তিন জেলায় নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক ১৫:১৫ , জুন ১৩ , ২০১৮

হবিগঞ্জে বিপদসীমার ওপরে খোয়াই নদীর পানিহবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ফেনীতে বেশ কয়েকটি নদীতে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এসব নদীর পানি আরও বাড়ছে। নদীর পানি উপচে বেশ কয়েক জায়গায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

হবিগঞ্জ:

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ শহর ঘেঁষে বয়ে যাওয়া খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নদীর পানি বাড়তে থাকে। ফলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জ শহরসহ আশপাশের গ্রামগুলো।হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে

এদিকে খোয়াই নদীর পানি বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। শহরের অনেক লোকজন খোয়াই নদীর বাঁধের ওপর রয়েছে। কোনও স্থানে যাতে ফাটল সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর রাখছে স্থানীয়রা।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টা থেকে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই মুহূর্তে শহরবাসী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। জরুরিভাবে মোকাবিলা করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড অতিরিক্ত বালির বস্তা মজুত রেখেছে, যাতে বাঁধের কোনও স্থানে লিকেজ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক মেরামতের ব্যবস্থা করা যায়।’

মৌলভীবাজার:

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মনু নদী এবং কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসী বাঁধরক্ষার চেষ্টা করছেন।কুলাউড়ার চক রণচাপ ও মাদানগর এলাকায় বাধ রক্ষায় স্থানীয় গ্রামবাসী

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ জুন) মনু নদীর পানি বিপদসীমার ১৭৫ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার (১২ জুন) মনু নদীর পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, ‘ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতের আঘাতে প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর স্থাপিত বালির বস্তা ভেসে যেতে শুরু করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ মনু সেতুর উত্তর দিকের গাছের পাইলিংও ভেঙে যাচ্ছে।’

কুলাউড়ার হাজীপুর এলাকার বাসিন্দা ছয়ফুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসীরা বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। হাজীপুর ইউনিয়নে মনু রেল ব্রিজের কাছে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মাতাবপুর, মাদানগর, চক রণচাপ, হাসিমপুর, বাড়ইগাঁও ও মন্দিরাসহ ৬-৭টি এলাকায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।’বিপদসীমার ওপরে পানি

তিনি আরও জানান, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে চক রণচাপ ও মাদানগরে বাঁধ রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন এলাকাবাসী। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবার সাহায্য চাওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় টুকরি, কোদাল নিয়ে বাঁধের ওপর মাঠি ভরাট করে পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন এলাকাবাসী। পানি বাড়তে থাকলে মনু নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।’

অপরদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রবেশ করেছে লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে। এতে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

কমলগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষক আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘মঙ্গলবার ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। আর বুধবার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেভাবে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে ধলাই নদীর পানি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ বলেন, ধলাই নদীর ভাঙনের ফলে ওই গ্রামে আড়াইশ’ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ফেনী:

অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মহুরী নদীর বাঁধের আটটি অংশ ভেঙে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে এই দুই উপজেলার বহু রাস্তাঘাট, ফসলি জামি, বাড়িঘর ও মৎস্য খামার পানিতে তালিয়ে গেছে। ফুলগাজী বাজারে নদীর পানি ঢুকে দোকানপাটের বেশিরভাগ মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।ফেনী-১

বুধবার (১৩ জুন) ভোরে নদীর পানি বিপদসীমার তিন মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধগুলো ভেঙে যায়।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কহিনুর আলম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘নদীর বাঁধের পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দুটি অংশ ও ফুলগাজী উপজেলা সদরের উত্তর দৌলতপুর, ধনিমুড়া, বৈরয়া ও বণিকপাড়া অংশের বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধের ফাটল স্থানে পানির স্রোতের কারণে বাঁধের কাজ করতে পারছেন না তারা।’

তিনি বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে কতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে সে বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে জানার চেষ্টা করছি।’ফেনীতে বিপদসীমার ওপরে মহুরী নদীর পানি

এদিকে ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম জানান, তার উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ দৌলতপুর , ধনিয়া মোড়া, শ্রীপুর, বণিকপাড়া ও উপজেলা সদরের একাংশসহ ১০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ব্যাপক মালামালের ক্ষতি হয়েছে। যারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তাদের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্ট চলছে বলেও জানান উপজেলা চেয়ারম্যান।


আরও পড়ুন- এখনও পাহাড়ে ১৭ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

 

 

 

 

 

/এফএস/

x