হতাহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২১:২১ , মার্চ ১৪ , ২০১৮

 

গণভবনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনানেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’ বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের এক জরুরি যৌথসভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিমান দুর্ঘটনার আগে চারদিনের সফরে সিঙ্গাপুর ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিমান দুর্ঘটনার পরপরই আমি সিঙ্গাপুর সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসি। আমার মনে হয়েছিল, এই সময় আমার দেশে থাকা প্রয়োজন। কারণ বহু বছর আমাদের দেশে এরকম ঘটনা ঘটেনি। আমি বুধবার দেশে ফিরে এসে বৃহস্পতিবার সকালে মিটিং করেছি। সেখানে তিন বাহিনী প্রধান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই ছিলেন। একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছি। আগামী শুক্রবার দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনাসভা করা হবে।’

জরুরি এ বৈঠকের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি গতকাল এয়ারপোর্টে নামার পরপরই আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদককে বলি, ঢাকায় যারা আছে, তাদের সবাইকে নিয়ে আমি বসতে চাই। আমরা এখন শোক প্রস্তাব নেবো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কী করণীয়, এ ব্যাপারে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবো।’

বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘নেপালে একটি মেডিক্যাল টিম ও ডিএনএ সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ টিম পাঠানো হচ্ছে। কারণ, আগুনে পোড়া কিছু লাশ ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া শনাক্ত করা কঠিন। এছাড়া আমরা নেপালে খুব বেশি লোক পাঠাতে পারবো না। কারণ তাদের ওপর চাপ পড়ে যাবে। তবে যা যা লাগবে, তার সহায়তা আমরা দেবো।’

বিমান দুর্ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যের বিষয়’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা নিহত হয়েছে, তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য আমি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার আমাদের দলীয় এমপি ও নেতাদের নিদের্শ দিয়েছি। তাদের কী প্রয়োজন, কী সহায়তা করা যেতে পারে, সে ব্যাপারে দেখা করে খোঁজ নিতে বলেছি।’ তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তা, আমাদের দলের সিআরআই-এর ৫ নম্বর অফিসে কাজ করতো একটা ছেলে, তার স্ত্রী ও বাচ্চা, সবাই মারা গেছে।’

আহতদের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আহতদের অবস্থা খুবই খারাপ। অনেকের অবস্থা এমন যে, ওখান থেকে নিয়ে আসারও উপায় নেই। ইতোমধ্যে আমাদের বিমানমন্ত্রী নেপালে গেছেন। নেপালের প্রধামন্ত্রীর সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন। করণীয় বিষয়ে আলোচনা করছেন তিনি ‘

নেপাল এয়ারপোর্টকে অত্যন্ত দুর্ঘটনাপ্রবণ এয়ারপোর্ট মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে ৭০ বার দুর্ঘটনা ঘটেছে ওখানে।’ তিনি বলেন, ‘নেপালের কিছু শিক্ষার্থী ছিল ওই বিমানে। তারা আমাদের দেশে মেডিক্যালে পড়ে ডাক্তার হতে এসেছিল। এমবিবিএস পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিল। আজকে তারাও নেই। ফুল না ফুটতেই ঝরে গেলো। ’

গণভবনের এই বৈঠকে দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এইচ টি ইমাম, মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, ওবায়দুল কাদের, রাশিদুল আলম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, খালিদ মাহমদু চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফরিদুন্নাহার লাইলী, দেলোয়ার হোসোন, এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ।  

/পিএইচসি/এমএনএইচ/

x