শেখ হাসিনার ৩৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ০১:২০ , মে ১৭ , ২০১৮

১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর শেখ হাসিনা (ছবি- সংগৃহীত)

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ (বৃহস্পতিবার)। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তিনি দেশের মাটিতে ফিরে আসেন। ওই দিন বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে তাকে একনজর দেখার জন্য কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত এলাকাজুড়ে লাখো জনতার ঢল নামে।

সেদিন মিছিলের শহরে পরিণত হয় রাজধানী ঢাকা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিল-স্লোগানে মুখরিত হয়। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টিও লাখ লাখ মানুষের মিছিলের গতিরোধ করতে পারেনি। সব প্রতিকূলতা উড়িয়ে দিয়ে কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণী প্রদান করেছেন। বাণীতে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের অব্যাহত সাফল্যসহ তার নিজের ও পরিবারের সব সদস্যের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি অর্জনসহ মাথাপিছু আয় বাড়ছে, কমছে দারিদ্র্যের হার। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ একটি যুগান্তকারী ঘটনা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করতে তিনি ‘ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে শেখ হাসিনার এসব যুগান্তকারী কর্মসূচি বাংলার ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আজ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ সময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দলের কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর শেখ হাসিনা (ছবি- সংগৃহীত)

শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য উপস্থিত প্রায় ১৫ লাখ মানুষের হৃদয়ছোঁয়া ভালোবাসার জবাবে সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসাবে, মেয়ে হিসাবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসাবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।’

গত বছর (২০১৭) তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ওই দিনটির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমি চিন্তাও করিনি কোথায় থাকব, কোথায় উঠব। দুটো স্যুটকেস হাতে নিয়ে ফিরে আসলাম। তখন শুধুই একটাই চিন্তা। দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে হবে। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন বাংলাদেশ থেকে যাই, তখন মা-বাবা ভাই সব ছিল। রাসেল বিদায় দিতে এয়ারপোর্টে গিয়েছিল। ফিরে এসে লাখো মানুষের ভালোবাসা পেলাম। কিন্তু আমার ভালোবাসার মানুষগুলোকে পেলাম না। পেলাম বনানী কবরস্থানে সারি সারি কবর। এই পরিস্থিতি আমার জন্য কঠিন ছিল।’

দেশে ফেরার পরের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে ৩২ নম্বরে ঢুকতে দেয়নি। রাস্তায় বসে মিলাদ পড়ি। জিয়ার (তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) নির্দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দরজার সামনে বসে থাকতাম। ওই লেকের পাড়ে বসে থাকতাম।’

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে দেশ ও জাতির কল্যাণে, গণতন্ত্রের উন্নয়নে ও আধুনিক এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য শেখ হাসিনার সুন্দর জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দেশব্যাপী এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের নেতাকর্মী, সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

/ইএইচএস/এএইচ/চেক-এমওএফ/

x