো কী?’
চাঁদপুরের ওই মৎস্যজীবী তাদের পেশার মানুষের ছেলেমেয়েদের জন্য পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মৎস্যজীবীরাও যে মানুষ আপনি সেই স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমাদের জন্য স্কুল-কলেজে ভর্তির কোটার ব্যবস্থা করে দিলে ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারবে। তাহলে ওরা এই পেশার পরিবর্তে অন্য কিছু করতে পারবে।’

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় তো কোনও বাধা নেই। আমরা চাই প্রত্যেকে লেখাপড়া করবে। এখন তো আধুনিক যুগ। আপনাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে উন্নত পদ্ধতিতে মাছ ধরতে পারবে। তার প্রশিক্ষণও দেওয়া যেতে পারে। আপনারা যদি বলেন আপনাদের ছেলেমেয়েরা মাছ ধরবে না, তাহলে আমরা মাছ পবো কোথায়? তাহলে আমরা মাছ খাবো কীভাবে? আমাদের যার যার পেশা ঠিক রাখতে হবে। তবে লেখাপড়া শিখিয়ে উপযুক্ত করে তুলতে হবে, যাতে তারা আধুনিক পদ্ধতিতে কাজটা করতে পারে।’

হবিগঞ্জ কথা শুনে চায়ের ইচ্ছে
ঝিনাইদহের পর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হবিগঞ্জে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। চায়ের জন্য প্রসিদ্ধ হবিগঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হবিগঞ্জের চা তো নামকরা। শীতের সকালে, এখনই সবার মনে হচ্ছে এককাপ চা পান করি। চায়ের কথা শুনে সবার চা খেতে ইচ্ছে হচ্ছে। কী সবার ইচ্ছে করছে না? হবিগঞ্জের কথা শুনে তো নিশ্চয়ই চা খাওয়ার কথা মনে হবে।’ এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার জন্য চা পরিবেশনের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। শিগগিরই তিনি ওই অঞ্চলে যাবেন বলে জানান।

/জেএইচ/

x