বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনার ত্রুটিও খুঁজছে তদন্ত কমিটি

চৌধুরী আকবর হোসেন ২২:০২ , জুন ১০ , ২০১৯




ইমিগ্রেশন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় কোনও ত্রুটি আছে কিনা, তাও অনুসন্ধান করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি দু’টি। ইতোমধ্যে বিমানবন্দর পরির্দশন ও ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন কমিটির সদস্যরা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাইলটের পাসপোর্ট ছাড়া কাতারযাত্রার ঘটনা অনুসন্ধানের পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা শনাক্তসহ সুপারিশ তুলে ধরা হবে প্রতিবেদনে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পাসপোর্ট ছাড়াই পাইলটের কাতারযাত্রার ঘটনা অনুসন্ধানে ৭ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ পৃথক দুটি কমিটি করে। ইতোমধ্যে কমিটি দুটি কাজ শুরু করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গঠিত কমিটি পাইলট ও ইমিগ্রেশন পুলিশের সাময়িক বরখাস্ত সাব ইনস্পেক্টরকে জিঙ্গাসাবাদ করেছে। দুই কমিটি বিমানবন্দরের ঘটনার দিনের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। এছাড়া, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছে দুই কমিটি।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে কড়াকড়ি করতে বলেছেন। ত্রিদেশীয় সফর নিয়ে রবিবার (৯ জুন) বিকাল ৫টায় গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘আমি কিন্তু এখন ইমিগ্রেশনে কড়াকড়ি করতে বলেছি। আমাদের সবাই তো ভিআইপি! তারপর ভিভিআইপি, তারপর আরও ‘ভি’ লাগবে। যত ‘ভি’-ই থাকুক, কাউকে ছাড়া হবে না। প্রত্যেকের পাসপোর্টে সিল মারা আছে কিনা, চেকটা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, সব ব্যবস্থা করতে হবে। আত্মীয়-স্বজনকে সি-অফ করতে গেলেও বিমানবন্দরে টিকিট করে যেতে হবে। সেখানেও একটু কড়াকড়ি করতে হবে।’’

পাইলটের পাসপোর্ট ছাড়া কাতরযাত্রা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো পাসপোর্ট (সঙ্গে নিয়ে যেতে) ভুলে যেতে পারে, এটা কোনও ব্যাপার না। তবে এখানে ইমিগ্রেশনের নজর থাকতে হবে। আমি বলেছি ব্যবস্থা নিতে। ইমিগ্রেশনে কারা ছিল, কেন দেখেনি?’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগম, সদস্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (বহিরাগমন-৪) মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী। কমিটির সদস্য সচিব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব (রাজনৈতিক-১) মো. জাহাঙ্গীর আলম।।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রবিবার পাইলট ও ইমিগ্রেশন পুলিশের সদ্যসের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা দুজনই তাদের বক্তব্য কমিটিকে জানিয়েছেন। সেদিনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে। পাইলট কীভাবে পাসপোর্ট ছাড়া বিমানবন্দর ত্যাগ করলেন, সেটি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তবে একইসঙ্গে শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় কোনও ত্রুটি থাকলে সেটিও উঠে আসবে তদন্ত প্রতিবেদনে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কমিটি কাজ শুরু করেছে। আশা করছি তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে। ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনের পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করবো বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরতেও।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে। এ কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সভাপতি সুরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নিরাপত্তা ও বহিরাগমন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ আজহারুল হক, সদস্য সচিব যুগ্ম সচিব (বহিরাগমন-৪) হেলাল মাহমুদ শরীফ, সদস্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সেলিনা বানু ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম।

কমিটির সভাপতি সুরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নিরাপত্তা ও বহিরাগমন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ আজহারুল হক বলেন, ‘আমরা তদন্ত কাজ শুরু করেছি। এখনই কোনও কিছু চূড়ান্তভাবে বলার সময় হয়নি। আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থাও আমনা খতিয়ে দেখছি।’ ভবিষতে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

/এমএনএইচ/

x