আট ব্যাংকের পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে রাস্তায় চাকরিপ্রার্থীরা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১২:২৫ , জানুয়ারি ১৪ , ২০১৮

আট ব্যাংকের পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধনসরকারি আট ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল চেয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরীক্ষায় অব্যবস্থাপনা, প্রশ্নফাঁসসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে তারা এ মানববন্ধন করেন। এর আগে গত শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) অধীনে সরকারি আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

রবিবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করতে যান আন্দোলনকারীরা। তবে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে পরীক্ষার্থীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করেন। ফেসবুকে ‘আট ব্যাংকের পরীক্ষা বাতিল চাই' নামে গ্রুপ খুলে সংগঠিত হয়েছেন তারা।

আট ব্যাংকের পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধনমানববন্ধনে পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এমন প্রহসনের পরীক্ষা বাতিল করতে হবে। প্রশ্নফাঁস হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করে পরীক্ষা দিয়েছে। কোনও কেন্দ্রে সিট প্ল্যান ছিল না। ঠাসাঠাসি করে বসে দেখাদেখি করে পরীক্ষা দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। সবখানেই ছিল আসন অব্যবস্থাপনা। হযরত শাহ আলী কলেজে পরীক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আসন ছিল না।  সেখানে ৫ হাজার ৬০০ পরীক্ষার্থী পরীক্ষাই দিতে পারেননি। দনিয়া কলেজে পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট পর প্রশ্ন এসেছে। পরীক্ষা শুরু হয়েছে আরও পরে। এই  সব কিছুর প্রমাণ রয়েছে পরীক্ষার্থীদের কাছে।  

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি বিলুপ্ত করে পিএসসির আদলে আলাদা করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে পরীক্ষা নিতে হবে। ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেন খানকে পদত্যাগ করতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিট প্ল্যান নিশ্চিত করতে হবে। বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোকে কেন্দ্র তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। কেন্দ্রগুলোয় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করতে হবে। ঢাকা কেন্দ্রীক নয়, বিভাগীয় শহরে পরীক্ষার কেন্দ্র দিতে হবে।

আট ব্যাংকের পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধনউল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি রাজধানীর শাহ আলী মহিলা কলেজে ৫ হাজার ৬০০ পরীক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গা ছিল না। মাত্র ৩০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকা কক্ষে গাদাগাদি করে এক থেকে দেড়শ’ পরীক্ষার্থীকে বসতে দেওয়া হয়। লাইব্রেরি কক্ষ, সেমিনার কক্ষ, শিক্ষকদের মিটিং রুমে গাদাগাদি করে বসতে দেওয়া হয়। শিক্ষকদের অফিসরুম এমনকি প্রিন্সিপালের নিজের চেয়ারে বসতে দেওয়া হয় পরীক্ষার্থীদের। এরপরও শত শত পরীক্ষার্থী বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন। তারা জায়গা পাননি। এমন অব্যবস্থাপনার কারণে পরীক্ষার্থীরা কলেজটির জানালা দরজা ভাঙচুর করে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলে। বাধ্য হয়ে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেন খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেন। আগামী ২০ জানুয়ারি শুধু ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দনিয়া এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট পর প্রশ্নপত্র এসে পৌঁছায়।

 

/আরএআর/এসও/এসএসএ/এফএস/

x