তিল ধারণের ঠাঁই নেই লঞ্চে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১২:০৪ , জুন ১৪ , ২০১৮

তিল ধারণের ঠাঁই নেই লঞ্চগুলোতেদক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখী মানুষের পদচারণায় তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। ঘাটে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তেই ভরে যাচ্ছে সব কটি লঞ্চ। যাত্রীদের ভিড়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে লঞ্চগুলো। কেবিন থেকে শুরু করে ডেক, ছাদ এমনকি সিঁড়িতেও বিছানা করে শুয়ে-বসে যাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। বেশিরভাগ লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকা নদীবন্দর ত্যাগ করেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) সকাল থেকেই সদরঘাটে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে যখনই ছাড়ুক না কেন লঞ্চ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ছেন যাত্রীরা। তারা বলছেন, যতই কষ্ট হোক বাড়ি যাচ্ছেন, এতেই আনন্দ।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি পন্টুনেই যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন ও মালামালসহ টার্মিনালে এসেছেন সবাই। কেউ কেউ কেবিন টিকিট না পেয়ে ভোর থেকে টার্মিনালে অবস্থান করছেন।তিল ধারণের ঠাঁই নেই লঞ্চগুলোতে

এদিকে যাত্রী ভরে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি লঞ্চ নির্ধারিত সময়ের আগেই ছেড়ে গেছে। এসব লঞ্চের কিছু যাত্রী কেবিনের অগ্রীম টিকিট নিয়েও লঞ্চ ধরতে পারেননি। তাদের একজন তপন। তিনি হাতিয়াগামী তাসরিফ-২ এ ডাবল কেবিন নিয়েছেন। তপন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লঞ্চটি বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৬টায় ছাড়ার কথা।  সেহরির সময় জানতে পারি লঞ্চ সকাল ৮টায় ছেড়ে যাবে। কিন্তু সেই লঞ্চ ভোর ৬টায় সদর ঘাট ছেড়ে গেছে। এতো আগে লঞ্চ ছাড়বে তা আমাদের বলা হয়নি। ৬টা ২০ মিনিটে এসে লঞ্চ পাইনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাসরিফ-২ এর টিকিট ম্যানেজার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ৮টায় ছাড়বো বলে যাত্রীদের বলে দিয়েছি। কিন্তু ভোরে ঘাটে আসার পরই লঞ্চ যাত্রীতে ভরে গেছে। পরক্ষণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে লঞ্চ ছাড়তে নির্দেশ দেন। পরে ৬টার দিকে লঞ্চ ছেড়ে দেই।’যাত্রীতে ভরে যাওয়ার পরপরই লঞ্চ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে

জানতে চাইলে বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (বন্দর) একেএম আরিফ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সময় মেনে নয়, বরং আমরা কোনও লঞ্চকেই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাত্রা করতে দেই না। লঞ্চ ভরে গেলেই ছেড়ে যেতে বলা হয়।’

তিনি জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। একারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ছাড়ছে। তবে বরিশাল-হাতিয়া রুটে অতিরিক্ত হিসেবে কয়েকটি বড় লঞ্চ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ‘গতকাল বুধবার সদরঘাট থেকে ১১০টার মতো লঞ্চ ছেড়ে গেছে। আজ এর সংখ্যা ১৮০টিতে দাঁড়াতে পারে।’

এদিকে নৌ নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করায় চরফ্যাশন বেতুয়াগামী লঞ্চ এমভি তাসরিফের চালক মনির উদ্দিনকে ১০ হাজার টাকা ও অনাদায়ে এক মাসের জেল দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।তিল ধারণের ঠাঁই নেই লঞ্চগুলোতে

বরগুনাগামী লঞ্চ যুবরাজের টিকিট নিয়েছেন রাজিব চন্দ্র সাহা। তিনি জানান, ‘সকাল ১১টার মধ্যে লঞ্চে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু যানজটকে মাথায় রেখে ঘাটে চলে এসেছি ৯টায়।’

এদিকে সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে তিল পরিমাণ জায়গা না থাকায় অধিকাংশ লঞ্চের ছাদে যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। চরফ্যাশনগামী লঞ্চ পানামা-২ এর যাত্রী মানজুরা খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি। কোনও জায়গা নেই। তাই আপাতত ছাদে বিছানা করেছি।’

ছাদে যাত্রী বহনের বিষয়ে জানতে চাইলে লঞ্চটির ম্যানেজার ওমর ফারুক ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘মানুষ বাড়ি যাবে না? মানুষ যদি ছাদে ওঠে তাহলে আমরা কী করবো? আমরা অনুরোধ করেছি। কিন্তু যাত্রীরা মানছে না।’

ছবি: শাহেদ শফিক।

আরও পড়ুন- 

বিআইডব্লিউটিসি’র ঈদ স্পেশাল সার্ভিস শুরু বুধবার

লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর আগেই শেষ!

ঈদযাত্রায় যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে বরিশাল নদী বন্দর

/এসএস/এফএস/

x