নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রায় আকাশপথ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২২:৪৮ , জুন ১৪ , ২০১৮

 

বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীরাপ্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। ঘরমুখো মানুষের পদভারে মুখরিত বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন  ও  লঞ্চ টার্মিনাল। তবে বিমানবন্দরের চিত্র একটু ভিন্ন। মানুষের ড়িড় থাকলেও নেই হুড়োহুড়ি। বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) কয়েকটি ফ্লাইট ছাড়া বেশিরভাগ ফ্লাইটই যথাসময়ে ছেড়েছে বিভিন্ন গন্তব্যে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে যানজট ও ভোগান্তির শঙ্কায় আকাশপথে যাত্রীর সংখ্যাও বেড়েছে এবার।

এয়ারলাইন্সগুলো জানিয়েছে, বাড়তি চাহিদা মেটাতে নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি ঈদে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। বুধবার থেকেই শুরু হয়েছে  ঈদের বিশেষ ফ্লাইট।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে দেখা গেছে, ঘরমুখী মানুষের ভীড়। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট ধরতে এসেছেন যাত্রীরা। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এয়ারলাইন্সকর্মীরা।  শেষ মুহূর্তেও অনেকে খোঁজ করছেন টিকিটের।

ঢাকা থেকে নভোএয়ারের ফ্লাইটে কক্সবাজারে যাচ্ছেন সাফওয়ান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বাসযাত্রায় দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার শঙ্কা থাকে। এ কারণে বিমানে  কক্সবাজারে যাচ্ছি।  ফ্লাইটও নির্ধারিত সময়ে ছাড়বে বলে জানিয়েছেন এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা।’

ইউএস বাংলার কয়েকটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে ছাড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।  এয়ারলাইন্সটির  ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ফ্লাইটের  টিকিট কেটেছিলেন হাসনাত আলী। তিনি বলেন, ‘প্রায় ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করছি, কিন্তু এখনও ফ্লাইট ছেড়ে যায়নি।’ 

এদিকে  ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস ছিল  ১৪ জুন। রোজা ২৯টি হলে ১৬ জুন কিংবা ৩০টি হলে ১৭ জুন ঈদ হবে। এয়ারলাইন্সগুলো জানিয়েছে, ১৩ থেকে  ১৫ জুনে সব চেয়ে বেশি ফ্লাইট ঢাকা ছেড়ে যাবে। দেশে ৪টি এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার,যশোর,বরিশাল, রাজশাহী, সৈয়দপুর-এ  ৭টি অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে ঈদের সময় সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহী রুটের টিকিটের চাহিদা সব চেয়ে বেশি ছিলো।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নের এএসপি (মিডিয়া) তারিক আহমেদ উস সাদিক জানান,  ‘ঈদ উপলক্ষে বিমানবন্দরে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, ‘নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে মানুষ যেমন যাচ্ছেন, তেমনি দেশের বাইরে থেকেও অনেকে দেশে ফিরছেন। অনেকে ঈদের ছুটি কাটাতে দেশের বাইরেও যাচ্ছেন।  সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে যাত্রীদের বাড়তি চাপ রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে চারটি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এগুলো হচ্ছে  বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার, ইউএস-বাংলাএয়ারলান্স ও রিজেন্টএয়ারওয়েজ। এরমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ সবগুলো রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। অন্যদিকে নভোএয়ার চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, রাজশাহী, যশোর ও সৈয়দপুর—এ ৬টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। রিজেন্ট এয়ারওয়েজ যশোর, সৈয়দপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার-এ—৪টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

 

/সিএ/এমএনএইচ/

x