নকল হিজড়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় আসলরা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২৩:১৬ , আগস্ট ১০ , ২০১৮

হিজড়া (ফাইল ছবি)রাজধানীতে বাসে চাঁদা তোলা নকল হিজড়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে হিজড়াদের একটি প্রতিনিধি দল। শুক্রবার (১০ আগস্ট) সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের তেজগাঁওয়ের মনিপুরী এলাকার বাসায় হিজড়াদের ৪০ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এই অনুরোধ জানান। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন হাজী বকুল হিজড়া। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেন, ‘এবিষয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’

শিখা হিজড়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বাসে বাসে, সিগন্যালে এবং কোনও পরিবহনে টাকা তুলি না। কিন্তু মাথায় নকল চুল লাগায়ে, মেকআপ করে একটা শ্রেণির লোক ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গাড়িতে উঠে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। তারা আসলে হিজড়া না। তারা হিজড়া সেজে এসব করে। এর দুর্নাম আমাদের সইতে হয়। পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় আমাদের হয়রানি করে। তাই বিষয়টি আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি।’

শিখা হিজড়া আরও বলেন, ‘আমাদের আদি পেশা মানুষের বাসাবাড়িতে গানবাজনা করা, বিয়ে বা বাচ্চা হলে সেখানে গিয়ে গিয়ে গানবাজনা করি। এরপর মানুষ সামর্থ অনুযায়ী আমাদের বকশিস দেয়। এছাড়া বাজারের দোকান থেকে ৫-১০ টাকা বকশিস নিই। কিন্তু এভাবে সিগন্যালে গাড়ি আটকে যাত্রীর কাছ থেকে চাঁদা তুলি না। এসব নকল হিজড়ারা করে। আমরা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করছেন, ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়াও আমাদের চাকরির বিষয়ে কথা বলেছি। যাতে আমরা চাকরি পাই। কারণ আমাদের কোনও সন্তান নেই। বুড়ো হলে আমাদের দেখার কেউ নেই। আমাদের চাকরি হলে ভালো হয়। মন্ত্রী এবিষয়েও আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় একঘন্টা বৈঠক করেন হিজড়াদের প্রতিনিধি দলটি। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘হিজড়া সেজে যারা চাঁদাবাজি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন হিজড়ারা। আসল হিজড়া সম্প্রদায় চাঁদাবাজি করে না বলেও তারা জানিয়েছেন। তবে নবজাতকের জন্মের পর বাড়ি থেকে বকশিস নেওয়ার বিষয়টি তারা আপাতত ছাড়তে পারবেন না।’

হিজড়াদের জন্য পরিকল্পনা অনুযায় সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের জন্য আমরা একটা রূপরেখা করেছি। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে আমাদের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিজড়াদের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ দেওয়ার কথা বললে হিজড়ারা সরকারি চাকরির আবদার করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসার সামনে পাঁচশতাধিক হিজড়ার জড়ো হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠক দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

মারজান নামে একজন হিজড়া জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিজড়াদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এরপর হিজড়া প্রতিনিধি দলটি মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

হিজাদের নিয়ে সরকারি উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় আছে। তারা কাজ করছে। বিভিন্ন উদ্যোগ তাদের রয়েছে। সব বিষয় আমার সম্পূর্ণ জানা নেই।’

হিজড়ারা বিভিন্ন বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা করবেন উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তারা আমাদের বলে গেলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তারা আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। তাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে উপস্থিতি দেখতে পাচ্ছি। আমি সেই ব্যাপারটি নিয়ে কথা বলছিলাম। তারাও এ ব্যাপারে একমত হয়ে আমাদের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বলেছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হিজড়ারা আমাদেরই সন্তান। তাদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ হচ্ছে। তারা যাতে নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যত জীবন গড়তে পারে সেজন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আসার পর রাজধানীর বিজয়সরণি এলাকার সিগন্যালে বাসে চাঁদা তোলার সময় তিন হিজড়াকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে তারা। এসময় ওই তিন হিজড়া ক্ষমা চেয়ে তাদের কাছ থেকে ছাড়া পায়। আগামীতে আর কখনও গাড়ি ও সিগন্যালে দাঁড়িয়ে এভাবে চাঁদা তুলবে না বলেও জানান তারা। এরপর ওই তিন হিজড়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

/এআরআর/আইএ/

x