ঢাকায় বহুমাধ্যমভিত্তিক সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন: বিআইপি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২৩:২৯ , জুলাই ১১ , ২০১৯

বিআইপির সংবাদ সম্মেলন

নগর পরিবহন ব্যবস্থায় রিকশার অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দিয়ে তার ভূমিকাকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংস্থাটি বলেছে ঢাকা শহরের জন্য রিকশাসহ বহুমাধ্যম ভিত্তিক সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ওয়ার্ড অথবা এলাকাভিত্তিক সকল প্রকার যানবাহনের জন্য স্থানীয় যোগাযোগ পরিকল্পনা (লোকাল ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান), স্থানীয় যানবাহন চলাচল পরিকল্পনা (লোকাল মোবিলিটি প্লান) তৈরি করা এবং পরিকল্পনা প্রণয়নে জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করা দরকার।

বৃহস্পতিবার নগর পরিকল্পনাবিদদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) নিজস্ব কার্যালয়ে ‘ঢাকা শহরে রিকশা ও অযান্ত্রিক বাহনের চলাচল সম্পর্কে নগর পরিকল্পনার দৃষ্টিকোণ থেকে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনাবিদরা এ মতামত দেন।

বিআইপি’র সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. এ কে এম আবুল কালামের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বিআইপি’র সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান সংগঠনের পক্ষ থেকে সুপারিশমালা তুলে ধরেন।

ড. আদিল বলেন, সীমিত বসবাসযোগ্য ভূমি, সীমিত অবকাঠামো এবং অপ্রতুল নাগরিক-সুবিধার এই শহরে অতিরিক্ত জনসংখ্যা  পরিবহনব্যবস্থার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে। নগর পরিবহনের ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে পরিকল্পনার অভাব ও স্বল্পমেয়াদি বিচ্ছিন্ন চিন্তার বাস্তবায়নের ফলে পরিবহন ব্যয়, সময় ও মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবনে যাতায়াতের অন্যতম বাহন হচ্ছে রিকশা। কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) অনুসারে, ঢাকার দৈনিক ট্রিপের প্রায় ৪০ শতাংশ রিকশায় সম্পন্ন হয়। সম্প্রতি ৭ জুলাই থেকে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ধীরগতির রিকশাকে চিহ্নিত করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। যদিও ঢাকা শহরের যানজটের জন্য অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থা, সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য, অবৈধ পার্কিং, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ বহুবিধ কারণ রয়েছে। ফলশ্রুতিতে নগরীর টেকসই উন্নয়নের জন্য বহুমাধ্যম ভিত্তিক সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রণয়ন করা দরকার।

আদিল মুহাম্মদ খান আরও বলেন, শহরের রাস্তার সক্ষমতা বিবেচনা করে রিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির পরিমাণ ও ব্যবহার সুনির্দিষ্ট করা, সড়ক থেকে পর্যায়ক্রমে অবৈধ রিকশা তুলে দিয়ে নগরের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক রিকশার লাইসেন্স দেওয়া, সড়কে রিকশার জন্য নির্ধারিত লেন, বাইলেন, সার্ভিস লেন তৈরি করার সঙ্গে সঙ্গে পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ‘অযান্ত্রিক যানবাহন সার্কুলেশন পরিকল্পনা’ তৈরি করতে হবে।’

সম্মেলনে পুরো শহরের জন্য জোনভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করার প্রস্তাবনা দেয় বিআইপি। নগরে পর্যাপ্ত বাস নামিয়ে উন্নত বাস সার্ভিস চালু, চক্রাকার বাস সার্ভিসের মতো সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য মানসম্মত কমিউনিটি ভিত্তিক প্যারা-ট্রানজিট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

এছাড়াও হাঁটবার জন্য মানসম্মত ও নিরবিচ্ছিন্ন ফুটপাথ নিশ্চিত করা আশু দরকার বলে মনে করে বিআইপি।

 

/এসএস/টিএন/

x