জনগণ চাইলে নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও সেবার সুযোগ দেবে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৯:১৮ , জুলাই ১২ , ২০১৮



বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাবিরোধী দলসহ সবাই আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ ২০০৮ সালে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিল। আমরা সরকার গঠন করেছিলাম। ২০১৪ সালে শত বাধার মুখেও সবকিছু উপেক্ষা করে তারা ভোট দিয়েছে। আমরা জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। জনগণ যদি মনে করে আওয়ামী লীগকে সেবা করার সুযোগ দিয়ে তারা ভুল করেনি, তাহলে আগামীতেও তারা যদি চায় আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দেবে।’ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিশ্বে যে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছি, সেটা ধরে রেখে এগিয়ে নেবো।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর পিছিয়ে নেই। এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আর কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। বাংলাদেশকে কেউ এখন অবহেলার দৃষ্টিতে দেখতে পারে না। আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্বের সবাই স্বীকার করে বাংলাদেশের উন্নয়নটা স্থায়ী উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে।’

সংরক্ষিত আসনের মেয়াদ ২৫ বছর পুনর্নির্ধারণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেন পঁচিশ বছর পর্যন্ত সময় দিলাম তার সমালোচনা করছেন। তারা আবার নারী আন্দোলন করেন। নারী আন্দোলনও করেন আবার সুযোগও চান। যদি কেউ সরাসরি নির্বাচন করতে চান, সেই সুযোগ তো রয়েছেই। এই সংসদে আমি, বিরোধীদলীয় নেতাসহ ২৩ জন নারী সংসদ সদস্য সরাসরি নির্বাচিত। স্পিকার আপনি নিজেও সরাসরি নির্বাচিত। এই সুযোগ তো কেউ কেড়ে নিচ্ছে না। কাজেই তাদের বলবো তারা যেন আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হন। নির্বাচন করে জনগণের কাছে গিয়ে যেন ভোট চান। তারা নির্বাচন করলে তো সরাসরি ভোটে চলে আসবেন। একটা ভালো কাজ করলেই তা নিয়ে বিভ্রান্ত করা যেন তাদের কাজ। জানি না তাদের উদ্দেশ্য কী?’

খাদ্যে ভেজাল বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছে। তারা খাদ্যে ভেজাল মেশায়। তবে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, যতটা বলা হচ্ছে বাস্তবতা ততটা নয়। এত খারাপ অবস্থা হলে আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পাওয়াটা সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখন চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। আমরা বিদেশ থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি করছি। ৯৩ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছে। শিগগিরই শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাবে।’
বিদেশে চিকিৎসায় যাওয়ার প্রবণতা প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন, ‘বিদেশে চিকিৎসায় যাওয়াটা এখন ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের একটু হাঁচি-কাশি হলেই বিদেশ যায়।’ তিনি বলেন, ‘সবকিছু আমরা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছি। জেনারেল এরশাদকেও একটি ব্যাংক দিয়েছি। সেখানে অনেকেরই কর্মসংস্থান হচ্ছে।’
১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য আজ বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সমাদৃত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই সাধুবাদ দিয়ে যাচ্ছে। তারা বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।’
চলমান সংসদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হতো, যার জন্য জাতির কাছে বিব্রত হতাম। কিন্তু এবারের সংসদে এ ধরনের অশালীন ঘটনা ঘটেনি। অবান্তর কথাবার্তা হয়নি। একটি ভদ্র ও সুন্দর পরিবেশে সংসদ পরিচালিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক চর্চায় যেটা হয়, এবারের সংসদে সেটাই হয়েছে। জাতির কাছে এবারের সংসদের আস্থা ফিরে এসেছে।’

/ইএইচএস/এমএনএইচ/চেক-এমওএফ/

x