ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মেয়াদ বাড়লো আরও ৬ মাস

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২১:১৭ , মার্চ ১৪ , ২০১৮

ভারতের খোলা বাজার থেকে কেনা ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির মেয়াদ আবারও ছয় মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইরে ১৬২ মেগাওয়ায়াট ক্ষমতার ডুয়েল-ফুয়েলভিত্তিক আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবসহ ছয়টি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (১৫ মার্চ) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ আমদানিক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খোলা বাজার থেকে কেনা ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা পাঁচ টাকা ৯৮ পয়সা ট্যারিফ মূল্যে এ বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জানান, এ বিদ্যুৎ আমদানিতে ছয় মাসে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৬১৬ কোটি টাকা। দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান পিটিসি ইন্ডিয়া লিমিটেডের মাধ্যমে এ বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত হয়। তিন বছর মেয়াদে পিটিসির সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পিটিসি ইন্ডিয়া লিমিটেডের আবেদনের পেরিপ্রেক্ষিতে সরকারের অনুমোদনে আলোচ্য চুক্তির মেয়াদ ছয় মাস করে তিন বার বাড়ানো হয়। গত ৩১ জানুয়ারি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি অব্যাহত রাখার স্বার্থে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইরে ১৬২ মেগাওয়াট ক্ষমতার ডুয়েল-ফুয়েলভিত্তিক আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। চায়না কোম্পানি কনসোর্টিয়াম অব চ্যাংজু হু টাং কোল পাওয়ার লিমিটেড (Consortium of Changzhou Hu Tang coal power Ltd) এবং বাংলাদেশের কোম্পানি বাংলাদেশ অ্যান্ড চেস পাওয়ার লিমিটেড এ কেন্দ্র স্থাপন করবে। ১৫ বছর মেয়াদী এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরকার আট টাকা ২৮ পয়সায় প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ কিনবে।’

অতিরিক্ত সচিব জানান, এলজিইডির বাস্তবায়নাধীন পল্লী সড়ক গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলাধীন জগন্নাথকাঠি চন্দনকাটি জিসি সড়কে ১৫ হাজার ৩৫০ মিটার চেইনেজে কালীগঙ্গা নদীর উপর ৬০০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ কাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকার লালমাটিয়া নিউকলোনিতে সাতটি জরাজীর্ণ ভবনের স্থলে ১২০টি (সংশোধিত ১৩০টি) আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণ কাজের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আট কোটি ৬৯ লাখ টাকা বেড়ে বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৪১ কোটি ৪৭ লাখ টাকায়।

এছাড়াও বৈঠকে ‘কুমিল্লা (টমছম ব্রিজ) নোয়াখালি (বেগমগঞ্জ) আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর এক ও প্যাকেজ নম্বর তিন এর আলাদা দুটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৯৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এক নম্বর প্যাকেজটি বাস্তবায়ন করবে শামিম এন্টারপ্রাইজ এবং ১৯৪ কোটি টাকা ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্যাকেজ-৩ বাস্তবায়ন করবে তাহের ব্রাদার্স লিমিটেড।

অতিরিক্ত সচিব জানান, বৈঠকে এনইপিসি কনসোর্টিয়াম পাওয়ার লিমিটেড পরিচালিত হরিপুর ১১০ মেগাওয়াট ডুয়েল-ফুয়েলভিত্তিক বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আরও দুই বছর বিদ্যুৎ ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এই কেন্দ্র থেকে আরও দুই বছর ১৫ টাকা ৪৪ পয়সায় প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ কিনবে সরকার।

/এসএমএ/এমও/

x