‘চোখ বেঁধে টেনেহিঁচড়ে আমাদের গাড়িতে তোলে ’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৬:৪৯ , এপ্রিল ১৬ , ২০১৮

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র অধিকার রক্ষা পরিষদের তিন যুগ্ম আহ্বায়কের সংবাদ সম্মেলন

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির তিন ‍যুগ্ম আহ্বায়ক দাবি করেছেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গেলে তাদের চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। তারা বলেন, সোমবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আমরা একটি রিকশায় করে ঢামেক হাসপাতালে আন্দোলনকারী আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যাই। কিন্তু হাসপাতালের সামনে পৌঁছামাত্রই আমাদের রিকশা থেকে জোর করে নামিয়ে চোখ বেঁধে টেনেহিঁচড়ে কালো কাচ দেওয়া সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ছাড়া পাওয়ার পর বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির তিন যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, নুরুল হক ও ফারুক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সারাদেশে কমিটির নেতারা, সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমাদের ওপর জীবননাশের হুমকি আছে। শুধু তাই নয়, আমাদের পরিবারও হুমকির মুখে আছে। এ অবস্থায় আমরা সরকারের কাছে পরিবারসহ কমিটির সব সদস্যের নিরাপত্তা দাবি জানাচ্ছি।’
যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, ‘আজ (সোমবার) দুপুর ১২টার পরে সংবাদ সম্মেলন শেষে ঢাকা মেডিক্যালে আহত আন্দোলনকারী ছাত্রদের দেখতে যাই। মেডিক্যালের (ঢামেক হাসপাতাল) জরুরি বিভাগের গেটে পৌঁছালে কালো গ্লাসের দুটি হায়েস গাড়ি ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন আমাদের আটকিয়ে রিকশা থেকে নামায়, টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তোলে। পরে আমাদের গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে ফেলে। তখন তারা বলে, আমাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হবে। ভিডিও দেখানো হবে। কিন্তু নিয়ে গিয়ে কিছুই বলেনি। কোনও কথা জানতেও চাওয়া হয়নি, ভিডিও দেখানো হয়নি। শুধু বলেছে, আমাদের ওপর নাকি হামলার আশঙ্কা ছিল, তাই তুলে নিয়ে এসেছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছ থেকে যদি তথ্য নেওয়ার প্রয়োজন থাকত, তাহলে আমাদের ডাকলে স্বেচ্ছায় যেতাম। কিন্তু, এভাবে চোখ বেঁধে তুলে নেওয়ার কারণ কী?’

নুরুল হক বলেন, ‘আমাদের তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেবেছি আর হয়তো জীবিত ফিরতে পারবো না।’

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী তিন নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সতীর্থদের মিছিল

ছেড়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাইল তিনি বলেন, ‘আমাদের যখন তুলে নেওয়া হয় তখন আমাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন বিষয়টি দেখে ফেলেছিল। বিষয়টি নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ায় নিউজ হওয়ার ঘটনায় তারা তোপের মুখে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। না হলে হয়তো আজ আমরা পৃথিবীর আলো আর দেখতে পেতাম না।’

নুরুল হক আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিলের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাকে স্বাগত জানিয়ে আমরা আনন্দে মিছিল করে আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু আজ আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন মহল থেকে আমাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার নিন্দা জানাই।’  

আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘আজ আমাদের তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার বাবাকে ঝিনাইদহ সদর থানায় নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। তাকে দিয়ে জোর করে স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে আমি শিবির করি, আমার বাবা জামায়াতের লোক। কিন্তু, আজ যদি সাধারণ ছাত্র হিসেবে আমি ন্যায্য দাবি করি, তাহলে এভাবে হয়রানি কেন করা হবে? আমি কি আমার অধিকার চাইতে পারি না? আমি কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নই। তাহলে কেন শিবির আপবাদ দেওয়া হবে? আজ আমরা হুমকির মুখে, আমাদের নিরাপত্তা দিতে হবে।’

নুরুল হক বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সারাদেশে কমিটির নেতারা, সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের ওপর জীবননাশের হুমকি আসছে। শুধু তাই নয়, আমাদের পরিবারও হুমকির মুখে আছে। ফলে সরকারের কাছে পরিবারসহ কমিটির সব সদস্যের নিরাপত্তার দাবি জানাই।

এদিকে, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে ঢাবি ক্যাম্পাসে বিকাল ৪টায় প্রতিবাদ মিছিল বের করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।

/আরএআর/টিএন/চেক-এমওএফ/

x