সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে কৃষিখাত

আবু সিদ্দিকী ১৯:৪৮ , জুলাই ১২ , ২০১৮

 



ধান চাষাবাদে ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রপাতি, ছবি- সৈয়দ জাকির হোসেন

২০১১ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের বার্ষিক জন্মহার ১.৩৭ শতাংশ। এছাড়া, গত ১০ বছরে কৃষিখাত এগিয়েছে ৩.৮ শতাংশ। আবাদী জমির পরিমাণ কমে গেলেও কৃষিপণ্য উৎপাদন কমেনি। বরং সরকারের সময়োপযোগী নীতি  ও পদক্ষেপের কারণেই এই ইতিবাচক ফলাফল অক্ষুণ্ন রেখেছে বাংলাদেশ।গত ৯ বছরে প্রতি হেক্টরে ফসল উৎপাদন তিন হাজার ৭৬১ কেজি থেকে বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৬২৯ কেজিতে। খাদ্যশস্য উৎপাদন ৩৪ দশমিক ৭১ মিলিয়ন টন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন টনে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, ‌‘সরকারের সময়োপোগী কৃষিবান্ধব নীতি ও পদক্ষেপের কারণেই এই উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমন নীতি ও পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় গবেষণা খাতে আরও সহায়তা দিলে টেকসই উৎপাদন সম্ভব।’ সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সরবরাহ করতে কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া, কৃষি ও সেচের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও কৃষিখাতে পুনর্বাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই খাতকে আরও বড় করার চেষ্টা করেছে সরকার। বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘এই পদক্ষেপকে আরও সফল করতে আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দক্ষতা বাড়াবো।’




মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষকরা যেন সরাসরি নগদ টাকা পায় এবং সুফল পায় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করারও পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। কৃষকদের এজন্য কার্ড বিতরণ ও অন্যান্য সেবা দিয়েছে তারা, ছিল প্রশিক্ষণও।
কৃষিবান্ধব এসব পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে সরকার এই খাতে বছরে ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়া, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে পরিবেশবান্ধব বীজ উৎপাদন ও কৃষিকাজে জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমরা গবেষণা ও পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন বীজ ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছি।’
রাষ্ট্র পরিচালিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি ইনস্টিটিউট (বিনা) ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিরি) সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে বিভিন্ন নতুন প্রজাতির শস্য উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে অনেকগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও নষ্ট হয় না। লবণ, ক্ষরা ও দুর্যোগ প্রতিরোধক ধান আবিষ্কার করেছে বিরি, কৃষকদের মধ্যে যা বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সামনের অর্থবছরে সরকারের লক্ষ্য আরও নতুন ২২টি ধান ও ২১ ধরনের প্রযুক্তির উদ্ভাবন। এছাড়া, দুর্যোগ প্রতিরোধক ও পরিবেশবান্ধব পাট ও বিভিন্ন ধরনের পাটজাত দ্রব্য উৎপাদনে ব্যাপকহারে গবেষণা চলছে।’

এছাড়া, কেমিক্যালযুক্ত সারের ব্যবহার কমানো ও জমির উর্বরতা বাড়াতে জৈব সার ব্যবহারে সবাইকে সচেতন করা ও শস্যের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সার কারখানা ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও আধুনিকায়নে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

কৃষিখাতের বাইরে মৎস্য শিল্পেও গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০১৬ সালের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ মুক্ত পানিতে মাছ চাষে বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে আছে। আর আবদ্ধ পানিতে মাছ চাষে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

 

 

/এমএইচ/ এপিএইচ/

x