ওমরাহ যাত্রীরাও প্রাক নিবন্ধন ও নিবন্ধনের আওতায় আসছেন

জামাল উদ্দিন ২২:৫৯ , ফেব্রুয়ারি ১১ , ২০১৯


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
হজ যাত্রীদের ন্যায় ওমরাহ যাত্রীদেরও প্রাক নিবন্ধন ও নিবন্ধনের আওতায় আনছে সরকার। এ জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের জাতীয় হজ এবং ওমরাহ নীতির সংশোধিত প্রস্তাবনাটির অনুমোদন দিয়েছে সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটি। সংশোধনীতে ৮৬টি অনুচ্ছেদ, উপ অনুচ্ছেদ সংশোধন, সংযোজন ও পুনরায় লেখা হয়েছে।
জাতীয় হজ এবং ওমরাহ নীতিতে উল্লেখযোগ্য সংশোধন ও সংযোজনগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশি হজযাত্রীর সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন দলের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত সরকারি কর্মচারী, এজেন্সি, মালিক, মোনাজ্জেম ও অনুমোদিত ব্যক্তিদের জন্য স্টিকার ভিসা বা দীর্ঘ মেয়াদি হজ সার্ভিস ভিসার বিষয়টি সংযোজিত হয়েছে। সৌদি আরবে পাঠানো হজ প্রশাসনিক দল, চিকিৎসক দল ও অন্যান্য দলে অন্তর্ভুক্ত সরকারি কর্মচারীদের পারফরম্যান্স বিষয়ে গোপনীয় মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিলের ব্যবস্থা থাকবে। এই প্রতিবেদনের আলোকে বিভাগীয় মামলার সুপারিশের বিষয়টিও এই নীতিমালায় সংযোজন করা হয়েছে।
সৌদি আরবের মিনা, আরাফাত ও মুজদালেফায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের বিষয়টিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের জন্য সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ বাবদ অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতে আইবিএএন (ইন্টান্যাশনাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার ভেলিডেশন) এ পাঠানোর বিষয়টিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে শুধুমাত্র হজ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী আড়াই থেকে তিন হাজার হজযাত্রীর জন্য একজন হিসেবে আনুপাতিক হারে প্রশাসনিক দল পাঠানোর বিষয়টিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে হজ গাইড নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে ইতোপূর্বে হজ করেছেন এমন ব্যক্তিদের থেকে ৫০ ভাগ গাইড নিয়োগ এবং অবশিষ্ট ৫০ ভাগ গাইড সৌদি আরব থেকে নিয়োগ করার বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 
হজ চিকিৎক দলে মেডিসিন ও জেনারেল প্র্যাকটিশনার বিশেষ করে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, ডেন্টাল, নাক-কান ও গলা, ইউরোলোজিস্ট, এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, অর্থোপেডিকস, মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের অগ্রাধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মাধ্যমে হজ যাত্রীদের পাসপোর্টের সঠিক তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও সিদ্ধান্ত হয়েছে বিমান ভাড়া বাবদ জমা করা অর্থ সরাসরি এয়ারলাইন্স বরাবর পে অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা ছাড়া অন্যভাবে ব্যয় করা যাবে না। এছাড়া যেকোনও বৈধ ওমরাহ এজেন্সির ক্ষেত্রে প্রতিবছর ৫শ’ থেকে এক হাজার জন ওমরাহ যাত্রী পাঠানোর বিষয়টি নীতিমালায় সংযোজন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ বিষয়ে হজ বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পাদিত দ্বি-পাক্ষিক হজ চুক্তি ও সৌদি সরকার নতুন নিয়ম করেছে। এ জন্য হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর সুষ্ঠু ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে বাস্তবতার নিরীখে বর্তমান নীতিমালাটির কিছু বিষয় সংশোধন করা হয়েছে।

/জেইউ/টিএন/

x