ভোটের আগে ধর্মঘটে যাচ্ছেন না শ্রমিকরা

শাহেদ শফিক ২০:৪৮ , নভেম্বর ০৮ , ২০১৮

ঠাকুরগাঁওয়ে একজন রিকশাচালকের মুখে পোড়া মোবিল মেখে দেন পরিবহন শ্রমিকরাআট দফা দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন শেষে সরকারকে ২১ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে আবারও ৯৬ ঘণ্টা ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সংগঠনটি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আপাতত আর আন্দোলনে যেতে চাইছেন না পরিবহন নেতারা। তারা বলছেন, সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। দাবি বাস্তবায়নে সরকার তাদের আশ্বস্তও করেছে। তাদের মতে, এই মুহূর্তে আন্দোলন করলে সরকার বেকায়দায় পড়বে। তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলে কিছু করতে চান না। তাই আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন তারা।

এরআগে, গত ২৮ ও ২৯ অক্টোবর টানা ৪৮ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘট পালন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী ২১ দিনের সময় দিয়ে সরকারকে নোটিশ দেওয়ার ঘোষণা দেন। ওই সময়ের মধ্যে যদি কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয় তাহলে পরবর্তী সময়ে টানা ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে গত ৩ নভেম্বর শনিবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে নোটিশ দেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের। কিন্তু পরে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সংগঠনটি।

রেহাই পায়নি অ্যাম্বুলেন্সও

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সড়ক দুর্ঘটনায় সব মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে। শ্রমিকদের অর্থদণ্ড পাঁচ লাখ টাকা করা যাবে না। সড়ক দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে ইত্যাদি।

তবে ধর্মঘট চলার সময় সাধারণ যাত্রী, বিভিন্ন প্রাইভেটকার চালক, মোটরসাইকেল চালক ও শিক্ষার্থীদের গায়ে-মুখে পোড়া মবিল মেখে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের কান ধরে ওঠবোস করানোর মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগই শ্রমিক ফেডারেশনের ইউনিয়ন কার্যালয় ও তার আশপাশে তাদের নির্দেশনায় ঘটার অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েন আন্দোলনের উদ্যোক্তারা। এজন্য সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গত ৬ নভেম্বর ফেড়ারেশনের বর্ধিত সভা করা হয়। সভায় ধর্মঘট পালন না করাসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে—সারা দেশের জেলা প্রেসক্লাবগুলোয় জেলা পর্যায়ের সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাসহ সব টার্মিনালে আলোচনাসভা করা হবে। আলোচনার মাধ্যমে তাদের ‘যৌক্তিক’ দাবিগুলো জানানো হবে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের দাবির পক্ষ্যে জনমত গঠন করবে। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গেও আলোচনা চলবে।

ফেড়ারেশন সূত্র জানায়—শ্রমিকদের নেতৃত্বদানকারী এই সংগঠনটির বিভিন্ন নেতাদের বিষয়ে সরকারবিরোধী বিএনপি-জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে ওই নেতারা সব সময় শ্রমিকদের ব্যবহার করে সরকারকে নানাভাবে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করে, সে কারণে আপাতত নির্বাচনের আগে কোনও আন্দোলনে যেতে আগ্রহী নয় শ্রমিক ফেড়ারেশন।

শ্রমিকদের নৈরাজ্যের শিকার কলেজছাত্রী

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের অধিকাংশ নেতাই বিএনপি জামায়াতের। তারা শ্রমিকদের ব্যবহার করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়।’ তিনি তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচিতে কোনও ভাঙচুর করার কথা বলা হয়নি। কেন এমনটা ঘটেছে, তা বলতে পারছি না। তবে এটা বলতে পারি এর সঙ্গে আন্দোলনের বিরোধীরা জড়িত ছিল। আমরা কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছি। দুই জনকে বহিষ্কার করেছি। তাদের পুলিশ গ্রেফতার করে বিজ্ঞাসাবাদ করলেই জড়িতদের নাম বেরিয়ে আসবে।’

ফেড়ারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন চলছে। তবে ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি নয়। আমরা জেলা পর্যায়ের সাংবাদিক থেকে শুরু করে সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবো। দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবো। আগামী নির্বাচনের আগে আমরা আপাতত এমন কর্মসূচি দিয়ে জনগণকে ভোগাতে চাই না। সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তারা দাবির বিষয়ে পজেটিভ। গতকাল বুধবারও আমাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশেষ কাজে আর বৈঠকটি হয়নি।’ পরবর্তী সময়ে আবার হবে বলেও তিনি জানান।

 

/এমএনএইচ/

x