মুজিব বর্ষের কর্মসূচি জাঁকজমকে পালনের সিদ্ধান্ত

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২১:২৯ , এপ্রিল ১৯ , ২০১৯

দলীয় সভায় বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: ফোকাস বাংলা

বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঘোষিত মুজিব বর্ষ জাঁকজমক করে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। তৃণমূল পর্যন্ত মুজিব বর্ষের কর্মসূচি ছড়িতে দিতে জাতীয় কমিটির পাশাপাশি মহানগরগুলোতেও উদযাপন কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকালে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপত্বি করেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলীয় সূত্র জানায়, সভায় বলা হয়েছে— বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সরকার ঘোষিত মুজিব বর্ষের কর্মসূচি তৃণমূল পর্যন্ত উদযাপন করতে হবে। সর্বস্তরের মানুষকেও সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত করতে হবে। এজন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। মহানগরগুলোতে জনসংখ্যা বেশি, এ কারণে মহানগরগুলোতেও আলাদাভাবে কমিটি গঠন করতে হবে। সারাদেশে জেলা, উপজেলাসহ তৃণমূল পর্যায়ে মুজিব বর্ষ ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে হবে।

সূত্র আরও  জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ সময় তৃণমূলের সংগঠনকে শক্তিশালী করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে, দল কোনও বিপর্যয়ে পড়লে তৃণমূলই দলকে রক্ষা করে। এ কারণে তৃণমূলকে সব সময় সংগঠিত রাখতে হবে। কোথায় কোথায় সাংগঠনিক অবস্থা কী, সে বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। যেসব জায়াগায কমিটি নেই বা মেয়াদ উত্তীর্ণ, সেসব জায়গায় সম্মেলন করে নতুন কমিটি করতে হবে।’
এদিকে, তৃণমূলে সফরের জন্য গঠিত আটটি টিমের সফর কর্মসূচি সংসদের আসন্ন অধিবেশনের পর নির্ধারণ করার কথা বলা হয়। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সামনে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। এসময় সংসদ সদস্যরা এলাকায় থাকতে পারবেন না। তাই পরবর্তীতে দিন তারিখ ঠিক করে আট বিভাগের সাংগঠনিক টিম সফর করবে।’

উল্লেখ্য, আগামী ২৪ এপ্রিল সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হবে। এ অধিবেশন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হওয়ার কথা রয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সভায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোস দুজন নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দলের একজন সভাপতিমণ্ডলী সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের আরেকজন সদস্যের নাম উল্লেখ করে বলেন— ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এর প্রতিবাদে স্বাক্ষর আনতে গেলে এই উপদেষ্টা স্বাক্ষর দেননি। আর সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন।’

জানা গেছে, মুকুল  বোসের ওই মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী কারো নাম উল্লেখ না করে ওয়ান ইলেভেনের সময়কার কিছু নেতার ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের পর কার ভূমিকা কী ছিল, সেটাও তো আমি জানি। তারা আমার আশপাশেই রয়েছেন। এত কিছুর পরও দলটাকে ক্ষমতায় আনতে পেরেছি, সেটাই বড় কথা।

প্রসঙ্গত, ওয়ান ইলেভেনের সময় যেসব নেতাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শেখ হাসিনার বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছিল, তাদের মধ্যে মুকুল বোসও ছিলেন। এ কারণে ২০০৯ সালের সম্মেলনে তিনি দলীয় পদ থেকে বাদ পড়েন। পরে ২০১৬ সালের সম্মেলনের পর তাকে উপদেষ্টা পরিষদে স্থান দেওয়া হয়।

 

 

/ইএইচএস/এপিএইচ/

x