সৌদি আরব থেকে ফেরা নারী শ্রমিকের সংখ্যাকে ‘বিপুল’ বানিয়েছেন সাংবাদিকরা: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৬:৫৫ , জুন ১২ , ২০১৮

বক্তব্য রাখছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম (ছবি: সংগৃহীত)প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলামের দাবি, ‘সৌদি আরব থেকে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক ফিরে আসেননি। বিপুল আপনারা সাংবাদিকরা করেছেন। এক লাখ নারী শ্রমিক থেকে ৩ হাজার ফিরে এলে তাকে বিপুলসংখ্যক বলা যাবে না। যারা আসছে, তারা কেন ফিরছে, তা আগে খতিয়ে দেখেন। এরপর আমরা এ বিষয়ে উত্তর দেবো।’ মঙ্গলবার (১২ জুন) সকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নিরাপদ অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্যচিত্রের উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রীর ভাষ্য, ‘অভিবাসন খাতে অসাধু দালালদের চিহ্নিত করে তাদের নিগৃহীত করুন। অভিবাসী কর্মীদের প্রতারিত বা হয়রানি করলে সে যেই হোক, তাকে শাস্তি পেতে হবে। আমাদের কর্মীরা ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু অদক্ষতা, ভাষা জ্ঞান না থাকা, চুক্তিপত্র না বোঝা, দালালের খপ্পরে পড়াসহ বিভিন্ন কারণে এসব নিরীহ ও দরিদ্র মানুষের একটি অংশ প্রতারণার শিকার হন।’

সাধারণ মানুষকে অনিয়ম করে পাঠিয়ে দিয়ে বিপদে ফেলার অভিযোগ পেলে দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, দালালদের নিবৃত করা না গেলে প্রবাসে নির্যাতনের ঘটনা আরও বাড়বে। তার কথায়, “দালালের খপ্পরে পড়ে বিভিন্ন উপায়ে অনেকেই বিদেশে যায়। এর মধ্যে গতকাল ও পরশু অনেকেই ফেরত এসেছেন। তারা কিন্তু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যায়নি। তারা গিয়েছে দালালের মাধ্যমে, কমিশন পেয়ে দালাল তাদেরকে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে চাকরি পায়নি। ফলে তাকে সেফহোমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে তাদের ‘রিপ্যাট্রিয়েট’ করে দেশে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে।”

দালালদের পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দালাণদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের চিহ্নিত করা না গেলে নির্যাতনের ঘটনা আরও বাড়বে। আমাদের নারীদের কষ্ট আরও বাড়বে, যার সীমা সহ্যের সীমাকেও অতিক্রম করতে পারে। যারা দালালি করেন তারা আমাদের এসব মানুষকে কেন কষ্ট দেন? এরা তো আপনাদেরই পরিচিত লোক। যারা বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করছেন, তারা ঠিকঠাকভাবে করেন। যেখানে চাকরি আছে ওখানে পাঠান, যেখানে অত্যাচার নির্যাতন নেই সেখানে পাঠান। যেখানে চাকরি নেই সেখানে পাঠিয়ে শুধু শুধু কষ্ট বাড়াবেন না আমাদের মানুষদের। আমরা আগামীতে এরকম কোনও তথ্য ও অভিযোগ পেলে মন্ত্রণালয় থেকে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবো। প্রয়োজনে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং জনশক্তি,কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদনা চুক্তিস্বাক্ষর করেন প্রবাসী কল্যাণ সচিব নমিতা হালদার এনডিসি ও অন্যান্য সংস্থার প্রধানরা। সচিবের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আমিনুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস এনডিসি, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজা, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরণ কুমার চক্রবর্তী এবং তথ্যচিত্র নির্মাতা ও শ্রম অভিবাসন বিশেষজ্ঞ হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

অভিবাসী হতে ইচ্ছুকরা যেন প্রতারণার শিকার না হন সেই লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র। এবারের ফিফা বিশ্বকাপ খেলার সময় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে এটি দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

/এসও/জেএইচ/

x