তিন দিনের মধ্যেই লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে: বিমানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৭:৩০ , মার্চ ১৪ , ২০১৮

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখছেন বিমানমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামালইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের লাশ শনাক্তের পর আগামী তিন দিনের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে। নেপালে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বুধবার (১৪ মার্চ) বিকালে এ তথ্য জানান বিমানমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্ত যেখানে হয় সেখানেও আমরা গিয়েছিলাম। তারা আমাদের নিশ্চিত করেছেন, তিন দিন পরেই লাশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

বিমানমন্ত্রী জানান, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেস্ট শেষে লাশ শনাক্তের পর হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান তাকে জানিয়েছেন, যেসব লাশের পরিচয় পাওয়া যাবে, চাইলেই তা হস্তান্তর করা হবে। কোনও আইনি জটিলতা যেন না থাকে তাও তারা দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

মন্ত্রীর ভাষ্য, ‘নাম-পরিচয় দিয়ে স্বজনরা আমাদের দূতাবাসের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ফরম পূরণ করে দেবেন। আমরা রাষ্ট্রদূতকে দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি এ ব্যাপারে তৎপর থাকবেন। যে লাশ আগে শনাক্ত হয়ে যাবে কিংবা যার চেহারা বোঝা যাবে, আমাদের রাষ্ট্রদূত সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ডিএনএ টেস্ট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চিকিৎসকদের নেপালে পাঠাবেন।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত কমিটিতে আমাদেরও তিনজন সদস্য আছেন। নেপাল কর্তৃপক্ষের লোকও আছেন। এটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তদন্ত শেষ হতে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এক সপ্তাহের মধ্যে যেন আমরা তদন্ত প্রতিবেদনগুলো পাই সেজন্য নেপাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলে দেবেন।’

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখছেন বিমানমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামালনেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরটি ভৌগোলিক কারণে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনও দাবি আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘নেপালিরা কিন্তু নিজেদের বিমানবন্দরকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেননি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের পর সবকিছু জানাবেন।’

একেএম শাহজাহান কামালের কথায়, ‘আমরা এতটুকু জানি, তদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে আমারও বুঝতে পারবো। কারণ, পাইলট (আবিদ সুলতান) ভুল করলো, নাকি উড়োজাহাজে কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ ছিল, তা তো তারাও বলতে পারেন না, আমরাও বলতে পারি না।’

আহতদের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে বিমানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে সবাই বাইরে চিকিৎসা নিতে চাইলে করাতে পারবেন। তবে বিমান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করাতে চাইলে তা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।’
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) বাংলা ট্রিবিউনকে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. প্রমোদ শ্রেষ্ঠা। তিনি জানান, ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের ময়নাতদন্তের তথ্যের সঙ্গে স্বজনদের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখার পর শনাক্ত করা গেলেই লাশ হস্তান্তর করা হবে। এরপরও শনাক্ত করা না গেলে ডিএনএ পরীক্ষা করে লাশ হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ লাশ ঝলসে গেছে। শনাক্ত করা খুব কঠিন।’

ডা. প্রমোদ শ্রেষ্ঠার কথায়, ‘বাংলাদেশ থেকে আসা স্বজনদের অ্যান্টিমর্টেম ফরম পূরণ করে দিতে বলেছি। পরিবারের সদস্যরা মৃত ব্যক্তিদের বিষয়ে যে অ্যান্টিমর্টেম ডাটা দিয়েছেন, সেগুলো ধরে ধরে সংগ্রহ করছি। যেমন ধরুন—উচ্চতা, ওজন, চোখের রঙ, কোনও ব্যক্তিগত অলঙ্কার, ট্যাটু বা যেকোনও চিহ্ন। দাঁতের চিকিৎসা করানো থাকলেও ময়নাতদন্তে কাজে আসবে। আমরা ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর অ্যান্টিমর্টেম ডাটার সঙ্গে মেলানোর কাজটি করবো। যদি এটাতেও না হয় তাহলে ফিঙ্গারপ্রিন্টের দিকে যাবো। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়তো আরও তিন চারদিন লেগে যাবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের সঙ্গে স্বজনদের তথ্য মিলিয়ে চিহ্নিত করা গেলে পুলিশকে জানানো হবে। এরপর বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’

গত ১২ মার্চ চার ক্রু ও ৬৭ যাত্রীসহ ৭১ জন আরোহী নিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে পৌঁছায়। অবতরণের সময় এতে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানবন্দরের কাছেই একটি ফুটবল মাঠে সেটি বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫০ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ২৬ জন। এছাড়া বেঁচে আছেন আরও ১০ বাংলাদেশি।

/জেইউ/জেএইচ/চেক-এমওএফ/

x