কোন মন্ত্রীর ভ্রমণ ব্যয় কত

সঞ্চিতা সীতু ২৩:৩০ , সেপ্টেম্বর ১৪ , ২০১৮

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের ৩৭ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর ভ্রমণব্যয় বাবদ ছয় কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রীর জন্য। এ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২ লাখ টাকা। অন্যদিকে  সবচেয়ে কম বরাদ্দের তালিকায় আছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের। এসব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য ভ্রমণ বাবদ চার লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মোর্শেদা ফেরদৌসের সই করা এক চিঠিতে এই ছয় কোটি ৩০ লাখ টাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিভাজনের কথা জানানো হয়েছে।

মন্ত্রীদের বিদেশ ভ্রমণ বাবদ বছরে কত খরচ হয়— সাধারণ মানুষের এ বিষয়ে এক ধরনের আগ্রহ আছে। তবে সাধারণত এসব বিষয় সচরাচর আলোচনায় আসে না।

মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই ভ্রমণ ব্যয় সরকারের পক্ষ থেকে মেটানো হবে। তবে অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রীরা বিদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আমন্ত্রণকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা বিভিন্ন দেশের সরকার ভ্রমণব্যয় বহন করে। এছাড়াও সরকারি ভ্রমণ ব্যয়ের বাইরে দেশের বিভিন্ন সংস্থার খরচেও মন্ত্রীরা বিদেশ ভ্রমণ করেন। এক্ষেত্রে ওইসব সংস্থা খরচ বহন করে।

ছয় কোটি ৩০ লাখ টাকার মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৮ লাখ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু ১৭ লাখ ৫০ হাজার, যুব ও ক্রীড়া ১৭ লাখ ৫০ হাজার, শিল্প ১৭ লাখ,  স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ১৭ লাখ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৬ লাখ ৫০ হাজার, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ১৬ লাখ ৫০ হাজার, শ্রম ও কর্মসংস্থান ১৬ লাখ, পরিকল্পনা ১৫ লাখ ৫০ হাজার, পানিসম্পদ ১৩ লাখ ৫০ হাজার, মহিলা ও শিশু ১৩ লাখ, শিক্ষা ১৩ লাখ, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের ভ্রমণের জন্য ১৩ লাখ টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয় ১২ লাখ, জনপ্রশাসন ১১ লাখ ৫০ হাজার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ১১ লাখ ৫০ হাজার,  বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন ১১ লাখ ৫০ হাজার, সড়ক পরিবহন ও সেতু ১১ লাখ, ভূমি ১০ লাখ ৫০ হাজার,  বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ ৯ লাখ ৫০ হাজার, খাদ্য ৯ লাখ ৫০ হাজার, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি ৯ লাখ ৫০ হাজার, তথ্য ৯ লাখ ৫০ হাজার, ধর্ম ৯ লাখ ৫০ হাজার, সমাজকল্যাণ ৭ লাখ ৫০ হাজার, স্বরাষ্ট্র ৭ লাখ ৫০ হাজার,  পার্বত্য চট্টগ্রাম ৭ লাখ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ ৬ লাখ ৫০ হাজার, নৌ পরিবহন ৬ লাখ ৫০ হাজার, বস্ত্র ও পাট ৫ লাখ ৫০ হাজার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫ লাখ ৫০ হাজার, রেলপথ ৪ লাখ ৫০ হাজার এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া পরবর্তীতে বরাদ্দ দিতে হতে পারে—  সে বিবেচনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আরও দুই কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, বরাদ্দকৃত অর্থ  অন্য কোনও খাতে ব্যবহার করা যাবে না। বরাদ্দের বাইরে অর্থের প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রস্তাব করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাঠাতে হবে। 

এ বিষয়ে সাবেক বিমান ও পর্যটন সচিব শফিক আলম মেহেদী জানান, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য এই বরাদ্দ প্রতিবছরই দেওয়া হয়। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ভ্রমণের ক্ষেত্রে যদি অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দিয়ে তা জানালে সেই বাড়তি অর্থও তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় দেশের বাইরে থেকে আমন্ত্রণপত্র আসে। সেই আমন্ত্রণের ভিত্তিতে দেশগুলো তাদেরই খরচে বিদেশে নিয়ে যায়। এটি একেবারেই সেই দেশের বা সেই প্রতিষ্ঠানেরই খরচ। এই খরচ সরকারি খরচের সঙ্গে যুক্ত হয় না।’

/এইচআই/

x