চাপ থাকলেও ভোগান্তি কম ট্রেনে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৩:৪৬ , জুন ১৪ , ২০১৮

কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের চাপ নেইঈদের ঠিক আগে আগে যেমন কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ দেখা যায়, এবার সেরকম চিরচেনা কোনও দৃশ্য নেই কমলাপুরে রেলওয়ে স্টেশনে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রীদের উপস্থিতি কিছু বেশি থাকলেও খুব একটা ভোগান্তি নেই বলে জানিয়েছেন ঘরমুখো মানুষেরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কমলাপুর স্টেশনে ঈদ যাত্রীদের চাপ কম থাকলেও দুপুর থেকে ভিড় বাড়তে থাকে। বিলম্বে থাকা কয়েকটি ট্রেনের অপেক্ষায় থাকায় যাত্রীদের সংখ্যাও বাড়ে। অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা বলছেন, বাড়ি ফেরার অনিশ্চয়তা নেই, সেটিই তাদের কাছে আনন্দের বড় কারণ।

স্টেশন ম্যানেজার ও স্টেশন মাস্টারের দেওয়া তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ২২টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। সারা দিনে মোট ৬৯টি ট্রেন কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ট্রেন ৬৪টি, আর স্পেশাল ট্রেন চলাচল করছে ৫টি। যাত্রীদের চাপে এসব ট্রেনের অনেকগুলোই ২০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করছে। যাত্রীর চাপে রংপুর এক্সপ্রেসের একটি বগির স্প্রিং ভেঙে যাওয়ায় ৫৫ মিনিট লেটে কমলাপুর ছেড়েছে ১০টা ১৫ মিনিটে।ট্রেনে ছাদেও মানুষের চাপ

এছাড়া ধুমকেতু ছাড়ার কথা ছিল  ৫টা ৫৫ মিনিটে, ছেড়েছে ৬টা ৫৫ মিনিটে। সুন্দরবন ছাড়ার কথা ছিল ৬টা ২০ মিনিটে, ছেড়েছে ৭টা ২৫ মিনিটে। লালমনি এক্সপ্রেস ৯টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টায় কমলাপুর এসে পৌঁছায়নি। নীলসাগর সকাল ৮টায় কমলাপুর ছাড়ার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টায় কমলাপুর পৌঁছায়নি।

ট্রেন বিলম্বে ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেশিরভাগ ট্রেনে যাত্রীর চাপ রয়েছে। তাদের ওঠানামার প্রয়োজনে ২০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত লেট হচ্ছে।’

শিডিউল বিপর্যয় রয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিতাংশু বলেন, ‘শিডিউল বিপর্যয় নয়, বিলম্ব। স্প্রিং  ভাঙার কারণে রংপুর এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা ১০ মিনিট বিলম্বে ছেড়েছে। একটি বডি কেটে দিয়ে আরেকটি লাগাতে হয়েছে। এটাকে শিডিউল বিপর্যয় বলা যাবে না।’চাপ থাকলেও ভোগান্তি কম ট্রেনে

নীলসাগর, লালমনি এক্সপ্রেস, ধুমকেতু ও সুন্দরবন দেরিতে যাওয়াকেও শিডিউল বিপর্যয় বলতে চাননি স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশ এবং  স্টেশন মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন খান।

যাত্রীর চাপ খুব বেশি না থাকলেও উত্তারাঞ্চলগামী ট্রেনের ছাদ ছিল যাত্রীতে ভর্তি। তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেই আনন্দে প্রকাশ করছেন। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার জন্য ছাদে যাচ্ছেন বলেও জানান অনেকে।

যাত্রীদের ট্রেনের ছাদে ওঠার বিষয়ে স্টেশন মাস্টার ও স্টেশন ম্যানেজার জানান, কেউ কথা মানছেন না। ‘ঈদের সময় তারা বাড়ি যাচ্ছেন, জোর করেতো নামিয়ে দিতে পারি না’ বললেন স্টেশন ম্যানেজার।

চিলাহাটি থেকে আসা একতা ট্রেনের যাত্রী খোকন কমলাপুর নেমে জানালেন, ‘জয়দেবপুর ও টঙ্গি স্টেশনে মই দিয়ে আগেই ছাদে উঠেছে যাত্রীরা। অর্ধেক যাত্রী ওই দুই স্টেশন থেকে উঠেছে। একতা কমলাপুর থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় ছেড়ে যাওয়ার সময় কথা হয় খোকনের সঙ্গে।এভাবে ঝুঁকি নিয়েই চলছে ট্রেনের ছাদে ওঠার চেষ্টা

নওগাঁর আত্রাই এলাকার লালমনি এক্সপ্রেসের যাত্রী শফিক জানান, ‘ট্রেন সকাল সোয়া ৯টায় আসার কথা ছিল। সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বসে আছি, ট্রেনের কোনও খবর নেই।’

এছাড়া সিলেটগামী জয়ন্তিকাসহ কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ও অন্যান্য সাধারণ ট্রেনও যাত্রীর চাপে ২০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত লেটে চলাচল করতে দেখা গেছে।

তবে স্টেশনে দাঁড়ানো যাত্রী ভর্তি ট্রেনে আসন ছাড়াও লোকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এসি কেবিনেও দাঁড়িয়ে লোক যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সিতাংশু চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জোর করে কাকে নামিয়ে দেবো বলেন?’

লোকাল ট্রেনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

ছবি: এস এম আব্বাস। 

আরও পড়ুন- তিল ধারণের ঠাঁই নেই লঞ্চে

 

/এসএমএ/এফএস/

x