রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়ক পরিবেশ দেখতে চায় বাংলাদেশ

শেখ শাহরিয়ার জামান ০১:৪৮ , মে ১৭ , ২০১৮

রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহায়ক পরিবেশ দেখতে চায় বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ মে) রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার বৈঠকে এ বিষয়ে জোরালোভাবে জানতে চাইবে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কর্মকাণ্ড চলছে- এটি আমরা দেখতে চাই।’ যদি কোনও অগ্রগতি না থাকে তবে রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে রাজি হবে না বলে তিনি মনে করেন। তাই এ বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে মিয়ানমারের কাছে বাংলাদেশ জানতে চাইবে বলেও জানান তিনি।

জানা যায়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের দ্বিতীয় সভা আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক। মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন তাদের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি মিন্ট থো।

এ প্রসঙ্গে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সময়ভিত্তিক সেটেলমেন্ট পরিকল্পনা দেখতে চাই, যার অধীনে রোহিঙ্গারা ফেরত যাবে। সেক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের আইনি অধিকার, বাস্তু সুবিধা, চলাফেরার স্বাধীনতা, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধার বিষয়েও বাংলাদেশ জানতে চাইবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের কীভাবে তাদের সম্পত্তির অধিকার ফেরত দেবে। মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী, কোনও বাড়ি পুড়ে গেলে সেটি রাষ্ট্রের সম্পত্তিতে পরিণত হয়।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মিয়ানমার জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে যাতে করে তারা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং আমরা এ বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চাইবো।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা ইউএসএআইডি-এর প্রধান মার্ক গ্রিন সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি বাংলাদেশে এসে কী দেখেছেন, সে ব্যাপারে মিয়ানমারে গিয়ে তাদের নেতাদের জানাবেন। প্রসঙ্গত , গ্রিন ১৪ মে ঢাকায় এসেছেন এবং পরের দিন কুতুপালং ও বালুখালি ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর আগ্রাসনের মুখে ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। গত ২৫ আগস্টের পরে ৩০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী, ৩৬ হাজার অনাথ এবং বাবা ও মা উভয়ই নিখোঁজ এমন সাত হাজার ৮০০ শিশু বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

 

/এসএসজেড/এএইচ/চেক-এমওএফ/

x