আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সোমবার শাহবাগে সমাবেশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৮:০১ , জানুয়ারি ১৪ , ২০১৮





আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন সরকারি আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অব্যবস্থাপনাসহ নানা অভিযোগে ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পরীক্ষাটি বাতিলের দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় তারা সমাবেশ করবেন। আন্দোলনের সমন্বয়ক জলি রানী কর বাংলা ট্রিবিউনকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

জলি রানী কর বলেন, ‘যে পরীক্ষায় কক্ষে কোনও সিট প্ল্যান থাকে না, একই বেঞ্চে ঠাসাঠাসি করে পরীক্ষার্থীদেরকে বসানো হয়; সবাই দেখে দেখে লেখার সুযোগ পায়— সেটা কোনও পরীক্ষাই নয়। আমরা এমন বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল চাই।’

আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন জলি রানী কর আরও বলেন, ‘আমরা রবিবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে মতিঝিল শাপলা চত্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করবো বলে জড়ো হই। কিন্তু পুলিশ সেখানে মানববন্ধন করতে দেয়নি। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সামনে যাই। ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পরীক্ষাটির দায়িত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক মহিউদ্দিন। তাকে পরীক্ষাটি বাতিলের দাবি জানাতে গেলেও আমরা তাকে বিভাগে পায়নি। পরে ফিরে এসেছি। আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশ করবো। পরে ঢাবির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক মহিউদ্দিনকে স্মারকলিপি দেব।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এমন প্রহসনের পরীক্ষা বাতিল করতে হবে। প্রশ্নফাঁস হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে। কোনও কেন্দ্রে সিট প্ল্যান ছিল না। ঠাসাঠাসি করে বসে, দেখাদেখি করে পরীক্ষা দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। সবখানেই ছিল আসন অব্যবস্থাপনা। হযরত শাহ আলী কলেজে পরীক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আসন ছিল না। সেখানে ৫ হাজার ৬০০ পরীক্ষার্থী পরীক্ষাই দিতে পারেননি। দনিয়া কলেজে পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট পর প্রশ্ন এসেছে। পরীক্ষা শুরু হয়েছে আরও পরে। এসবের প্রমাণ রয়েছে পরীক্ষার্থীদের কাছে।

আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি বিলুপ্ত করে পিএসসির আদলে আলাদা করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে পরীক্ষা নিতে হবে। ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যসচিব মোশাররফ হোসেন খানকে পদত্যাগ করতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিট প্ল্যান নিশ্চিত করতে হবে। বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোকে কেন্দ্র তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। কেন্দ্রগুলোয় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করতে হবে। ঢাকা কেন্দ্রীক নয়, বিভাগীয় শহরে পরীক্ষার কেন্দ্র দিতে হবে।

গত ১২ জানুয়ারি রাজধানীর শাহ আলী মহিলা কলেজে ৫ হাজার ৬০০ পরীক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গা ছিল না। মাত্র ৩০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকা কক্ষে গাদাগাদি করে এক থেকে দেড়শ’ পরীক্ষার্থীকে বসতে দেওয়া হয়। লাইব্রেরি কক্ষ, সেমিনার কক্ষ, শিক্ষকদের মিটিং রুমে গাদাগাদি করে বসতে দেওয়া হয়। শিক্ষকদের অফিসরুম এমনকি প্রিন্সিপালের নিজের চেয়ারে বসতে দেওয়া হয় পরীক্ষার্থীদের। এরপরও শত শত পরীক্ষার্থী বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন। তারা জায়গা পাননি। এমন অব্যবস্থাপনার কারণে পরীক্ষার্থীরা কলেজটির জানালা দরজা ভাঙচুর করে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলে। বাধ্য হয়ে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যসচিব মোশাররফ হোসেন খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেন। আগামী ২০ জানুয়ারি শুধু ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দনিয়া এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট পর প্রশ্নপত্র এসে পৌঁছায়।

আরও পড়তে পারেন: আট ব্যাংকের পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে রাস্তায় চাকরিপ্রার্থীরা

 

/আরএআর/এনআই/

x