চার আসনে প্রার্থী শূন্যতা কাটলো বিএনপির

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২৩:২১ , ডিসেম্বর ০৬ , ২০১৮

বিএনপিচারটি আসনে বিএনপির প্রার্থী শূন্যতা কেটেছে। মনোনয়নয়পত্র বাতিলে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে প্রথমদিনে বিএনপির ৬১ জনের মধ্যে প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন ৩৮ জন। এরমধ্যে চারটি আসন রয়েছে, যেখানে রিটার্নিং অফিসারের বাছাইয়ে দলটির প্রার্থী শূন্য হয়ে পড়েছিল। আপিলের পক্ষে রায় আসার ফলে এখন এসব আসনে তাদের প্রার্থিতার শূন্যতা কেটে গেলো।
আসনগুলো হলো: ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক, জামালপুর-৪ আসনে মো. ফরিদুল কবির তালুকদার (শামীম), বগুড়া-৭ আসনে মোরশেদ মিল্টন, মানিকগঞ্জ ২ আসনে মো. আবিদুর রহমান খান।
বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) আপিল শুনানির প্রথম দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে এসব প্রার্থীরা স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদ থেকে পদত্যাগ করলেও তা গৃহীত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে রিটার্নিং অফিসাররা তাদের প্রার্থিতা বাতিল করেছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সরকার মিল্টন ও সরকার বাদল এই তিন জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এদের মধ্যে খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত ছিল, তিনি দুই বছরের অধিক সময় সাজাপ্রাপ্ত। আর বাদল উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। অন্যদিকে মোরশেদ মিল্টন পদত্যাগপত্র দাখিল করলেও দাখিল গ্রহণ হয়েছে মর্মে কোনও প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি। তাই তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

আর জামালপুর-৪ আসনে বিএনপির একজন প্রার্থীই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তার ক্ষেত্রেও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি পায়নি বলে রিটার্নিং অফিসার সিদ্ধান্ত দেন।

মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির দুই জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এদের মধ্যে মঈনুল ইসলাম খানের (শান্ত) বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তার দলীয় মনোনয়নে মহাসচিবের স্বাক্ষরের সঙ্গে নমুনা স্বাক্ষরের মিল নেই। তার বিষয়টি আপিলের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে রিটার্নিং অফিসার বাতিল করা আবিদুর রহমান খানের প্রার্থিতা বৃহস্পতিবার আপিলে ফেরত এসেছে।

ঢাকা-১ আসনে বিএনপির দুই জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এদের মধ্যে আপিলে খন্দকার আবু আশফাক তার প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন। অন্যদের মতো আশফাকেরও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে পদত্যাগপত্র কার্যকর না হওয়ার কারণে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ আসনের আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা ও দলীয় মনোনয়নপত্র যথাযথ না হওয়ায় প্রার্থিতা বাতিল হওয়া বিএনপির অপর প্রার্থী ফাহমিদা হোসাইন জুবলির আপিল অপেক্ষমাণ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিইসির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন যেসব দিক বিবেচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তার আলোকে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন আগামী দুই দিনের শুনানিতে বিএনপির শূন্য আসনে আরও একাধিক প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফেরত পেতে পারেন।

উল্লেখ্য, সংসদীয় ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি মোট ২৯৫ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। পাঁচটি আসনে দলটি কোনও প্রার্থী দেয়নি। যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় আরও ৭টি আসনে প্রার্থিতা শূন্য হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপির ৩৮জন

/ইএইচএস/এনআই/

x